img

বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৫:৩২, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরে দুজন, পটুয়াখালীতে দুজন, ময়মনসিংহে একজন, রাজবাড়ীতে একজন, রংপুরে একজন, শরীয়তপুরে একজন ও বরগুনায় একজন মারা গেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের ৭ জেলায় এসব মৃত্যু হয়।

বজ্রপাত কেড়ে নিল খামারির স্বপ্ন / বেশিরভাগ গরুই প্রস্তুত করা হয়েছিল কোরবানিতে বিক্রির আশায়

জামালপুর : বুধবার সকালে জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, মো. শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮)। শামীম মিয়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে এবং সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার মো. স্বাধীনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৬টার দিকে শামীম নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে সকাল ৯টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দুল্লামারী এলাকায় এলজিইডির আওতায় একটি সড়কের নির্মাণকাজ চলার সময় বজ্রপাতে সাগর ইসলামের মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী : দুপুরে বজ্রপাতে কলাপাড়া উপজেলার নয়াকাটা গ্রামে জহির চৌকিদার (২৮) ও পূর্ব চাকামইয়া গ্রামের সেতারা বেগমের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। মৃত জহির ওই একই গ্রামের ইউনুস চৌকিদারের ছেলে এবং সেতারা বেগম চাকামইয়া গ্রামের বাদশা হাওলাদারের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরে জহির তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ক্ষেতে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সেতারা বেগম গরু নিয়ে নিজ বাড়ির পাশে খোলা মাঠে ঘাস খাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজবাড়ী : জেলার সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মণ্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বজ্রপাতের সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে তিন বছরের শিশুটি কোল থেকে পড়ে গেলেও প্রাণে বেঁচে যায়। মৃত সুমন মণ্ডল মজ্জৎকোল গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে। জানা গেছে, সকাল পৌনে ৭টার দিকে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে বাজার করতে যাচ্ছিলেন সুমন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।

রংপুর : তারাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের স্ত্রী।

ময়মনসিংহ : তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত সাদ্দাম হোসেন ওই একই এলাকার মৃত হামেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তারাকান্দা থানার ওসি তানবীর আহমেদ জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর : নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকারের সময় বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকার করছিলেন তিনি। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে রাজিবের শরীর ঝলসে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজিবের লাশ নদীর তীরে তুলে আনেন।

বরগুনা : গতকাল দুপুরে আমতলীতে বজ্রাপাতে নুর জামাল (৫৪) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বিকেলে আমতলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী নুর জামালের বাড়ি যান। এ সময় তার পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেন।


img

টিটন আমার বন্ধু, ওকে আমি ভালোবাসতাম: হত্যার মূল অভিযুক্ত পিচ্চি হেলাল

প্রকাশিত :  ০৭:৪৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের কোনো জড়িত থাকা নেই বলে দাবি করেছেন ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল। বুধবার রাতে তিনি জানান, টিটনের সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তাকে তিনি বন্ধুর মতোই ভালোবাসতেন।

খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল। বুধবার রাতে তিনি বলেন, টিটনের সঙ্গে তার ‘চমৎকার সম্পর্ক’ ছিল এবং তাকে তিনি ‘বন্ধু হিসেবে ভালোবাসতেন’।

হেলাল অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম অপরাধচক্রের প্রভাবেই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে তার নাম সামনে আনা হচ্ছে। তার দাবি, তার কোনো \'কিশোর গ্যাং\' বা সন্ত্রাসী বাহিনী নেই; বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে সহজেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।

টিটন হত্যার বিষয়ে হেলাল বলেন, নিহত টিটন অতীতে তার সঙ্গে টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিটন জীবিত অবস্থায় তাকে জানিয়েছিলেন যে প্রতিপক্ষ সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমন একাধিক মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে এবং হত্যার আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছিলেন। হেলাল আরও দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইমনের স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত বলেও মনে করেন হেলাল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিটনের ওই এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল না; তাকে \'টোপ দিয়ে\' সেখানে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, \'মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ডাটা ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে কে বা কারা তাকে সেখানে ডেকেছিল এবং কারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল।\' প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে জোর দিয়ে বলেন তিনি।

মামলার এজাহারের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হেলাল। তার দাবি, একটি অনলাইন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকার \'পরিকল্পিত\' এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে \'চাপ দিয়ে\' কথা বলানো হয়েছে। এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নিহতের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট কিছু নাম যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, \'ঘটনার আগ পর্যন্ত যাদের নাম সামনে আসছিল, পরদিনই এজাহারে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়—এটা স্বাভাবিক নয়।\' ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে \'হার্ট সংক্রান্ত বিরোধের গল্প\' দাঁড় করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন হেলাল। তার অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও অপরাধ চললেও তা কার্যকরভাবে দমন করা হয়নি। তিনি বলেন, \'একটি ঘটনা ঘটলে কিছুদিন তৎপরতা দেখা যায়, পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়—এই সুযোগেই অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।\' অতীতের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেও একই চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হেলাল বলেন, তিনি দেশে থেকেই সব অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে কথা বলতেন না। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার দাবিও জানান তিনি। হেলাল বলেন, \'সত্য উদঘাটন না হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার হবে।\'