গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হেতিমগঞ্জে ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন ইউ'কের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জামিয়া ইসলামিয়া আইডিয়াল মাদ্রাসায় এই ফ্রি চক্ষু শিবিরটি সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
‘অন্ধজনে দেহ আলো’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এই ফ্রি চক্ষু শিবিরে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ জন গরীব দুঃখী অসহায় রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের ফ্রি চশমা ও ঔষধ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ৩০ জনের চোখের ছানি ফ্রি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
ফ্রি চক্ষু শিবির চলাকালীন সময়ে পরিদর্শনে আসে ভিশন কেয়ার ফান্ডেশনের অন্যতম ট্রাস্টি ও ইউরো বাংলার সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল মুহাইমিন রাফি, লিলি ডিন, আবিদা সুলতানা লাকী, মায়মুনাহ মুনিম রিয়া, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী এহতেশামুল আলম জাকারিয়া, ফুলবাড়ি ইউনিয়ন এর বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত আসাদুজ্জামান পাপ্পু, জামিয়া ইসলামিয়া আইডিয়াল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুহিবুল্লাহ হুসনেগীর, হিলালপুর শাপলা সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতি ইসমাইল আহমেদ, সাবেক সভাপতি সুলেমান আহমদ, টি ফাইভ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক মামুন আহমদ।
এসময় উপকারভোগীরা এমন উদ্যোগের জন্য ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন ইউকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হিলালপুর শাপলা সমাজ কল্যাণ সংঘ, টি ফাইভ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জামিয়া ইসলামিয়া আইডিয়াল মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনায় এই চক্ষু শিবিরে আর্থিক সহযোগিতা করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুন নুর, মো: দেলোওয়ার হোসেন, তালাত সিদ্দিকী, সেলিম উদ্দিন আহমদ, আবু তাহের, ফারুক মিয়া, সামছুল হক এহিয়া, খলিলুর রহমান, সুলতান হায়দার জসিম, সুহেল উদ্দিন, এম এ মুনিম জাহেদী ক্যারল।
সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইল বাংলাদেশ
প্রকাশিত :
১৪:২০, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ২২ বাংলাদেশির নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ উল্লেখ থাকলেও তাঁদের কার কী শাস্তি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারও কারাদণ্ডের মেয়াদ কিংবা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় বিষয়টি জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
এই ২২ জনের মধ্যে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারও ছিলেন। সম্প্রতি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর অন্য বন্দীদের পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাকি ২০ জনের কী সাজা হয়েছে, তা জানতে গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেদ্দা শাখায় চিঠি পাঠায় কনস্যুলেট।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডিত নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৪৬১ বাংলাদেশি বন্দীর একটি তালিকা পাঠায়। জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মপরিধির আওতাধীন কারাগারগুলোতে থাকা এসব বন্দীর কারও বিচার শেষ হয়েছে, আবার কারও মামলা চলছে। তালিকা পর্যালোচনা করে কনস্যুলেট দেখতে পায়, কয়েকজনের ‘অবস্থা’ কলামে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামে কোনো তথ্য নেই। তাদের শাস্তির ধরন বা মেয়াদও উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখার কাছে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। কনস্যুলেট বলেছে, কনস্যুলার দায়িত্ব পালনের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত নয় পৃষ্ঠার তালিকা পর্যালোচনা করে এমন ২২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
কনস্যুলেটের সূত্র অনুযায়ী, এই ২২ জনের মধ্যে আটজন হত্যা মামলায়, পাঁচজন মাদক পাচারের মামলায় এবং পাঁচজন ‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের, একজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের এবং একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মামলা রয়েছে।
বন্দীদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসি কারাগারে এবং চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে রয়েছেন। অন্য ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে আছেন।
‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলার পাঁচ বন্দীর সবাই শুমাইসি কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের মামলা ব্যক্তিগত দাবি বা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত হলেও মামলার নথি ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মামলার ধরন দেখে কারও সাজা অনুমান করা সম্ভব নয়। সৌদি আরবে হত্যা মামলায় কিসাসের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে রক্তপণ বা কারাদণ্ডের মাধ্যমেও মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। ফলে তালিকায় থাকা কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য কনস্যুলেটের কাছে নেই।
নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা রায়ের বিস্তারিত তথ্য জানার গুরুত্ব সামনে এনেছে। কোনো বন্দীর রায়ের সারসংক্ষেপ না থাকলে তাঁর আপিলের সুযোগ, আইনজীবী নিয়োগ কিংবা রক্তপণ ও ক্ষমার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, দণ্ডিত বাংলাদেশিদের সাজার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নাগরিকদের উন্নত কনস্যুলার সেবা দেওয়া এবং নিজস্ব তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখার অংশ।
এ ছাড়া ১৯ অক্টোবর পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ২ হাজার ৪৬১ বন্দীকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কনস্যুলেট। এর মধ্যে রয়েছে সাজা শেষ হওয়া বন্দীদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণ করা বন্দীদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, প্রথমবার আটক ও ছোট অপরাধে আটক ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফ এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি।
আরও দুজন বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। তাদের পরিবারের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করলেও কেন এবং কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়নি।
এসব চিঠির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।