img

হাকালুকি হাওরের বুনো ফুল—প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের জীবন্ত ভাষা

প্রকাশিত :  ০৫:৫৮, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাকালুকি হাওরের বুনো ফুল—প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের জীবন্ত ভাষা

সংগ্রাম দত্ত: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন হাকালুকি হাওর। এশিয়ার বৃহত্তম হাওরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই বিস্তীর্ণ জলাভূমি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলাজুড়ে বিস্তৃত। এর বড় একটি অংশ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া ও বরলেখা উপজেলায় অবস্থিত। জীববৈচিত্র্য, জলজ সম্পদ ও ঋতুভিত্তিক প্রাকৃতিক রূপের জন্য হাকালুকি হাওর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এই হাওরের পাড়জুড়ে ফুটে থাকা বুনো ফুল যেন প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। যত্নহীন মাটিতে জন্ম নিয়েও তাদের রঙে থাকে দৃঢ়তা, আর সৌন্দর্যে থাকে এক অনাড়ম্বর আত্মমর্যাদা। পরিকল্পিত বাগানের সীমানার বাইরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেড়ে ওঠা এসব ফুল মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি নিজস্ব নিয়মেই সাজতে জানে। মানুষের অবহেলা কিংবা অযত্নও তাদের সৌন্দর্য মুছে দিতে পারে না; বরং সেই প্রতিকূলতাই যেন তাদের অস্তিত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

হাকালুকি হাওরের বুনো ফুল শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, বরং এ অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাখি, পোকামাকড় ও অন্যান্য জীবের আবাসস্থল হিসেবে এই উদ্ভিদরাজি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নীরবে ভূমিকা রাখছে। তাই এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা মানে কেবল একটি জলাভূমিকে রক্ষা করা নয়—বরং একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা।

সব মিলিয়ে, হাকালুকি হাওরের বুনো ফুল আমাদের শেখায় দৃঢ়তা, স্বাভাবিকতা ও নিঃশব্দ সৌন্দর্যের মূল্য। প্রকৃতির এই অনুপম উপহার সংরক্ষণে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

আজমিরীগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন নদীতে ভেসে উঠল গৃহবধূর মরদেহ

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জে কালনী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের এক দিন পর মরিয়ম বিবি (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে আজমিরীগঞ্জের বাঁশবাজার এলাকার নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় জেলেরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরিয়ম বিবি উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের শাহনগর নরজাকান্দা গ্রামের আমজাদ মিয়ার স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশে কালনী নদীতে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে নিখোঁজ হন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। পরে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে সেদিন তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কাকাইলছেও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অপু দাস মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদন গৃহীত হলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিবুর মিয়া জানান, এক বছর আগে মরিয়ম ও আমজাদের বিয়ে হয়। নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে নিখোঁজ হওয়ার পর বুধবার তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর