img

লাউয়াছড়ায় ছিটকে পড়ল তেলবাহী ট্রেনের বগি, সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

প্রকাশিত :  ১৫:৩৬, ২৯ মে ২০২৬

লাউয়াছড়ায় ছিটকে পড়ল তেলবাহী ট্রেনের বগি, সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় তেলবাহী একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বিকেল থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে চলার সময় ট্রেনটির একটি ওয়াগনের চারটি চাকা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের লাউয়াছড়া উদ্যানসংলগ্ন ২৯৪/৮ নম্বর পিলার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মালবাহী ট্রেনটি ঘটনাস্থলেই আটকে পড়ে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আখাউড়াগামী তেলবাহী ওয়াগনের পেছনের একটি বগি পাহাড়ি বাঁক অতিক্রম করার সময় হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রেনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা পরাগ বকুল দাস বলেন, “বিকেলে লাউয়াছড়া উদ্যানে প্রবেশের পর হঠাৎ ধোঁয়া দেখতে পাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি লোকোমাস্টারকে জানালে তিনি ট্রেন থামান। পরে দেখা যায়, একটি ওয়াগনের চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে।”

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে বিভাগের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ বলেন, “বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লাউয়াছড়া বনে তেলবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বিষয়টি রেল বিভাগকে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হলে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব হবে না।”

তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তনগর ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল স্টেশনে আটকে পড়তে পারে।

বারবার দুর্ঘটনার শঙ্কায় লাউয়াছড়া

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মধ্যবর্তী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে চলে গেছে সিলেট-আখাউড়া রেলপথ। পাহাড়ি টিলা, ঘন বন এবং আঁকাবাঁকা রেললাইন মিলিয়ে এলাকাটি যেমন নান্দনিক, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও এই এলাকায় একাধিকবার ট্রেন লাইনচ্যুত বা যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ি ঢাল ও তীক্ষ্ণ বাঁকের কারণে এই পথে ট্রেন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ভারী মালবাহী ট্রেন চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ঈদযাত্রার সময় রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

‘মণিপুরী, চাকমা, গারো—আমরা সবাই জাতিসত্তায় বাংলাদেশী’

প্রকাশিত :  ১৬:১২, ২৯ মে ২০২৬

কমলগঞ্জের খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শনে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে ফুলেল সংবর্ধনা ও শুভ

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে তিনি পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের চেয়ারপার্সন পিডিশন প্রধান সুছিয়াং। এ সময় খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জির প্রধান (মান্রী), প্রতিনিধি এবং আদিবাসী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কমলগঞ্জের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সেখানে মণিপুরী, চাকমা, গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “মণিপুরী, চাকমা, গারো—আমরা সবাই জাতিসত্তায় বাংলাদেশী। এ দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণীয়। “বিএনপি সরকারই দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা স্থানীয় সংস্কৃতিনির্ভর পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর