img

টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি শপিং ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ শনি ও রবিবার

প্রকাশিত :  ০০:০৭, ১৯ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৪, ১৯ মে ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি শপিং ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ শনি ও রবিবার

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হোয়াইটচ্যাপেল রোডস্থ টাউন হলে আগামী ২৩ ও ২৪ মে শনি ও রবিবার অনুষ্ঠিত হবে একটি আনন্দঘন ও প্রাণবন্ত কমিউনিটি ইভেন্ট টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি শপিং ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এই ফেস্টিভ্যালটি শুধুমাত্র কেনাকাটার জন্য নয়বরং মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্যও বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উৎসব শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বেলা ১টা থেকে ২ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ উপস্থাপনা (হেলথ এন্ড ওয়েলবিয়িং প্রেজেন্টেশন)। ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাচ্চাদের ফেস পেইন্টিং, আর্টস এন্ড ক্রাফটস এবং ৫টা থেকে বেলুন মডেলিং অনুষ্ঠিত হবে।

দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখতে পারবেন যেখানে পারফিউমআগর/উদগয়নাশাড়িআর্ট ও ক্রাফট আইটেমনিট করা পণ্য এবং শিশুদের খেলনা (ফিজেট টয়সহ) পাওয়া যাবে।

এছাড়াও পুরো পরিবার নিয়ে উপভোগ করার জন্য রয়েছে নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম, যেমন শিশুদের জন্য ফেস পেইন্টিংআর্ট ও ক্রাফটএবং বেলুন মডেলিং।

ইভেন্টটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিইং প্রেজেন্টেশনযেখানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মানসিক স্বাস্থ্যসুস্থ জীবনযাপন এবং স্থানীয় সেবা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

এই ফেস্টিভ্যালটি কমিউনিটির মানুষদের একত্রিত হওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করবেযেখানে স্থানীয় বাসিন্দাস্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয়মতবিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ থাকবে।

আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই অনন্য আয়োজনে অংশগ্রহণ করুন এবং একটি আনন্দময় কমিউনিটি পরিবেশে মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের নতুন দিক আবিষ্কার করুন

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে পুলিশে খবর দিলেন বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৫:৩৮, ১৯ মে ২০২৬

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর। খবর সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে নিজেই পুলিশে ফোন করেন ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সি স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শরীরে ভয়াবহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, যাতে নিহতদের পরিচয় সুরক্ষিত থাকে। তাকে গ্রেফতার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে হত্যার তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল ‘চরম মানসিক বিপর্যস্ত’ অবস্থায় আছেন।

তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতা, মাদক গ্রহণ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল কিনা—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান আইনজীবী।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জন করতেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে তারা বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ঘরের ভেতর থেকে এমন কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো নিহতদের আঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাড়িতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের নজরে আসেননি এবং তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও ছিল না। পরিবারটির সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও পূর্বে কোনো যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত। আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এ ধরনের পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর সবসময়ই ভয়াবহ। কিন্তু যখন সেটা নিজের এলাকায় ঘটে, তখন তা বিশ্বাস করা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

এক নারী বাসিন্দা নিজের বাগান থেকে ফুল কেটে ঘটনাস্থলে রেখে আসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কীভাবে কেউ এটা করতে পারে? তারা তো শিশু, একেবারে শিশু।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ ও শোকাহত, আমিও তেমনই।’

তিনি জানান, আসন্ন জুন মাসের রাজ্য বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই পারিবারিক সহিংসতা দমনে পরিচালিত অপারেশন অ্যামারক অভিযানে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৯৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চার দিনে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।


কমিউনিটি এর আরও খবর