ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

img

‘আমার চাচা, চাচাতো ভাই-বন্ধুরা সবাই মারা গেছে’

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ২৫ মে ২০২৬

‘আমার চাচা, চাচাতো ভাই-বন্ধুরা সবাই মারা গেছে’

ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঝড়ে গেলে ১৫ প্রাণ। নিমেষেই শেষ হয়ে গেলে তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ।

আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নওগা জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্র বাড়ি এলাকার সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া, একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর তানুর উপজেলার বাতানপুর এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন, চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নজরুল, মামুন, নওগাঁর নেয়ামতপুর মালঞ্চী এলাকার সাইদুলের ছেলে সারিকুল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাক থেকে বেঁচে ফেরা নওগা জেলার মান্দা উপজেলার রাব্বানি বলেন, চট্টগ্রামের অলংকার থেকে সন্ধ্যার দিকে রওনা হই। ট্রাকের মধ্যে কেউ জেগে ছিল, কেউ ঘুমিয়ে ছিল। আমি নিজেও ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে যখন দুর্ঘটনা হয়, আমি ছিটকে পড়ে যাই। আমার চাচা, চাচাতো ভাই ও বন্ধুরা সবাই মারা গেছে। আমি হকারের কাজ করে বাড়ি ফিরছিলাম।

স্থানীয় বুলবুল সরকার বলেন, ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শব্দ শোনার পর সবাই ঘটনাস্থলে আসি। এমন দুর্ঘটনা কখনো দেখিনি। এক সঙ্গে ১৫ জন নিহত হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গােপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, আজ ভোরে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।তারা সবাই উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী ছিলেন। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি যে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়।মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

img

রাজধানীর কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশিত :  ১৭:৫৭, ২৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৯, ২৫ মে ২০২৬

রাজধানীর কালশী বস্তির আগুন ২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে । সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এর আগে, ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশী বস্তিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে। তবে বাতাসের গতি এবং বস্তির ভেতরের দাহ্য পদার্থের কারণে আগুনের তীব্রতা চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রথমে দুটি ইউনিট কাজ শুরু করার পর আরও তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। এরপর একে একে আরও দুটি এবং একপর্যায়ে ১৩টি ইউনিট একসঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। সর্বশেষ আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় এনে মোট ১৫টি ইউনিট একযোগে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

দুর্ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল তীব্র পানির সংকট। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কালশী এলাকার ওই বস্তি ও তার আশেপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় ফায়ার ফাইটারদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ঠিক কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং কী পরিমাণের ক্ষ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ এর আরও খবর