img

নবীগঞ্জে খাবার কিনতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিশু

প্রকাশিত :  ১৮:৫৮, ২৫ মে ২০২৬

নবীগঞ্জে খাবার কিনতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিশু

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ পানিউম্দা ইউনিয়নের বড়চর গ্রামে ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৯) ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। দোকানে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন তারা।

ওই ছাত্রীকে সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) বিকালে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী গ্রামের দোকানে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের মৃত কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৩৫) ও তার অপর সঙ্গীকে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক পাশের বাঁশঝাড়ের নির্জনস্থানে মুখে গামছা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয়রা মেয়েটির চিৎকারের শব্দ শুনে ধর্ষণকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ছাত্রীর পিতা বাড়িতে না থাকায় সোমবার দুপুরে মেয়েটিকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

ভিকটিমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়েটি খাবার কেনার জন্য স্থানীয় একটি দোকানে যাচ্ছিল। পথে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে নির্জনস্থানে তার মেয়েকে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করেছে একই গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া ও তার সহকর্মী অজ্ঞাত আরেকজন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ধর্ষকদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা বলেন, আমার অবুঝ মেয়ের ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন: অভিযান-জরিমানার পরও সক্রিয় চক্র

প্রকাশিত :  ১৭:৫৫, ২৫ মে ২০২৬

প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিক

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না। প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও পেট্রোলিংয়ের পরও সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন ও পাচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৪ মে) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে কিতাব আলী নামের এক ব্যক্তিকে “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” এর অধীনে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৫ মে) ভোর ৬টা থেকে সিন্দুরখান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পেট্রোলিং চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর, সাতগাঁও, সিন্দুরখান ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে। এসব কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

অবৈধ বালুবাহী ট্রাকের কারণে অতীতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূনবীর ইউনিয়নে পাহাড়ি ছড়া থেকে উত্তোলিত বালু বহনকারী একটি ট্রাকের ধাক্কায় এক বৃদ্ধ ও এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। একইভাবে সিন্দুরখান ইউনিয়নের বাজার এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রশাসনের অভিযান চললেও অধিকাংশ সময় ট্রাকচালক, হেলপার বা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিছুদিন অভিযান বন্ধ থাকলেই আবারও পুরোদমে শুরু হয় বালু উত্তোলন।

এদিকে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের দি হেলদি চয়েজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের পূর্ব পাশের জাগছড়া থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।

কয়েক মাস আগে দৈনিক কালের কণ্ঠ–এর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর এক ফেসবুক পোস্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের তদবিরে এক প্রভাবশালী সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এলাকাজুড়ে আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল অভিযান ও জরিমানায় নয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি ছড়া ও পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।



সিলেটের খবর এর আরও খবর