img

“আরেকটি সাফল্য, আরেকটি ইতিহাস, আরেকটি আয়োজন”

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ১৮ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৯, ১৮ মে ২০২৬

২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন

“আরেকটি সাফল্য, আরেকটি ইতিহাস, আরেকটি আয়োজন”

লন্ডন: ২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আবারও মহান সাফল্যের সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে। মাইল এন্ড রোড, লন্ডন E1-এর জেনেসিস সিনেমায় পূর্ণ দর্শক সমাগমের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

রৌদ্রোজ্জ্বল দিন এবং সত্যিকারের উৎসবমুখর পরিবেশে চলচ্চিত্রপ্রেমী, শিল্পী, অতিথি ও নির্মাতাদের এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানটি। ডালিয়া রহমানের সৌজন্যে একই রকম লাল শাড়ি পরে অনেক নারীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় ও বর্ণিল করে তোলে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সৈয়দা সাইমা আহমেদ। ট্রেইনি পরিচালক সামির কামাল ও অমি খান এ বছরের উৎসবে তাদের অভিজ্ঞতার কথা দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

উৎসব পরিচালক মি. মোস্তফা কামাল সকল অতিথিকে স্বাগত জানান এবং রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের দীর্ঘ ২৭ বছরের ইতিহাস ও যাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি আগামী পুরো সপ্তাহব্যাপী চলমান উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সোনালী পে-এর মি. খাজা মাসুম বিল্লাহ এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের BLOC-এর মি. রুপার্ট ড্যানরয়থার।

অনুষ্ঠানে এ বছর প্রয়াত রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির ট্রাস্টি মিস জয়স্রী কবিরকেও স্মরণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান “আনন্দলোকে” দলীয়ভাবে পরিবেশন করা হয় এবং পুরো দর্শকও গানে অংশগ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “আগন্তুক” প্রদর্শনের মাধ্যমে।

সফল এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে, রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব লন্ডনে বহুসাংস্কৃতিক চলচ্চিত্র, শিল্পচর্চা এবং কমিউনিটি সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, ২৭তম এবারের এই উৎসবে প্রায় দশটি দেশের ৪০ টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, সাউথ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, তাজাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া, চীন, ইরান, আরমেনিয়া এবং ইউক্রেন।

চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে তা হলো: ‘আগন্তুক’, ‘নয়া মানুষ’, ‘উড়াল’, ‘নয়া নোট’, ‘দ্য স্টোরি অফ এ রক (বাংলা)’, ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাংখারপুল’ (বাংলা)।

ভারতের বাংলা সিনেমাগুলো হলো: ‘যত কাণ্ড কলকাতায়’, ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘স্বার্থপর’, ‘অংক কি কঠিন’, ‘রাগু ডাকাত’ এবং ‘বিজয় নগরীর হীরে’। 

এছাড়া ইরানের ‘They loved me’, ‘Gageriev’, ‘He does not sleep’, ‘Whispar my name’.

রাশিয়ার ‘The Mystery of black hand’.

চায়নার ‘The shore of life’.

সাউথ কোরিয়ার Drained by dream’.

কিরগিজস্তানের ‘Zhara’ এবং ‘KURAK’.

তাজাকিস্তানের ‘Mohi Dar’.

ফিলিপাইনের ‘Republika ng Pipolipinas’. এছাড়া থাকছে অনেকগুলো শর্ট ফিল্ম। প্রতিটি সিনেমায় ইংলিশ সাব টাইটেল থাকবে। 

সোমবার ১৮ই মে থেকে ২৩শে মে শনিবার পর্যন্ত এই উৎসব চলবে মাইল্যান্ডে অবস্থিত কুইনমারি ইউনিভার্সিটির আর্টস ওয়ান বিল্ডিংয়ের ‘ব্লক’ হলে। প্রতিদিন দুটি করে সিনেমা প্রদর্শিত হবে বিকেল চারটায় এবং সাড়ে পাঁচটায়।

২৩শে মে সমাপনী দিনে কুইনমারি ইউনিভার্সিটির আর্টস ওয়ান ব্লিডিংয়ের 'ব্লক' হলে সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় বাংলা সিনেমা 'স্বার্থপর' দর্শনীর বিনিময়ে দেখতে হবে, তবে

১৮ই মে থেকে ২৩শে মে (বিকাল চারটা) পর্যন্ত যে সকল চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে তাতে টিকেট লাগবেনা।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৫:৩৮, ১৯ মে ২০২৬

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে নিজেই পুলিশে ফোন করেন ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শরীরে ভয়াবহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, যাতে নিহতদের পরিচয় সুরক্ষিত থাকে। তাকে গ্রেফতার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল ‘চরম মানসিক বিপর্যস্ত’ অবস্থায় আছেন।

তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান আইনজীবী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জন করতেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে তারা বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো নিহতদের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাড়িতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত। আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর সবসময়ই ভয়াবহ। কিন্তু যখন সেটা নিজের এলাকায় ঘটে, তখন তা বিশ্বাস করা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

এক নারী বাসিন্দা নিজের বাগান থেকে ফুল কেটে ঘটনাস্থলে রেখে আসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? তারা তো শিশু, একেবারে শিশু।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও শোকাহত, আমিও তেমনই।’

তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত অপারেশন অ্যামারক অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।


কমিউনিটি এর আরও খবর