img

লন্ডনে বর্ণাঢ্য ‘ক্যামডেন পিঠা মেলা-২০২৬’ সম্পন্ন

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ০৪ জুন ২০২৬

লন্ডনে বর্ণাঢ্য ‘ক্যামডেন পিঠা মেলা-২০২৬’ সম্পন্ন

বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রবাসে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বেঙ্গলি আর্টস অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-এর উদ্যোগে লন্ডনের ক্যামডেন বরোর হার্ভাট স্ট্রিটে অবস্থিত থ্যানেট হলে ৩১ জুন রোববার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘ক্যামডেন পিঠা মেলা ২০২৬’। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যামডেনের মেয়র কাউন্সিলর প্যাট্রিসিয়া লেম্যান, কাউন্সিলর কেমি অ্যাটোলাগবে, অনুপম নিউজ সম্পাদক মুহিব উদ্দিন চৌধুরী এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হেনা বেগম। অতিথিরা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা, সন্দেশ ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের স্টল ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি কাপড় ও বিভিন্ন সামগ্রীর স্টলেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল ফেস পেইন্টিং ও হেনা পেইন্টিংয়ের বিশেষ আয়োজন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র।

মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন হুমায়ূন কবির, আহবাব হোসেন এবং বশির আহমদ। তারা জানান, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাবারের বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যক্যামডেনে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য পিঠা মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে এবং অধিক সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে ক্যামডেন পিঠা মেলার আয়োজন করা হবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ভলান্টিয়ার্স’ উইক উদযাপন: স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানে টাওয়ার হ্যামলেটসে গড়ে উঠছে শক্তিশালী কমিউনিটি

প্রকাশিত :  ২৩:৪৯, ১৪ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ১ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত পালিত ভলান্টিয়ার্স’ উইক উপলক্ষে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়তা করা হাজারো স্বেচ্ছাসেবীর অবদানকে সম্মান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরও বেশি মানুষকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস (VCTH) ৭০টিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ প্রদান করছে, যেখানে সব বয়স, আগ্রহ এবং অভিজ্ঞতার মানুষের জন্য বিভিন্ন ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই এবং কাজ, পড়াশোনা বা পরিচর্যার দায়িত্বের সঙ্গে সহজেই সামঞ্জস্য রেখে এসব কাজে অংশ নেওয়া সম্ভব।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুতফুর রহমান বলেন, “স্বেচ্ছাসেবার প্রতিটি ছোট কাজই একটি শক্তিশালী ও সহানুভূতিশীল টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, একসঙ্গে কাজ করলে কী সম্ভব। আমি তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইউম তালুকদার সম্প্রতি হোয়াইটচ্যাপেল আইডিয়া স্টোর পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

আইডিয়া স্টোরে প্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের জন্য (ডিউক অব এডিনবরা অ্যাওয়ার্ডসহ) বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক “গেট অনলাইন” ডিজিটাল সহায়তা সেশন পরিচালনা, শিশুদের কার্যক্রমে সহায়তা, শীতকালীন ওয়ার্ম হাব সাপোর্ট এবং আর্কাইভিং কাজ।

আইডিয়া স্টোরে স্বেচ্ছাসেবক হতে হলে আবেদনকারীর টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস বা কর্মরত হওয়া, স্থানীয় কোনো স্কুলে অধ্যয়ন করা বা আইডিয়া স্টোর লার্নিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।

কাউন্সিলর তালুকদার বলেন, “স্বেচ্ছাসেবা দক্ষতা অর্জন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি শক্তিশালী উপায়। একই সঙ্গে এটি প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে। স্বেচ্ছাসেবীদের এই নিষ্ঠা টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের জীবনে বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনে।”

ভলান্টিয়ার সেন্টার টাওয়ার হ্যামলেটস স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কমিউনিটি সংস্থার সঙ্গে তাদের যুক্ত করে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্যাথরিন ব্যাভেজ বলেন, “প্রতি বছর টাওয়ার হ্যামলেটসের হাজারো বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেন। তারা স্থানীয় চ্যারিটি ও কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সহায়তা করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করেন।\"
তিনি বলেন, \"ভলান্টিয়ার্স’ উইক হলো তাদের এই অসাধারণ অবদানকে ধন্যবাদ জানানোর সময়। স্বেচ্ছাসেবীদের সময়, দক্ষতা ও সহানুভূতি ছাড়া অনেক সেবাই থমকে যেত। আপনি একবার বা নিয়মিত যেভাবেই অংশ নিন না কেন, আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

যারা এখনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হননি, তাদের জন্য এটি প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময় বলে মনে করছে কাউন্সিল।

আগ্রহী বাসিন্দারা বর্তমান সুযোগগুলো সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন:
www.vcth.org.uk/volunteering-in-tower-hamlets/
www.ideastore.co.uk/our-services/volunteering

কমিউনিটি এর আরও খবর