img

রংপুরে বিষাক্ত মদ পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮

প্রকাশিত :  ০৫:০৯, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুরে বিষাক্ত মদ পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮

রংপুরে বিষাক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট (মদ) পানে বিক্রেতাসহ আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে তিন দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ জনে। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সদর উপজেলার শ্যামপুর হাট এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী জয়নুলের  নিকট থেকে  বিষাক্ত রেক্টিফাই স্পিরিট কিনে সেবন করেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, একই এলাকার পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়াসহ আরও কয়েকজন।

ওই রাতে বদরগঞ্জের আমিরুল ও সোহেল মৃত্যুবরণ করেন। একই সময়ে সদর উপজেলার সাহপুর এলাকার সহিদার রহমানের ছেলে জেন্দার আলী মারা যান। এর পরে সদর উপজেলার রাশেদুল ইসলাম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া বদরগঞ্জ উপজেলা মালেক মিয়া নামে আরও একজনের মৃত্যু হয় সোমবার। সর্বশেষ  মঙ্গলবার রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে জয়নুল আবেদীন মারা যান।

নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ নেওয়া হয় মর্গে। পুরোনো ছবি

এছাড়া মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা এলাকার মানিক চন্দ্র রায় নামে একজনের স্পিরিট সেবনে মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক পৃথকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছে, সদর উপজেলার চন্দপাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের উলিয়ার রহমান ওই রাতে রেক্টিফাই স্পিরিট সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা পুলিশের কাছে তথ্য গোপন করে মরদেহ গোপনে দাফন করা হয়। এই মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশের রেকর্ডে নেই।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে গ্রেপ্তার জয়নাল আবেদীন কারাগারে মারা যান। তার থানার অধীনের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪ জন মারা গেছে।

এদিকে স্পিরিট পানে মৃত্যুর ঘটনা ও সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন রংপুর কোতোয়ালী থানার ওসি আব্দুল গফুর, হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, স্থানীয় এক শ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধগুলো সংগ্রহ করে থাকেন মাদক ব্যবসায়ীরা। নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে অভিযানও চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এ নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।


img

বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৫:৩২, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরে দুজন, পটুয়াখালীতে দুজন, ময়মনসিংহে একজন, রাজবাড়ীতে একজন, রংপুরে একজন, শরীয়তপুরে একজন ও বরগুনায় একজন মারা গেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের ৭ জেলায় এসব মৃত্যু হয়।

বজ্রপাত কেড়ে নিল খামারির স্বপ্ন / বেশিরভাগ গরুই প্রস্তুত করা হয়েছিল কোরবানিতে বিক্রির আশায়

জামালপুর : বুধবার সকালে জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, মো. শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮)। শামীম মিয়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে এবং সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার মো. স্বাধীনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৬টার দিকে শামীম নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে সকাল ৯টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দুল্লামারী এলাকায় এলজিইডির আওতায় একটি সড়কের নির্মাণকাজ চলার সময় বজ্রপাতে সাগর ইসলামের মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী : দুপুরে বজ্রপাতে কলাপাড়া উপজেলার নয়াকাটা গ্রামে জহির চৌকিদার (২৮) ও পূর্ব চাকামইয়া গ্রামের সেতারা বেগমের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। মৃত জহির ওই একই গ্রামের ইউনুস চৌকিদারের ছেলে এবং সেতারা বেগম চাকামইয়া গ্রামের বাদশা হাওলাদারের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরে জহির তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ক্ষেতে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সেতারা বেগম গরু নিয়ে নিজ বাড়ির পাশে খোলা মাঠে ঘাস খাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজবাড়ী : জেলার সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মণ্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বজ্রপাতের সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে তিন বছরের শিশুটি কোল থেকে পড়ে গেলেও প্রাণে বেঁচে যায়। মৃত সুমন মণ্ডল মজ্জৎকোল গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে। জানা গেছে, সকাল পৌনে ৭টার দিকে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে বাজার করতে যাচ্ছিলেন সুমন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।

রংপুর : তারাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের স্ত্রী।

ময়মনসিংহ : তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত সাদ্দাম হোসেন ওই একই এলাকার মৃত হামেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তারাকান্দা থানার ওসি তানবীর আহমেদ জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর : নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকারের সময় বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকার করছিলেন তিনি। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে রাজিবের শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজিবের লাশ নদীর তীরে তুলে আনেন।

বরগুনা : গতকাল দুপুরে আমতলীতে বজ্রাপাতে নুর জামাল (৫৪) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বিকেলে আমতলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী নুর জামালের বাড়ি যান। এ সময় তার পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেন।