img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: রমযানের আমল কীভাবে ধরে রাখবো?

প্রকাশিত :  ১৪:২৯, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: রমযানের আমল কীভাবে ধরে রাখবো?

শায়খ আব্দুল কাইয়ূম

আল-হামদুলিল্লাহ। রমযান আসে এবং আমাদের জীবনের পরিবেশকে বদলে দেয়। আমরা রোজা রাখি, বেশি নামাজ পড়ি, বেশি কুরআন তিলাওয়াত করি, মসজিদ ভরে যায়, আর আমাদের অন্তরে এক সুন্দর অনুভূতি জন্ম নেয়। আমরা ঈমানের মাধুর্য অনুভব করি। আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যাই। কিন্তু রমযান শেষ হয়ে যায়, ঈদ চলে যায়, এবং আমাদের অনেকের মনে তখন প্রশ্ন জাগে: এখন কী হবে? এটাই আসল পরীক্ষা।

প্রতিবছর আমরা একই চিত্র দেখি এবং যদি সত্যি কথা বলি, নিজেকেও একই প্রশ্ন করতে হয়। রমযানে মসজিদগুলো পরিপূর্ণ থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কাতারগুলো ভরে যায়। কিন্তু রমযানের পরে সেই উদ্যম কমে যায়। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে থাকে। অনেকেই আগের মতো মসজিদে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেন । কেউ নামাজে অবহেলা করেন। কেউ কুরআন তেলাওয়াত ছেড়ে দেন। কেউ আবার পরবর্তী রমযানের অপেক্ষায় থাকে, যেন ইবাদত শুধু বছরের এক মাসের জন্য।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শুধু রমযানে ইবাদত করতে বলেননি। তিনি বলেন: “আর তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর, যতক্ষণ না তোমার কাছে নিশ্চিত (মৃত্যু) আসে।” (কুরআন ১৫:৯৯)। এর অর্থ হলো—রমযান শেষ হলেও ইবাদত শেষ হয় না। আল্লাহ শুধু রমযানের প্রতিপালক নন । তিনি শাওয়ালের রব, প্রতিটি মাসের রব, এবং সেই রব যাঁর কাছে একদিন আমাদের ফিরে যেতে হবে।

উলামারা বলেন, কোনো নেক আমল কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ হলো—এর পরে বান্দা ভালো কাজে অব্যাহত থাকে। যদি রমযান কবুল হয়, তবে তার প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোতে দেখা যাবে । হয়তো একই মাত্রায় নয়, কিন্তু ধারাবাহিকতায় । যদি সবকিছু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি ভালো লক্ষণ নয়।

আল্লাহ বলেন: “তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে নিজের শক্ত করে কাটা সুতা আবার খুলে ফেলে।” (কুরআন ১৬:৯২)

কী গভীর উদাহরণ! একজন মানুষ পরিশ্রম করে মজবুত কোনো কিছু তৈরি করল, তারপর নিজ হাতে তা ধ্বংস করে দিল। আমরা কি তাই করি না—যদি রমযানে আল্লাহর সঙ্গে একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ঈদের পর তা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলি।

রমযানের পরে প্রথম যে জিনিসটি আমাদের রক্ষা করতে হবে, তা হলো সালাত । সালাত আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে সংযোগ। আমরা যদি নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় করি, তবে আমরা সংযুক্ত থাকব । আর যদি নামাজ অবহেলা করি, তবে যেন সেই সংযোগ কেটে যায়। কিয়ামতের দিন প্রথম যে আমলটির হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ । যদি তা ঠিক থাকে, তাহলে বাকি আমলগুলোও ঠিক থাকবে। আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে বাকি আমলগুলোও নষ্ট হবে।

তাহলে আমরা কীভাবে এতে অবহেলা করতে পারি?

অনেকে রমযানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, কিন্তু রমযানের পরে তা কমিয়ে শুধু জুমা\' বা “সময় পেলে” নামাজ পড়ে থাকেন । অথচ নামাজ এমন কিছু নয়, যা আমরা শুধু অবসর সময়ে করব। বরং আমাদের দিনের কাঠামোই হওয়া উচিত নামাজকে কেন্দ্র করে। এটি আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ।

আর আছে \'জামাত\'। নবী (সাঃ) সেই ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন, যে বিনা কারণে মসজিদে আসা থেকে বিরত থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, জামাতের নামাজ আদায় করা—বিশেষ করে পুরুষদের জন্য—কোনো গৌণ বিষয় নয়।

আমরা কেন এমন বড় পুরস্কারের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাই? জামাতে নামাজ পড়লে আল্লাহ ২৫ থেকে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব দেন। সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য আল্লাহ জান্নাতে প্রতিদান প্রস্তুত করেন। প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

এত বড় সওয়াব সামনে থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন অলস হয়ে যাই?

