img

জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২১:০৪, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি

জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশে এখনো তা বাড়ানো হয়নি।

তিনি আরও জানান, এই খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

আজ ’বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।’

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা সময়ের দাবি।’

বক্তব্যে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহন করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি ‘দাদু’র পদক গ্রহণ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।

খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর এই সন্মাননা পেয়েছেন সাতজন। এরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও  মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।

মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকৗ ,জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন।

অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।

এ বছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম

প্রকাশিত :  ১৭:২৭, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

\r\n

ইরানের পক্ষ থেকে এই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই রুটটি কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। ফলে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এখন এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমন জোরালো প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছাড়তে শুরু করেছেন।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। এটি খুলে যাওয়া মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট কেটে যাওয়া। 

এই স্বস্তিদায়ক খবর আসার পরপরই তেলের দামের গ্রাফ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

অর্থনীতি এর আরও খবর