টাওয়ার হ্যামলেটসে নতুন ফ্যামিলি হাবস্ ওয়েবসাইট চালু উপলক্ষে বিশেষ টাউন হলে বিশেষ অনুষ্ঠান আজ
প্রকাশিত :
০০:০৩, ১৯ মে ২০২৬
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আজ ১৯ মে মঙ্গলবার টাউন হলে নতুনফ্যামিলি হাবস্ ওয়েবসাইটআনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে স্থানীয় পরিবারগুলোকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে পরিবারগুলোর জন্য থাকবে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক সেশন এবং সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ। এখানে উপস্থিত থেকে পরিবারগুলো টাওয়ার হ্যামলেটস জুড়ে শিশু, তরুণ এবং অভিভাবকদের জন্য উপলব্ধ বিভিন্ন সেবা, সহায়তা ও সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
নতুন ফ্যামিলি হাবস্ওয়েবসাইটটি পরিবারগুলোকে সহজভাবে প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, প্যারেন্টিং সাপোর্টসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে, যা পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
এই আয়োজনটি কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করার পাশাপাশি পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে। কাউন্সিল সকল পরিবারকে এই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ইভেন্টে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
ইভেন্টে অংশ নিতে এবং আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা নিচের লিংকে গিয়ে তাদের জায়গা বুক করতে পারবেন:https://orlo.uk/zWQvJ
অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি
প্রকাশিত :
০৫:৩৮, ১৯ মে ২০২৬
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে নিজেই পুলিশে ফোন করেন ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শরীরে ভয়াবহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, যাতে নিহতদের পরিচয় সুরক্ষিত থাকে। তাকে গ্রেফতার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল ‘চরম মানসিক বিপর্যস্ত’ অবস্থায় আছেন।
তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান আইনজীবী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জন করতেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে তারা বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো নিহতদের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাড়িতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে না।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত। আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর সবসময়ই ভয়াবহ। কিন্তু যখন সেটা নিজের এলাকায় ঘটে, তখন তা বিশ্বাস করা আরও কঠিন হয়ে যায়।’
এক নারী বাসিন্দা নিজের বাগান থেকে ফুল কেটে ঘটনাস্থলে রেখে আসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? তারা তো শিশু, একেবারে শিশু।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও শোকাহত, আমিও তেমনই।’
তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত অপারেশন অ্যামারক অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।