রমযানের পরে আমাদের উচিত কিছু না কিছু চালু রাখা—কিছু রোজা, কিছু কুরআন, কিছু ইবাদত, কিছু প্রচেষ্টা যাতে আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী থাকতে পারি। যদিও তা ছোট হয়, তবুও তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

নবী ﷺ বলেছেন: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেইগুলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা সামান্য হয়।”

রমযানের পরে আমাদের এটাই দরকার—সবকিছু রমযানের মতো না হলেও, যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। আমরা যা পারি তা চালিয়ে যাই, এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত ইবাদতে অটল থাকি।

আসল সফলতা হলো না যে আমরা এক মাস ইবাদত করে তারপর থেমে গেলাম। আসল সফলতা হলো—রমযান আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে আমরা প্রতিটি মাসেই আল্লাহর পথে চলতে পারি।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা রমযানের পরেও ইবাদতে অব্যাহত থাকে। হে আল্লাহ, আমাদের সালাতকে হেফাজত করুন, আমাদের অন্তরকে আপনার সঙ্গে যুক্ত রাখুন, এবং আমরা যে ভালো কাজ গড়ে তুলেছি তা নষ্ট হতে দেবেন না। হে আল্লাহ, আমাদেরকে আপনার আনুগত্যে স্থায়িত্ব দিন এবং ইসলামের উপর সুন্দর পরিণতি দান করুন। আমীন

আলহামদুলিল্লাহ, রমযান আসে এবং আমাদের জীবনের পরিবেশকে বদলে দেয়। আমরা রোজা রাখি, বেশি নামাজ পড়ি, বেশি কুরআন তিলাওয়াত করি, মসজিদ ভরে যায়, আর আমাদের অন্তরে এক সুন্দর অনুভূতি জন্ম নেয়। আমরা ঈমানের মাধুর্য অনুভব করি। আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যাই।

কিন্তু রমযান শেষ হয়ে যায়, ঈদ চলে যায়, এবং আমাদের অনেকের মনে তখন প্রশ্ন জাগে: এখন কী হবে?

এটাই আসল পরীক্ষা।

প্রতিবছর আমরা একই চিত্র দেখি—এবং যদি সত্যি কথা বলি, নিজেকেও একই প্রশ্ন করতে হয়। রমযানে মসজিদগুলো পরিপূর্ণ থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কাতারগুলো ভরে যায়। থাকে উৎসাহ, চেষ্টা, অঙ্গীকার। কিন্তু রমযানের পরে সেই উদ্যম কমে যায়। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে থাকে। কেউ কেউ আগের মতো মসজিদে আসা বন্ধ করে দেয়। কেউ নামাজে অবহেলা করে। কেউ কুরআন ছেড়ে দেয়। কেউ আবার পরবর্তী রমযানের অপেক্ষায় থাকে, যেন ইবাদত শুধু বছরের এক মাসের জন্য।

কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে শুধু রমযানে ইবাদত করতে বলেননি।

আল্লাহ বলেন: “আর তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর, যতক্ষণ না তোমার কাছে নিশ্চিততা (মৃত্যু) আসে।” (কুরআন ১৫:৯৯)

এর অর্থ হলো—রমযান শেষ হলেও ইবাদত শেষ হয় না। আল্লাহ শুধু রমযানের রব নন। তিনি শাওয়ালের রব, প্রতিটি মাসের রব, এবং সেই রব যাঁর কাছে একদিন আমাদের ফিরে যেতে হবে।

উলামারা বলেন, কোনো নেক আমল কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ হলো—এর পরে বান্দা ভালো কাজে অব্যাহত থাকে। যদি রমযান কবুল হয়, তবে তার প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোতে দেখা যাবে। হয়তো একই মাত্রায় নয়, কিন্তু ধারাবাহিকতায়। যদি সবকিছু হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি ভালো লক্ষণ নয়।

আল্লাহ বলেন: “তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে নিজের শক্ত করে কাটা সুতা আবার খুলে ফেলে।” (কুরআন ১৬:৯২)

কী গভীর উদাহরণ! একজন মানুষ পরিশ্রম করে কিছু মজবুত তৈরি করল, তারপর নিজ হাতে তা ধ্বংস করে দিল। আমরা কি তাই করি না—যদি রমযানে আল্লাহর সঙ্গে একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলে ঈদের পর তা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলি?

রমযানের পরে প্রথম যে জিনিসটি আমাদের রক্ষা করতে হবে, তা হলো নামাজ। সালাত আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে সংযোগ। আমরা যদি নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় করি, তবে আমরা সংযুক্ত থাকব। আর যদি নামাজ অবহেলা করি, তবে যেন সেই সংযোগ কেটে যায়।

কিয়ামতের দিন প্রথম যে আমলটির হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ। যদি তা ঠিক থাকে, তাহলে বাকি আমলগুলোও ঠিক থাকবে। আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে বাকি আমলগুলোও নষ্ট হবে।

তাহলে আমরা কীভাবে এতে অবহেলা করতে পারি?

অনেকে রমযানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, কিন্তু রমযানের পরে তা কমিয়ে শুধু জুমা বা “সময় পেলে” নামাজ পড়ে। অথচ নামাজ এমন কিছু নয়, যা আমরা ফাঁকা সময়ে করব। বরং আমাদের দিনের কাঠামোই হওয়া উচিত নামাজকে কেন্দ্র করে। এটি আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ।

আর আছে জামাআত। নবী ﷺ সেই ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন, যে বিনা কারণে মসজিদে আসা থেকে বিরত থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, মুসলমানদের সঙ্গে জামাআতে নামাজ আদায় করা—বিশেষ করে পুরুষদের জন্য—কোনো গৌণ বিষয় নয়।

আমরা কেন এমন বড় পুরস্কারের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাই?

