img

সুমুদ ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক : তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী গভির

প্রকাশিত :  ০৬:১৬, ২১ মে ২০২৬

সুমুদ ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক : তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী গভির

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে গাজাগামী ফ্লোটিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক ও অপমানজনক’ আচরণের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ও জেফ মার্কলি। একই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। খবর আল জাজিরার

ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, বেন-গভিরের এই আচরণ জঘন্য ও অমানবিক। গাজায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জনপদ ও অসহায় পরিবারগুলোর ছবি দেখেই বোঝা যায় কেন মানুষ প্রতিবাদে নামছে।

অপরদিকে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, ক্যামেরার সামনে বেন-গভির বন্দিদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছেন তাতে বোঝা যায়, ক্যামেরার আড়ালে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কী ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই আচরণ ঘৃণ্য। অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত ছিল।

ক্রিস ভ্যান হলেন ও জেফ মার্কলি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। এর আগে তারা গাজার অবরোধের প্রতিবাদ জানাতে রাফাহ সীমান্তও সফর করেছিলেন।

এদিকে, ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে আচরণের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়াও ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভিরের প্রকাশ করা ভিডিওগুলো উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, আটকদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অপমানজনক আচরণের নিন্দা জানাই আমরা।

পেনি ওং আরও জানান, ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া ১১ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের মুক্তি দাবি করেছে ক্যানবেরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বন্দিদের সঙ্গে আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বার্তা পৌঁছে দিতে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভিরের আচরণে আমি বিস্মিত ও মর্মাহত। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তিনি অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি জানান।

এর আগে ইতামার বেন-গভির নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার গাজাগামী কর্মীদের হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় লাউডস্পিকারে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছিল। ভিডিওটির ক্যাপশনে বেন-গভির লেখেন, ইসরায়েলে স্বাগতম।

ফ্লোটিলার কর্মীদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরের (ফ্লোটিলা) ওপর বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজামুখী এ বহরের অন্তত ৪৮টি নৌযান ছিল। নৌযানগুলো থেকে প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ত্রাণবহরের দুটি নৌযান লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনারা গুলিবর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। অবশ্য ইসরাইল দাবি করেছে, তারা কোনো গুলি চালায়নি। এছাড়া তাদের গ্রেপ্তার অভিযানে কেউ হতাহত হননি।

কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রাণবহরের পক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলি সেনারা দুটি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। তবে সেগুলো কী ধরনের গোলাবারুদ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার ৩৯টি দেশের ৪২৬ জন অধিকারকর্মী ও সাহায্যকর্মী নিয়ে দক্ষিণ তুরস্ক থেকে তৃতীয়বারের মতো গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এই ত্রাণবহর। এর আগের দুটি প্রচেষ্টাও আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

দেশে দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব, কড়া প্রতিবাদ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ২১ মে ২০২৬

বিশ্বের বহু দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ গাজামুখী নৌবহরের আটক কর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণের প্রতিবাদে রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

বুধবার (২০ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। এরপরই দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন-গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বিদ্রূপ করছেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গাভিরের এই দৃশ্যগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। ইতালির বহু নাগরিকসহ এসব প্রতিবাদকারীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা তাদের মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারোও বেন-গাভিরের কর্মকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ফরাসি নাগরিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে অটোয়া ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে।

তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি বেসামরিক মানুষের মানবিক আচরণের প্রশ্ন। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

নেদারল্যান্ডসও ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন। তিনি বলেন, বেন-গাভিরের আচরণ মৌলিক মানবিক মর্যাদার পরিপন্থি।

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বলে বুধবার জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং। তিনি ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এর আইনি ভিত্তি কী? এটা কি ইসরায়েলের আঞ্চলিক জলসীমা? সেটি কি ইসরায়েলের ভূখণ্ড? কোনো সংঘাত থাকলেই কি তারা তৃতীয় দেশের জাহাজ জব্দ ও আটক করতে পারে?

পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বেন-গাভিরের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, মানবাধিকারকর্মীদের হাত বেঁধে অপমান ও নির্যাতনের দৃশ্য প্রকাশ করে বেন-গাভির নিজ দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, জার্মানি, পোল্যান্ড, কাতার, স্লোভেনিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কলম্বিয়া ও যুক্তরাজ্যও নিন্দা জানিয়েছে।

এর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক অন্তত ৮৭ জন ব্যক্তি অনশন শুরু করেছেন। এই অনশন অবৈধ আটকের প্রতিবাদে এবং ইসরায়েলি কারাগারে আটক ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দির প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য শুরু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ‘লিনা আল-নাবলুসি’ নামের নৌকায় থাকা ছয়জনকে আটক করেছে বলে আয়োজকরা দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই নৌকাটি ছিল ৫০টিরও বেশি জাহাজের বহরের শেষ জাহাজ। এটি গত সপ্তাহে তুরস্কের বন্দরনগরী মারমারিস থেকে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙা।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার গভীর রাতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী নৌবহরের শত শত অংশগ্রহণকারীকে ইসরায়েলে নিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “আরেকটি প্রচারণামূলক নৌবহর অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে। বহরের ৪৩০ কর্মীকে ইসরায়েলি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা ইসরায়েলের পথে রয়েছে।”


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর