img

আদ্-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে ৩ জুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:৪৫, ৩০ মে ২০২৬

আদ্-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে ৩ জুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ জমা দেয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগামী ৩ জুন দেয়া হবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন।

আজ শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য এখনো গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কমিটিকে আরও তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ৩ জুন জমা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে একজন মায়ের অনুরোধে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে প্রায় দুই ঘণ্টা এসি বন্ধ ছিল। রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ওই সময়ে কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী দল হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে দিবাগত রাতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ৬ নবজাতক ভর্তি ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের কোনো এক পর্যায়ে ঠান্ডা লাগার কারণে এক মায়ের অনুরোধে কিছু সময়ের জন্য এসি বন্ধ করা হয়। পরে পুনরায় এসি চালু করার পরপরই কয়েকজন নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে ছয়জন নবজাতকই মারা যায়।

ঘটনার পরপরই মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, কারণ স্বজনরা পোস্টমর্টেম না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

 


img

রাজস্বখাত থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক

প্রকাশিত :  ১৬:১৮, ৩০ মে ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। মোস্তাক মিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জুলাই আন্দোলনে সামনের সারির দুই নেতাকে নিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন অভিযোগের একটি বক্তব্যের ৫১ সেকেন্ডের ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে এ নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লার সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। তারা বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এসব টাকা বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুই উপজেলায় (মুরাদনগর ও দেবিদ্বার) বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এসব টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের নয়। 

এর আগে আজ দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মোস্তাক মিয়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এ হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’ এ বক্তব্য ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

এ বিষয়ে সাবেক উপদেস্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ‘ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে। কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সকল উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।’

এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারকে ১০ কোটি টাকা নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই।’

হাসনাত আরও বলেন, ‘রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে প্রশাসক এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

তবে আসিফ ও হাসনাতের বক্ত্যের বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি।


বাংলাদেশ এর আরও খবর