img

শীতে বিপর্যস্ত পঞ্চগড়, পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতে বিপর্যস্ত পঞ্চগড়, পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে

শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে পঞ্চগড়ে। টানা পাঁচ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে অবস্থান করছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সর্ব উত্তরের এই জেলার মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ।

আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়েছে।

রাস্তাঘাট, বাড়ির সামনে, চা-স্টলের পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুর ভোরের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে মাঠে-ঘাটে বের হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলেও এতে তেমন উষ্ণতা মেলেনি।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোরেও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও বেশি। টানা কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার এমন বড় পার্থক্য শীতের প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে অবস্থান করছে। সামনে আরও তাপমাত্রা কমতে পারে।


img

অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ, আসছে নতুন আইন

প্রকাশিত :  ১১:২৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদাবাজির ভয়ে কেউ অভিযোগ করতে না চাইলে পুলিশ নিজেই মামলা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন হতে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ লাইন্সে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজদের অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে থেকে অপরাধ করে। ফলে ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চান না, অভিযোগও করেন না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ যাতে নিজ উদ্যোগেই মামলা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল বলা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সারা দেশে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে মাদককে সমাজে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় পুলিশ ছিল না, বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলেছে। এখন সব জায়গায় পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বেকারত্বসহ নানা সমস্যা থাকায় রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও তারা কিছুদিনের মধ্যে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।


বাংলাদেশ এর আরও খবর