img

নিউমার্কেটে গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন

প্রকাশিত :  ১৯:১২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিউমার্কেটে গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যুবকের পরিচয় জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তে পর দেখা যায়, গুলিতে নিহত ব্যক্তি ২০০১ সালে ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। 
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ দুই দশক কারাগারে থাকার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এই নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের সঙ্গে টিটনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সম্পর্কের দিক থেকে নিহত টিটন ছিলেন ক্যাপ্টেন ইমনের শ্যালক। এই পারিবারিক ও অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় টিটন নীলক্ষেত সংলগ্ন বটতলা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, টিটনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে। এর মধ্যে মাথায় তিনটি, হাতের বাহুতে একটি এবং বগলের নিচে একটি গুলি লাগে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ঘাতকদের ধাওয়া করার চেষ্টা করলেও তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এলাকা ত্যাগ করে। হামলাকারীদের মাথায় ক্যাপ এবং মুখে মাস্ক থাকায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে জেলখানা থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীর মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন। তবে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সহিংস অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। জনবহুল এই এলাকায় এমন দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ জগতের পুরনো শত্রুতা ছাড়াও এই খুনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

img

বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদীর পানি, দেশের ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

গতকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে  ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আর এই বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বাকি তিন জেলায় বন্যা হতে পারে, কারণ এসব জেলার নদ–নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে এখন যে বৃষ্টি আছে তা আরও অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্যই এ অবস্থা।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।

গতকাল রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার, ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আজ প্রথম আলোকে বলেন, এ বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে তা নয়। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি চলতে পারে আগামী ৪ মে পর্যন্ত।

বিপৎসীমার ওপরে চার নদীর পানি 

দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু বাদ দিয়ে বাকি তিন নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এর বাইরে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব নদী আকারে ছোট। তাই ভারী বৃষ্টি হলে এভাবে পানি বেড়ে যায়।

বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই প্রকৌশলী।