img

ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ

প্রকাশিত :  ১৬:৩৬, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ

যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জয়জয়কার থাকলেও ওয়েলস পার্লামেন্টে (সেনেড কামরি) এখনও কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। 

ব্রিটিশ বাংলাদেশী  ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হারুন-অর-রশিদ আসন্ন Senedd election 2026-এ Welsh Liberal Democrats-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নে মোল্লাপাড়া গ্রামে জন্ম হারুন-অর-রশীদের । ধুলোমাখা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর। পড়াশোনা ও কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে  আসেন। শুরুতে সংগ্রাম ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবসা, কমিউনিটি কাজ ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

রাজনৈতিক উত্তারিধাকার নিয়েই পথচলা শুরু, ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনই। নেতৃত্ব তাঁর স্বভাবজাত, স্কুল ক্যাপ্টেন থেকে শুরু,কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি,জিএস নির্বাচন করেছেন হারুন।  সমানুষের জন্য কাজ করার অদম্য সেই প্রয়াস, প্রবাসে ও ধারণ করে চলেছেন ,দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে অনুধাবন করেছেন অনেক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে থেকেই সম্ভব। আর সেই কারণেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে সংসদ নির্বাচন কে বেছে নিয়েছেন। 

মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি  নির্বাচনী  সাওয়ার হয়েছেন, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি। এছাড়া ছোট ব্যবসা, অভিবাসী কমিউনিটি এবং তরুণদের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করতে চান হারুন। 

তিনি বলেন, আমাদের কমিউনিটি অনেক অবদান রাখছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে থাকে। আমি চাই তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক—শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায়। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলাও  খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমি বিভিন্ন সংগঠন, চ্যারিটি ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করেছে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান ভাবতে শিখিয়েছে।

পাশাপাশি সাংবাদিকতা আমাকে মানুষের কথা শুনতে ও সত্য তুলে ধরতে শিখিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। এটি আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবভিত্তিক করেছে।

আর  তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তারা যেন সচেতনভাবে ভোট দেয় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নেয়। আমি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চাই।

আমি চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

কমি৭নিটির উদ্দেশ্য  বলেন, আমি আপনাদেরই একজন। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবো। 

উল্লেখ্য এবার  ওয়েলস পার্লামেন্ট (সেনেডের )আসন\" সংখ্যা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৯৬ করা হয়েছে এবং নতুন নির্বাচনী পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে, 

১৯৯৯ সালে ওয়েলস পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি \'মেম্বার অব দ্য সেনেড\' (এমএস) হিসেবে নির্বাচিত হননি।স্বল্প জাতিগত বৈচিত্র্য: বিদায়ী ষষ্ঠ সেনেডে (২০২১-২০২৬) ৬০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩ জন (৫%) ছিলেন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর। এর মধ্যে ভন গেথিং (সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার), নাতাশা আসগর এবং আলতাফ হুসাইন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তাদের কেউই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নন।

 ২০২৬-এর প্রার্থী তালিকা: আসন্ন নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকায় কিছু বাংলাদেশি নাম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কার্ডিফ ও সোয়ানসি অঞ্চলের তালিকায়  হারুন-অর - রশিদ ও দিলওয়ার আলী-র মতো প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।

ওয়েলসে বাংলাদেশিরা পিছিয়ে থাকলেও ব্রিটেনের অন্য অংশে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন:

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট: রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক ও আফসানা বেগমের মতো চারজন দাপুটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

২০২১ সালে ফয়সল চৌধুরী প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সেনেডের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ওয়েলসের বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের মতে, শুধুমাত্র প্রার্থী হওয়াই যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলগুলোকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যোগ্য প্রার্থীদের তালিকার উপরের দিকে স্থান দিতে হবে যাতে তাদের নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আগামী ৭ মে-র নির্বাচনই বলে দেবে, ওয়েলস পার্লামেন্টের দরজায় শেষ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির নামফলক উঠবে কি না।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে লাইসেন্স ছাড়া এইচএমও পরিচালনা: ভাড়াটিয়ারা পেলেন ৩১ হাজার পাউন্ডের বেশি ক্ষতিপূরণ

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বেথনাল গ্রিনে একটি শেয়ার করা ফ্ল্যাটে বসবাসকারী পাঁচজন ভাড়াটিয়া মোট ৩১ হাজার পাউন্ডেরও বেশি ভাড়া ফেরত পাওয়ার আদেশ পেয়েছেন, কারণ ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে এসেছে যে দীর্ঘ সময় ধরে ওই সম্পত্তিটি লাইসেন্সবিহীন হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেশন (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।

৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, হাউজিং এ্যাক্ট ২০০৪–এর অধীনে মিও রিয়েল এস্টেট লিমিটেড অপরাধ করেছে, কারণ তারা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অতিরিক্ত এইচএমও লাইসেন্সিং স্কিমের আওতায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই ছয় বেডরুমের একটি শেয়ার করা ফ্ল্যাট পরিচালনা করেছে।

ট্রাইব্যুনাল প্রতিটি ভাড়াটিয়ার পরিশোধিত ভাড়ার ৭০ শতাংশ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা আইনভঙ্গের গুরুত্ব এবং বাড়িওয়ালার আচরণকে প্রতিফলিত করে। এছাড়াও ৭৭৭ পাউন্ড ট্রাইব্যুনাল ফি ফেরত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি সম্পর্কিত ফ্ল্যাট ৫, প্যারিস হাউস, ওল্ড বেথনাল গ্রিন রোড, ই২–এর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাউন্ড ফ্লোর ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কমপক্ষে ছয়জন অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একসঙ্গে বসবাস করতেন এবং যৌথ সুবিধা ব্যবহার করতেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসে এপ্রিল ২০১৯ থেকে অতিরিক্ত এইচএমও লাইসেন্সিং চালু রয়েছে, যার আওতায় দুই বা ততোধিক পরিবারভুক্ত তিন বা তার বেশি ব্যক্তি বসবাস করলে সম্পত্তির লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। যদিও বাড়িওয়ালা স্বীকার করেছেন যে সম্পত্তিটির লাইসেন্স প্রয়োজন ছিল, তবুও সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি, যা ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর এবং কাউন্সিলের এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম শুরুর অনেক পরে।

ট্রাইব্যুনাল সেই দাবি গ্রহণ করেনি যে কোম্পানিটি কেবল ফ্রি-হোল্ডারের পক্ষে কাজ করছিল। বরং রায়ে বলা হয়, মিও রিয়েল এস্টেট লিঃ–ই ভাড়াটিয়াদের তাৎক্ষণিক বাড়িওয়ালা, কারণ তারা লিজ গ্রহণ করেছিল, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল এবং ভাড়া সংগ্রহ করেছিল।

যদিও ট্রাইব্যুনাল মেনে নেয় যে কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভাঙেনি, তবুও বিচারক স্পষ্ট করেন যে এটি কোনোভাবেই “যৌক্তিক অজুহাত” নয়। রায়ে বলা হয়, যারা ভাড়া ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের লাইসেন্সিং সংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকা উচিত, বিশেষ করে এমন একটি এলাকায় যেখানে বহুদিন ধরে অতিরিক্ত লাইসেন্সিং স্কিম কার্যকর রয়েছে।

ভাড়া ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণের সময় ট্রাইব্যুনাল বাড়িওয়ালার দুর্বল আচরণও বিবেচনায় নেয়, যার মধ্যে ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সঠিকভাবে সুরক্ষিত না রাখার প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই রায় নিশ্চিত করে যে লাইসেন্সিংয়ের দায়িত্ব শুধু ফ্রি-হোল্ডারের ওপর নয়, বরং যারা বাস্তবে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে তাদের ওপর বর্তায়। যারা ভাড়া চুক্তি দেয় এবং ভাড়া সংগ্রহ করে, তাদেরই আইন মেনে চলার দায় রয়েছে, ব্যবস্থা যেভাবেই বর্ণনা করা হোক না কেন।

ভাড়াটিয়াদের জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে রেন্ট রিপেমেন্ট অর্ডার (আরআরও) এখনো একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, বিশেষ করে যখন বাড়িওয়ালারা মৌলিক আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন।

রেন্ট রিপেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে ভাড়াটিয়া বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইনভঙ্গের ক্ষেত্রে, যেমন লাইসেন্সবিহীন এইচএমও পরিচালনা - সর্বোচ্চ দুই বছরের ভাড়া ফেরত দাবি করতে পারে। ফলে এটি আইন প্রয়োগ ও ভাড়াটিয়াদের সরাসরি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার একটি কার্যকর উপায়।

টাওয়ার হ্যামলেটসে কাউন্সিল সরাসরি ভাড়াটিয়াদের আরআরও দাবি করতে সহায়তা করে, যাতে তারা ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া বুঝতে পারে এবং শক্ত মামলা উপস্থাপন করতে পারে। এই সহায়তা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে, কাউন্সিল ভাড়াটিয়াদের জন্য মোট £১,৩১৭,৪৮৩.০৯ উদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে:

£৮৮০,৬৪০.৬৯ অতিরিক্ত লাইসেন্সিং স্কিমের মাধ্যমে

£৩৯৮,০৪৭.৪০ সিলেকটিভ লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে

£৩৮,৭৯৫ বাধ্যতামূলক HMO লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস এমন কয়েকটি কাউন্সিলের মধ্যে একটি, যারা ভাড়াটিয়াদের জন্য এ ধরনের হাতেকলমে সহায়তা প্রদান করে। অধিকাংশ অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এ ধরনের মামলা বাহ্যিক পরামর্শ সেবার কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এই রায় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সরকার রেন্টারস‘ রাইটস্ এ্যাক্ট  কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য বেসরকারি রেন্টালমার্কেটের মানোন্নয়ন, আইন প্রয়োগ জোরদার করা এবং আইন ভাঙলে ভাড়াটিয়াদের জন্য আরও স্পষ্ট প্রতিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং ও রিজেনারেশন বিভাগের কর্পোরেট ডিরেক্টর ডেভিড জয়েস বলেন: “এই ফলাফল প্রমাণ করে যে ভাড়াটিয়াদের কখনোই অনিরাপদ বা অবৈধ বাসস্থান মেনে নিতে হয় না। যেখানে বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, সেখানে কাউন্সিল ব্যবস্থা নেবে এবং বাসিন্দাদের সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার আরও শক্তিশালী হওয়ার এই সময়ে, এই মামলা স্পষ্ট করে দেয় যে টাওয়ার হ্যামলেটসে আমরা আমাদের এনফোর্সমেন্ট ক্ষমতা ব্যবহার করেই যাব।”


 

কমিউনিটি এর আরও খবর