img

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি আবারও বাতিল

প্রকাশিত :  ০৮:৫২, ১৮ মে ২০২৬

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি আবারও বাতিল

শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে বিবাদী পক্ষের করা এক জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার পূর্বনির্ধারিত শুনানি আবারো বাতিল করা হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে সোমবার (১৮ মে) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আদালতে জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক নথিতে নেতানিয়াহুর আইনজীবী আজকের অধিবেশনটি অবিলম্বে বাতিলের অনুরোধ জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অত্যন্ত গোপনীয় কিছু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী আদালতে উপস্থিত হতে পারছেন না। এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট এবং সংবেদনশীল তথ্যগুলো একটি সিলগালা খামে আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই আলোচিত ট্রায়ালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর তিনটি পৃথক মামলার বিচার চলছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এরপর থেকেই তার জেরা প্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিগত ২০২৫ সাল এবং চলতি বছরের শুরু থেকেই নেতানিয়াহুর আইনি দল ধারাবাহিকভাবে আদালতের কাছে শুনানির সময় পেছানোর আবেদন করে আসছে। প্রতিবারই এই বিলম্বের কারণ হিসেবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, জরুরি কূটনৈতিক ব্যস্ততা এবং তীব্র নিরাপত্তা সূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে সমালোচকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে এবং আদালতের হাত থেকে বাঁচতে ইচ্ছাকৃতভাবে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু

প্রকাশিত :  ০৬:৪৩, ১৯ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বা অস্বস্তি অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে যেখান থেকে এসেছিল সেই রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। 

নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী তা পূরণ করবে। তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত রোববার (১৭ মে) কলকাতার পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছোড়ার ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে এবং আহত তিন পুলিশকর্মীর সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গুন্ডামি, তোলাবাজি কিংবা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অশান্তির ঘটনায় রাজ্য সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা এই ক্ষতি করেছে তাদের গ্রেফতার করে ‘২০০ শতাংশ উসুল’ বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

একই দিনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে পরিচালিত সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাজ কি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়া, নাকি শিক্ষার উন্নতি ও চাকরির ব্যবস্থা করা? তিনি জানান, ভাতার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে দেওয়া হবে, যাতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো তোষণের রাজনীতি চলবে না।

অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে চারটি বুথ রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই মমতা হেরেছেন এবং বিজেপি লিড পেয়েছে। যে নেত্রী নিজের বুথেই জিততে পারেন না, রাজ্যের মানুষ তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ চারজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাদের একাধিক সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজরা এতদিন ধরে যা লুটপাট করেছে, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে তাদের কারাগারে পাঠানোর কাজ করা হবে। অবসান ঘটবে গত ১৫ বছরের বিধায়কদের নিষ্ক্রিয়তার এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুতই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সূত্র: এবিপি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর