img

হোয়াইট হাউসের কাছে আবার গুলি, পাল্টা গুলিতে নিহত বন্দুকধারী

প্রকাশিত :  ০৫:০৭, ২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:২৮, ২৪ মে ২০২৬

হোয়াইট হাউসের কাছে আবার গুলি, পাল্টা গুলিতে নিহত বন্দুকধারী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা চৌকির সামনে হঠাৎ গুলির শব্দে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকধারীর গোলাগুলি চলে। এসময় মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় সিক্রেট সার্ভিস। একইসঙ্গে পাল্টা গুলিতে নিহত হয় ওই বন্দুকধারী, আহত হন এক পথচারী।  

সিবিসি নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাকালে হোয়াইট হাউসের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর ১৭ নম্বর স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলের একটি নিরাপত্তা চৌকির দিকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি এগিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সে ব্যাগে অস্ত্র লুকিয়ে এনেছিল।

হোয়াইট হাউসের কাছে নিরাপত্তা চৌকিতে ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় তিনি। সঙ্গে সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারী গুরুতর আহত হয়। পরে বন্দুকধারী গুলিবিদ্ধ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। ঘটনার সময় নর্থ লন এলাকায় থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউজের ব্রিফিং রুমে সরিয়ে নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তারা হোয়াইট হাউসের ভেতরের সাংবাদিকদের যে যার জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, ‘হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের কাছে গুলি চলার পর আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। তারা সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সাধারণ মানুষকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে থাকবো।’

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন, হাউস মেজোরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং জানিয়েছেন, রাত ৮টাতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে, গত ৪ মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের কাছে সশস্ত্র এক ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গোলাগুলি হয়।

ওই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের গুলিতে তিনি আহত হন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি তৃতীয় বড় নিরাপত্তা ঘটনা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

img

ইরান আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে প্রায় বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৯:৫১, ২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:২০, ২৪ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় ইসরায়েলকে প্রায় পুরোপুরিভাবে বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে তারা এ তথ্য জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের আলোচনাগুলোতে ইসরায়েল মোটেও যুক্ত ছিল না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টি তারা আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জানতে পারে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থা বদলের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু দুই নেতার সম্পর্কের বর্তমান পরিবর্তনকে নিউইয়র্ক টাইমস উড়োজাহাজের ‘ককপিট (পাইলটের আসন) থেকে ইকোনমি ক্লাসে (পেছনের সারি) পাঠিয়ে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছে। যা ইসরায়েলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

এদিকে আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সংকটের গুঞ্জনকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত সুদৃঢ়। 

নেতানিয়াহুর সক্ষমতা নিয়ে সংশয়

পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলছেন, আসন্ন চুক্তিতে ইসরায়েলের লক্ষ্য বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সক্ষমতা নিয়ে দেশটির ভেতরেই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য চুক্তির খসড়াটি দেখেছেন। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ, ইরান থেকে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পরমাণু প্রকল্পকে চিরতরে বন্ধ করার মতো ইসরায়েলি স্বার্থ ও উদ্বেগের জায়গাগুলো খসড়ায় গুরুত্ব পায়নি।

নিদা ইব্রাহিমের মতে, নেতানিয়াহু তাঁর কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মুখ না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, সংবেদনশীল সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ডিলিংসের’ ক্ষেত্রে তাঁকে বিচক্ষণতার সঙ্গে পা ফেলতে হচ্ছে। ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। আর নেতানিয়াহু গুরুত্বপূর্ণ সেই নির্বাচনের আগে জনগণকে ইরান যুদ্ধে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চুক্তিতে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা না হলে সেটি নেতানিয়াহুর জন্য বড় পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক কর্মকর্তারা লেবানন নিয়েও উদ্বেগে আছেন। কারণ, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

সম্ভাব্য চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। চ্যানেল-১২ এর সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এখনই পিছু হটার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু শঙ্কা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য চুক্তির কারণে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর