img

ইলিয়াস আলীর প্রতিনিধি হয়ে এসেছি, ফিরিয়ে দেবেন না: লুনা

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ১০ নভেম্বর ২০২৫

 ইলিয়াস আলীর প্রতিনিধি হয়ে এসেছি, ফিরিয়ে দেবেন না: লুনা

সিলেট-২ আসনে (বিশ্বনাথ) বিএনপির প্রার্থী নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, ‘সিলেট-২ নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর আসন। এই আসনে বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন, ধানের শীষে ভোট চাইতে বলেছেন। এজন্য আমি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর আসনে তাঁর প্রতিনিধি হয়ে ধানের শীষে ভোট চাইতে এসেছি। আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।’

গত শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের বিশ্বনাথের বাগিচা বাজারে দেওকলস ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুনা কথাগুলো বলেন।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী শাসনের সমালোচনা করে লুনা বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি উন্নয়নের রাজনীতি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়। তাই এম ইলিয়াস আলীর মতো বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এই আসন উপহার দেব। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে ভেদাভেদ ভুলে সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সেবুল মিয়ার সভাপতিত্বে ও বিএনপি নেতা জিললুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গউছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দশঘর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান, আব্দুল মুমিন মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম, জেলা উলামা দলের সদস্য মাওলানা মাহমুদুর রহমান ও দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাছুম আহমদ মারুফ।

সভায় আরও বক্তব্য দেন দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক চান মিয়া মাস্টার, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি নেতা আমির আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি জাকির আহমেদ। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আব্দুল আলীম সোহাগ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’, ফেসবুকে এমন পোস্টের পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৬:২৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায় প্লাবন সরকার (২৪) এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শাল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে প্লাবন নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’ লিখে এক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্রভাত সরকারের ছেলে প্লাবন সরকার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের তোফাজ্জল হকে ছেলে হাবিবুর রহমানের (৩৫) সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে তোলা কয়েকটি যৌথ ছবি পোস্ট করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি।’ এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের তোফাজ্জল হকে ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও হারুন মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম (৩২) নামের দুই ব্যক্তি প্লাবনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নামিয়ে খাটের ওপর রাখেন তাঁরা। এরপর মামুদনগর বাজার থেকে পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকারকে ডেকে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক প্লাবনের রক্তচাপ পরীক্ষা করে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানান।

পল্লিচিকিৎসক প্রদীপ সরকার বলেন, হাবিবুর রহমান, মঈনুল ইসলাম ও প্লাবন সরকার—তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল তাঁকে প্লাবনদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁরা প্লাবনের মরদেহ খাটের ওপর রেখেছেন।

প্রদীপ সরকার আরও বলেন, ‘রক্তচাপ পরীক্ষা করার পর প্লাবনের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানালে হাবিবুর ও মঈনুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তাঁরা প্লাবনের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

তবে মঈনুলের আপন বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই মঈনুল ওদের সাথে চলাফেরা করতো। প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়ে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েকবারই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। যা বাজারের মানুষে খারাপভাবে বলাবলি করতো।

এবিষয়ে শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি আত্মহত্যা নাকি কোনো প্ররোচনা বা হত্যাকান্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর