img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য ফ্রি কাউন্সিল ট্যাক্স ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৮:০০, ১৪ মে ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য ফ্রি কাউন্সিল ট্যাক্স ঘোষণা

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল বারার ফস্টার কেয়ারারদের জন্য বড় ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফস্টার কেয়ারাররা ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে শতভাগ কাউন্সিল ট্যাক্স মওকুফ সুবিধা পাবেন।
একজন শিশুর জীবন বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সচেতনতামূলক প্রচারণা পক্ষ \"ফস্টার কেয়ার ফোর্টনাইট\" উদযাপন উপলক্ষে ট্যাক্স ফ্রীর এই ঘোষণা আসে। বাচ্চাদের পিতৃ-মাতৃ স্নেহে প্রতিপালন বা ফস্টারিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আরও মানুষকে এই কাজে যুক্ত হতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে \"ফস্টার কেয়ার ফোর্টনাইট\" পালন করা হয়েছে।
কাউন্সিল জানিয়েছে, যে কেউ ফস্টার কেয়ারার হতে পারেন। ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, যৌন অভিমুখ বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এখানে বাধা নয়। মূল প্রয়োজন হলো একটি শিশুর জন্য নিরাপদ, ভালোবাসাপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার সক্ষমতা।
নতুন নীতিমালার আওতায়, যারা ফস্টার কেয়ারার হিসেবে নিবন্ধন করবেন, তারা প্রথম বছরের অনুমোদন শেষে রেট্রোস্পেকটিভভাবে এই কর মওকুফ সুবিধা পাবেন। এই সুবিধা ফস্টার কেয়ারারদের জন্য বিদ্যমান ভাতা ও আর্থিক সহায়তার অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করা হবে। পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ফস্টার কেয়ারারদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্যারেন্টিং দক্ষতা উন্নয়ন এবং থেরাপিউটিক সহায়তাও প্রদান করে থাকে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাউন্সিল দুই সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তথ্যবহুল স্টলসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ফস্টারিং বিষয়ে হাঁটা কর্মসূচি, লিফলেট বিতরণ এবং কমিউনিটি ইভেন্ট, যার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফস্টার কেয়ারার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হবে।

স্থানীয় ফস্টার কেয়ারার আফিয়া বলেন, “ফস্টারিংয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে দেখা। অনেক শিশুই প্রথমে ভীষণ উদ্বিগ্ন ও ভীত থাকে, কিন্তু ধৈর্য, ভালোবাসা ও যত্নের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তন চোখে পড়ে। এতে আমি গর্ববোধ করি যে, আমি তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছি।”
এ বিষয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “যারা একটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশ দিতে পারেন, তাদের সবাইকে আমি ফস্টার কেয়ারার হওয়ার কথা ভাবতে উৎসাহিত করব। এটি সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার একটি অসাধারণ উপায় এবং একটি তরুণ জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের ফস্টার কেয়ারাররা আমাদের কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ - তাদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য এই উদ্যোগ একটি ছোট পদক্ষেপ।”
টাওয়ার হ্যামলেটস লন্ডনের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এবং জনবহুল এলাকা। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক আউটপুট প্রদান করে এবং টাওয়ার অব লন্ডন, ভিকটোরিয়া পার্ক, ক্যানারি হোয়ার্ফ এবং স্পিটালফিল্ডস -এর মতো জনপ্রিয় স্থানসমূহের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। একই সঙ্গে এটি লন্ডনের অন্যতম বৈচিত্র্যময় ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা।
ফস্টার কেয়ারার হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইট (https://www.towerhamlets.gov.uk/lgnl/health__social_care/fostering,_adopting_and_looked/fostering/fostering.aspx) ভিজিট করতে পারেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমামের যাবজ্জীবন, ‘জিনের আছর’ তাড়ানোর নামে করতেন যৌন নিপীড়ন

প্রকাশিত :  ১৩:১৪, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪৬, ১৫ মে ২০২৬

নারী ও শিশুদের যৌন হয়য়ানি ও পাশবিক নির্যাতনের দায়ের কারণে লন্ডনের একটি আদালত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খানকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ( ১৪ মে) স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্ট এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

সাজা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির আবেদনের আগে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

আব্দুল হালিম খান ‘জিনের আছর’ বা অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে এই যৌন নিপীড়ন চালাতেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট ৭ জন ভুক্তভোগীর ওপর ২১টি ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করেছেন আব্দুল হালিম খান। এর মধ্যে ৯টি ধর্ষণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর ৫টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সাবেক এই ইমামের কর্মকাণ্ডকে বিচারক লেসলি কাথবার্ট ‘পরিকল্পিত এবং দীর্ঘস্থায়ী যৌন লালসা চরিতার্থ করার অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আব্দুল হালিম খান অত্যন্ত সুকৌশলে ‘জিনের আছর’ বা অশুভ শক্তির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বশে রাখতেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক দাবি করে তিনি বলতেন, তিনি জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ ছাড়া পরিবারের ক্ষতি করার জন্য কালো জাদুর হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতেন। এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে ফেলে তিনি ১২ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন চালিয়েছেন।

শৈশবে নির্যাতিত হওয়া এক নারী আদালতে বিচারককে বলেন, ‘আমার কাছে খান কোনও মানুষ নয়, সে সাক্ষাৎ শয়তান।’ অপর এক ভুক্তভোগী জানান, খান তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার মিথ্যা ভয় দেখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন কেবল তিনিই এর প্রতিকার করতে পারেন। এরপর তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

লিড প্রসিকিউশন ব্যারিস্টার সারাহ মরিস কেসি বলেন, খান অত্যন্ত চতুরভাবে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর