img

সারাদেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

প্রকাশিত :  ১৫:১৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

সারাদেশে বজ্রপাতের ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, নাটোরের সিংড়ায় ১ জন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১ ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সব ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া, সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাংগা ও ফুলছড়িতে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে পৃথক বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ, তার চাচাতো ভাই শিশু রাফি, সাদুল্লাপুর উপজেলার আলী আকবর। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মণ্ডল জানান, রোববার দুপুরে দক্ষিণ ধোপাডাংডার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুজা চৌধুরীর বাড়ির বারান্দায় খেলা করছিল সুজা চৌধুরীর শিশু পুত্র ফুয়াদ ও মুজাহিদের শিশুসন্তান রাফি। দুপুরে বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বারান্দায় অবস্থানরত ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি গুরুতর আহত হয়। পরিবারের লোকজন দুজনকে নিয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধোপাডাংগায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়ায় জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় মিজানুর রহমান নামের এক যুবক। তাকে গাইবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সাঘাটা উপজেলায় নম্বর আলী ও ফুলছড়ি উপজেলায় অজ্ঞাত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষক ও এক যুবক মারা গেছেন। রোববার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।

তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

একই দিন বিকাল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচাঁন এলাকায় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত হাসান শেখ ওই এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে ধান কাটছিলেন হাসান। এ সময় হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে হাসান শেখের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ও সৈয়দপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকালে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় পৃথক দুটি স্থানে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের গৃহবধূ সেলিনা আক্তার দুপুরে মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াস আলী বিকালে নিজের ফসলি জমি দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে তিনি প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 জামালপুরে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও দুইজন।

জামালপুরের মেলান্দহ থানার ওসি উবায়দুর রহমান  জানান, রোববার বিকালে মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামের রাজিব হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাড়ির উঠানে রান্নার সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।  আহত হয়েছেন একই এলাকার হারুনের স্ত্রী শেফালী বেগম।

জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, জামালপুর সদরের চর যথার্থপুরে হাবিবুর রহমানের পুত্র হাসমত আলী হাসু নামে এক কৃষক ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে  মারা গেছেন। আহত হয়েছেন একই এলাকার নুর আলীর পুত্র কৃষক আনোয়ার হোসেন।

আহত শেফালী বেগমকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সদর উপজেলার নুর আলীর পুত্র কৃষক আনোয়ার হোসেনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে।

সিংড়ার চলনবিলে ধান কাটতে এসে বজ্রপাতে সম্রাট (২৬) নামের এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একই গ্রামের আলম হোসেন (৩৫) ও আফজাল হোসেনর (৪০) নামের আরও দুই ধান কাটা শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে উপজেলা কৈগ্রাম মাঠে ধান আনতে গিয়ে ফিরোজ হোসেন (২৫) নামের এক কৃষক আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল এর ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে দু’দিন আগে ধান কাটার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২২ জন ধান কাটা শ্রমিক আসেন। ঠেঙ্গাপাকুরিয়া মাঠে ধান কাটতে গিয়ে আকাশে কালো মেঘ দেখে কাজের বিরতি দিয়ে তাদের নির্ধারিত টিনের ছাপড়া ঘরে উঠেন শ্রমিকরা। হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাত ঘটলে টিনের ছাপড়াসহ আশপাশের দুটি গাছ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় শ্রমিক সম্রাটসহ তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাটকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে একজন শ্রমিক নিহত ও পৃথক স্থানে আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েছি।

বগুড়ার গাবতলীতে বৃষ্টির মধ্যে ধান গাছে পলিথিন দেওয়ার সময় বজ্রাঘাতে সুমন মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোনারায় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল জানান, মৃত সুমন মিয়া উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। রোববার বেলা ২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় সুমন জমিতে থাকা ধান রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার জন্য বাড়ির কাছে মাঠে যান। তখন হঠাৎ বজ্রপাত হলে সুমন অচেতন হয়ে পড়ে যান।

মৃতের ভাই ও সোনারায় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রঞ্জু মিয়া জানান, আহত ভাই সুমনকে উদ্ধার করে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, সুমন লেখাপড়া বাদ দিয়ে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। পাশাপাশি জমি ও সংসার দেখাশোনা করতেন।

এছাড়া পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

img

বজ্রপাতে ৪ জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ  সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন, নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে বজ্রপাতে নিহতের এসব ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট (ফেরি) এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী মুজিবুর রহমান জানান, সকালে তারা তিনজন খালিয়াজুরীর ধনু নদে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে যান। হঠাৎ বজ্রপাত হলে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে।

অন্যদিকে, উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরের ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। তিনি ওই গ্রামের নেকবর খাঁর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ধান শুকানোর সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যান।

এ ছাড়া, বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার আকনাদিঘির চর এলাকায়।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যু বজ্রপাতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার পৃথক স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময় সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শফিক বলেন, বজ্রপাতে আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম-সংলগ্ন গড়দার হাওরে এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে।

এ ছাড়া, বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা মান।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন মৃত আফছার মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন এবং পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, আরাফাত আজ দুপুরে বাদাম শুকাতে দিয়েছিলেন। বৃষ্টি শুরু হলে সেই বাদাম আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।