img

অর্গানাইজেশন ফর দ্যা রিকগনেশন অফ বাংলা এ্যাজ এন অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ইউনাইটেড নেশনস-এর কনফারেন্স ও জাতিসংঘে বাংলা স্মারক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

প্রকাশিত :  ১০:৩১, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

"প্রচারণা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

অর্গানাইজেশন ফর দ্যা রিকগনেশন অফ বাংলা এ্যাজ এন অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ইউনাইটেড নেশনস-এর কনফারেন্স ও জাতিসংঘে বাংলা স্মারক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব

জাতিসংঘের ৬টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে- এই ভাষা গুলো হচ্ছে ইংরেজি, ফরাসি, আরবি, চীনা, রাশিয়ান ও স্প্যানিশ। আর পৃথিবীতে চার সহস্রাধিক ভাষার মধ্যে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরীক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে র্দীঘদিন ধরে ক্যাম্পেইন করে যাওয়া সংগঠন রিকগনেশন অফ বাংলা এজ এন অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ইউনাইটেড নেশনস এর এক কনফারেন্স ২০২৫ গত  ৯ ই নভেম্বর রোববার দূপুর ১ ঘটিকায়  যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আসা সংগঠনের বিভিন্ন রিজিওনের নেতৃবৃন্দসহ কমিউনিটির শীর্ষজনদের উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা বার্মিংহামের মাল্টিপারপাস সেন্টারে  সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্টানে সংগঠনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত দ্বিতীয় বই জাতি সংঘে বাংলা নামক স্বারক গ্রন্থের আনুষ্টানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

রিকগনেশন অফ বাংলা এজ এন অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ইউনাইটেড নেশনস এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফয়জুর রহমান চৌধুরী এমবিই‘র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা ও বুক লাঞ্চিং অনুষ্টানে প্রধান অতিথি  বৃটিশ এমপি ব্যরিষ্টার আইয়ুব খান তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে বাংলাকে জাতিসংঘে দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে অন্তর্ভুক্তি করতে প্রচারণার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান সহ  সংগঠনের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমাজে ‘ডাইভারসিটি’-এর উন্নয়ন ও চর্চায় এমন সংগঠন যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন- বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা ।বিশ্বের ৩৩ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলেন ।তাই বাংলা যাতে জাতিসংঘের পূর্ণ দাপ্তরিক ভাষা হয় সে জন‍্য সমর্থন প্রদান করে যাবেন ।

বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘে দাপ্তরিক ভাষায় অন্তর্ভুক্তিকরণের লক্ষ্যে অব্যাহত প্রচারণার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কে এম আবু তাহের চৌধুরী,  সুইনডন কমিটির সভাপতি আরজু মিয়া এমবিই, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য আব্দুল লতিফ জেপি, সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল  সভাপতি কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক   মোহাম্মদ মকিস মনসুর, সংগঠন এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মফিজুর রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের এমবিই, বার্মিংহাম বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী যুবরাজ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কামরুল হাছান চুনু, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল কাদির আবুল, কেন্দ্রীয় সদস্য ফিরোজ খান, পোর্টসমাউথ-এর সভাপতি মাসুদ আহমদ, সাবেক কাউন্সিলার শাহীদ আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য  সাংবাদিক ফারুক যোশী,  লন্ডন মহানগরের সভাপতি নাজমুল হোসেন চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা ডাক্তার আব্দুল খালিক, সংগঠনের ম্যানচাষ্টার কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মীর গোলাম মোস্তফা, পোর্টস মাউথ-এর সাধারণ সম্পাদক আবু সোয়েব তানজাম,  বাংলা কাগজের চেয়ারম্যান আজাদ আবুল কালাম, প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম ,বাংলা কাগজের সহ সম্পাদক কলামিস্ট শেবুল চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা মাফিজ খান, লেখক নাসির উদ্দীন হেলাল, কমিউনিটি নেতা আঙ্গুর মিয়া, কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট রাসিয়া খাতুন, ও মিসেস রশিদ প্রমুখ। 

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া করেন মাওলানা ওলিউর রহমান চৌধুরী দুবাগী। সভাপতি তফাজ্জল হোসেন চৌধুরী তাঁর স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি মরহুম তজাম্মেল টনি হক এমবিই সহ সকল প্রয়াত নেতাকে একবিংশ শতাব্দীর ভাষা সৈনিক হিসাবে অভিহিত করে বলেন, কমিউনিটি তাঁদের অবদানকে ভুলবে না বলে উল্লেখ করে সংগঠনটির বিপুল তৎপরতায় ২০২২ সালের ৬ই জুন বাংলা ভাষা জাতিসংঘে  আংশিক স্বীকৃতি পেলেও পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পাওয়ার জন‍্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং এই কাজে সকলের সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি মায়ের ভাষাকে সমুন্নত রাখতে উক্ত সংগঠনের প্রচেষ্টাকে উপস্থিত সকলেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্টানে প্রবাসে বাংলা চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে এবং বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও   শহরে বাংলা স্কুল চালু, বিভিন্ন স্কুলে বাংলা পাঠ্যবই হিসেবে নিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো ও বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় বলে সাংবাদিক জেসমিন মনসুর জানিয়েছেন। 

সভায় জাতিসংঘে বাংলা ভাষা যাতে পূর্ণ দাপ্তরিক ভাষা হয় সে জন‍্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয় ।২০২২ সালে বাংলাকে জাতিসংঘের অদাপ্তরিক ভষা হিসাবে স্বীকৃতি ও চালু করায় জাতিসংঘের মহাসচিবকে ধন‍্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় ।

সভায় বৃটেনের বাংলাদেশ হাই কমিশনের হাই কমিশনার বা সহকারী হাই কমিশনার অথবা 

হাই কমিশনের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় ।

উল্লেখ্য বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরীক ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে সংগঠনটি দেশ ও প্রবাসে বিভিন্নভাবে কাজ করে আসছে।  খুব শীঘ্রই তারা এ বিষয়ে সফল হবেন বলে সম্মেলনে আগতরা  প্রত্যাশা করছেন। পরিশেষে মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে সভার সফল সমাপ্তি ঘটে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৪৫১ পরিবারের হাতে যাকাতের অর্থ তুলে দিল আরডিএফ গ্লোবাল

প্রকাশিত :  ০০:২১, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৮, ২৬ মে ২০২৬

সিলেট ও জগন্নাথপুর, ২৫ মে ২০২৬: তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। তারপর সরাসরি তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাকাতের অর্থ। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিলেটের চা বাগান এলাকা এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৪৫১টি পরিবারের হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় প্রথম পর্বের বিতরণ সম্পন্ন হয়। সেদিন ২৩১টি পরিবারের ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্য এই সহায়তা পান। পরদিন ২৫ মে জগন্নাথপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বে আরও ২২০টি পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ১৩০ জন পুরুষ ও ৯০ জন নারী।


আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের তিন মাসের নিরলস পরিশ্রম। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় গেছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন। পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা - কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়।

সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।


আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী বলেন, "শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক - দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে।"

তিনি আরও বলেন, "যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।"

কমিউনিটি এর আরও খবর