img

টাওয়ার হ্যামলেটসের স্বাস্থ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবাকে ‘ভালো’ রেটিং দিয়েছে সিকিউসি

প্রকাশিত :  ২২:৫৯, ২৯ মার্চ ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের স্বাস্থ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবাকে ‘ভালো’ রেটিং দিয়েছে সিকিউসি
  • টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্বাস্থ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা বিভাগ, কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন (সিকিউসি)-এর পরিদর্শনের পর ‘ভালো’ রেটিং অর্জন করেছে।
  • প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সেবায় প্রশিক্ষিত ও কমিউনিটির প্রতি নিবেদিতপ্রাণ কর্মী রয়েছে; শক্তিশালী অংশীদারিত্বে কাজ করা হয়; এবং বৈষম্য কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  • সিকিউসি দেখতে পেয়েছে যে, এখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি রয়েছে যেখানে ধারাবাহিক শিক্ষা ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করা হয়, এবং কর্মীদের নিজস্ব উন্নয়নের প্রয়োজন চিহ্নিত করতে উৎসাহিত করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্বাস্থ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা বিভাগ কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন (সিকিউসি)-এর কাছ থেকে ‘ভালো’ রেটিং পেয়েছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি বারাজুড়ে বাসিন্দাদের জন্য উচ্চমানের সেবা ও সহায়তা প্রদান করার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।
সিকিউসি-এর প্রধান পরিদর্শক ক্রিস ব্যাজার বলেছেন, কাউন্সিলটি “উচ্চ জনঘনত্ব এবং উল্লেখযোগ্য বঞ্চনার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলভাবে এগিয়ে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি যে কর্মীরা ভালোভাবে প্রশিক্ষিত এবং তারা মূল্যায়নের সময় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে তাদের সাংস্কৃতিক পটভূমি এবং যোগাযোগের প্রয়োজন অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ তাদের পছন্দের ভাষায় নিজেদের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছেন, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যের কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
পরিদর্শনে দেখা গেছে যে, মানুষ নিরাপদ, কার্যকর, সাশ্রয়ী এবং উচ্চমানের বিভিন্ন স্থানীয় সহায়তা সেবার সুযোগ পাচ্ছে, এবং পুরো সেবায় শক্তিভিত্তিক (স্ট্রেন্থস-বেসড) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো হলো:
নিবেদিত কর্মীবাহিনী: কর্মীরা “ভালোভাবে প্রশিক্ষিত”, “কমিউনিটির প্রতি নিবেদিত” এবং অংশীদার, সেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে “ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে” সমন্বয় করে কাজ করেন।
নেতৃত্ব: কাউন্সিলে “দৃশ্যমান, দক্ষ এবং সহানুভূতিশীল” নেতৃত্ব রয়েছে এবং “ধারাবাহিক শিক্ষা ও উন্নয়নের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইতিবাচক সংস্কৃতি” বিদ্যমান।
অংশীদারিত্বে কাজ: স্বেচ্ছাসেবী, কমিউনিটি, ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্যোগ ভিত্তিক সংগঠনগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কৌশলগত আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ সেবা পরিকল্পনায় বাসিন্দাদের মতামত কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। অংশীদাররা পরিদর্শকদের বলেছেন যে, “পেশাগত পর্যায়ে সম্পর্কগুলো পরিপক্ক ও দৃঢ়, যা যৌথভাবে কাজ করে মানুষের জন্য সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।”
বৈষম্য হ্রাস: কাউন্সিল “কৌশলগত পরিকল্পনা ও অংশীদারিত্বে সমতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে” এবং যেখানে বৈষম্য চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট মানুষ ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে তাদের নির্দিষ্ট ঝুঁকি ও সমস্যা গুলো বোঝা ও সমাধানের চেষ্টা করেছে।
ইতিবাচক অভিজ্ঞতা: সামগ্রিকভাবে মানুষ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পেয়েছে। “সেবা ও সহায়তার অভিজ্ঞতা তাদের মানবাধিকারকে সম্মান ও সুরক্ষিত করেছে” এবং তারা “সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন।” সময়মতো মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কেয়ার অ্যাক্ট মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষার সময় ছিল খুবই কম।
নিরাপত্তা (সেফগার্ডিং): “নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো কার্যকরভাবে কাজ করেছে” এবং “ঝুঁকিগুলো সক্রিয়ভাবে চিহ্নিত ও পরিচালনা করা হয়েছে।”
অবৈতনিক পরিচর্যাকারীদের সহায়তা: অবৈতনিক পরিচর্যাকারীদের জন্য “দৃঢ় সহায়তা ব্যবস্থা” রয়েছে এবং ইংল্যান্ডের অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পরিচর্যাকারী সহায়তা পাচ্ছেন।
এই রেটিংটি ২০২৫ সালে কাউন্সিলের শেয়ার্ড লাইভস সেবার ‘ভালো’ মূল্যায়নের পর এসেছে।
এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন, “আমি আনন্দিত যে আমাদের স্বাস্থ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা বিভাগ কেয়ার কোয়ালিটি কমিশনের কাছ থেকে \'গুড\' (ভালো) রেটিং পেয়েছে। এই স্বীকৃতি আমাদের কর্মীদের নিষ্ঠা, সহমর্মিতা এবং পেশাদারিত্বের প্রতিফলন, যারা নিরলসভাবে আমাদের বাসিন্দাদের সহায়তা করে যাচ্ছেন।\"
তিনি আরো বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রত্যেকে উচ্চমানের সহায়তা পাবেন, যা তাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে সহায়তা করবে।”
কাউন্সিলে হেলথ, ওয়েলবিয়িং এন্ড সোশ্যাল কেয়ার বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর সাবিনা আখতার বলেছেন, “এটি আমাদের বারার জন্য একটি অসাধারণ ফলাফল এবং স্বাস্থ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবায় আমাদের টিমগুলোর কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ। আমি বিশেষভাবে গর্বিত যে সিকিউসি আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং বৈষম্য কমানোর ওপর আমাদের মনোযোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।\"
তিনি বলেন, “আমরা এই ভিত্তির ওপর আরও এগিয়ে যাব এবং অংশীদার, পরিচর্যাকারী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমাদের সেবাকে আরও উন্নত করব।”

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৪৫১ পরিবারের হাতে যাকাতের অর্থ তুলে দিল আরডিএফ গ্লোবাল

প্রকাশিত :  ০০:২১, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৮, ২৬ মে ২০২৬

সিলেট ও জগন্নাথপুর, ২৫ মে ২০২৬: তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। তারপর সরাসরি তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাকাতের অর্থ। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিলেটের চা বাগান এলাকা এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৪৫১টি পরিবারের হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় প্রথম পর্বের বিতরণ সম্পন্ন হয়। সেদিন ২৩১টি পরিবারের ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্য এই সহায়তা পান। পরদিন ২৫ মে জগন্নাথপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বে আরও ২২০টি পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ১৩০ জন পুরুষ ও ৯০ জন নারী।


আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের তিন মাসের নিরলস পরিশ্রম। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় গেছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন। পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা - কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়।

সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।


আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী বলেন, "শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক - দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে।"

তিনি আরও বলেন, "যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।"

কমিউনিটি এর আরও খবর