জামাআতে নামাজ পড়লে আল্লাহ ২৫ থেকে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব দেন। সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য আল্লাহ জান্নাতে প্রতিদান প্রস্তুত করেন। প্রতিটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

এত বড় সওয়াব সামনে থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন অলস হয়ে যাই?

রমযানের পরে আমাদের উচিত কিছু না কিছু চালু রাখা। কিছু রোজা, কিছু কুরআন তেলাওয়াত, কিছু ইবাদত, কিছু প্রচেষ্টা যাতে আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী থাকতে পারি । যদিও তা ছোট হয়, তবুও তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

নবী (সাঃ) বলেছেন: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেইগুলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা সামান্য হয়।” রমযানের পরে আমাদের এটাই দরকার—সবকিছু রমযানের মতো না হলেও, যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। আমরা যা পারি তা চালিয়ে যাই, এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত ইবাদতে অটল থাকি। আসল সফলতা এই নয় যে,  আমরা এক মাস ইবাদত করে তারপর থেমে গেলাম। আসল সফলতা হলো—রমযান আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে আমরা প্রতিটি মাসেই আল্লাহর পথে চলতে পারি।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা রমযানের পরেও ইবাদতে অব্যাহত থাকে। হে আল্লাহ, আমাদের সালাতকে হেফাজত করুন, আমাদের অন্তরকে আপনার সঙ্গে যুক্ত রাখুন, এবং আমরা যে ভালো কাজ গড়ে তুলেছি তা নষ্ট হতে দেবেন না। হে আল্লাহ, আমাদেরকে আপনার আনুগত্যে স্থায়িত্ব দিন এবং ইসলামের ওপর সুন্দর পরিণতি দান করুন। আমীন।


শায়খ আব্দুল কাইয়ূম : প্রধান ইমাম ও খতীব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, ২৭ মার্চ ২০২৬।  

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

৪৫১ পরিবারের হাতে যাকাতের অর্থ তুলে দিল আরডিএফ গ্লোবাল

প্রকাশিত :  ০০:২১, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৮, ২৬ মে ২০২৬

সিলেট ও জগন্নাথপুর, ২৫ মে ২০২৬: তিন মাস ধরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। তারপর সরাসরি তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাকাতের অর্থ। রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) গ্লোবালের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিলেটের চা বাগান এলাকা এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৪৫১টি পরিবারের হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ মে সিলেটের বুরজান, কালাগুল, চোরাগাং ও খাদিম চা বাগান এলাকায় প্রথম পর্বের বিতরণ সম্পন্ন হয়। সেদিন ২৩১টি পরিবারের ১২৫ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী সদস্য এই সহায়তা পান। পরদিন ২৫ মে জগন্নাথপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে দ্বিতীয় পর্বে আরও ২২০টি পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ১৩০ জন পুরুষ ও ৯০ জন নারী।


আরডিএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দুটি দলের তিন মাসের নিরলস পরিশ্রম। দলের সদস্যরা একে একে প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় গেছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখেছেন এবং সত্যিকারের অসহায়দের তালিকা তৈরি করেছেন। পণ্যের বদলে নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তও সুচিন্তিত। কারণ প্রতিটি পরিবারের সংকট আলাদা - কেউ খাবারের কষ্টে, কেউ ওষুধের অভাবে, কেউ আবার ঋণের চাপে দিশেহারা। নগদ অর্থ তাদের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানায়।

সিলেটের এই চা বাগান অঞ্চলের শ্রমিকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৭ টাকা, অর্থাৎ ব্রিটিশ মুদ্রায় এক পাউন্ডেরও কম। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন, অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তো সুদূরপরাহত।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন আরডিএফের চেয়ারম্যান তালহা চৌধুরী, কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুন নূর, আরডিএফ একাডেমির অধ্যক্ষ ও প্রজেক্ট অফিসার রাইয়ান আহমেদ এবং প্রজেক্ট অফিসার হানিফ আহমেদ ও মাসুম চৌধুরী। তাঁদের পাশে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আল আমিন, সুমন, সুজন, সামাদ, হেলাল, সুমান, জামিল, রাশেদ, মোস্তফা ও নুফায়েলসহ একদল স্বেচ্ছাসেবী।


আরডিএফ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুবের চৌধুরী বলেন, "শুধু অর্থ বিতরণ করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই মানুষ তার নিজের মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক। তাই প্রতিটি পরিবারকে আমরা সরাসরি নগদ অর্থ দিয়েছি, যাতে তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন কোথায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই যাকাত শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক - দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে।"

তিনি আরও বলেন, "যাঁরা তাঁদের যাকাত আরডিএফের হাতে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর যে স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠে নেমে এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও জীবিত। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন।"

কমিউনিটি এর আরও খবর