img

রাজস্বখাত থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক

প্রকাশিত :  ১৬:১৮, ৩০ মে ২০২৬

রাজস্বখাত থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। মোস্তাক মিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জুলাই আন্দোলনে সামনের সারির দুই নেতাকে নিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন অভিযোগের একটি বক্তব্যের ৫১ সেকেন্ডের ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে এ নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লার সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। তারা বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এসব টাকা বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুই উপজেলায় (মুরাদনগর ও দেবিদ্বার) বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এসব টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের নয়। 

এর আগে আজ দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মোস্তাক মিয়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এ হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তাঁরা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সেটা ছিল না।’ এ বক্তব্য ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

এ বিষয়ে সাবেক উপদেস্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ‘ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে। কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সকল উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।’

এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারকে ১০ কোটি টাকা নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই।’

হাসনাত আরও বলেন, ‘রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে প্রশাসক এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

তবে আসিফ ও হাসনাতের বক্ত্যের বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি।


img

ডাকাতিয়া নদী সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা, ১৮ ঘণ্টা পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১১:৩৩, ৩০ মে ২০২৬

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কেটে ডাকাতিয়া নদী পার হতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া কলেজছাত্র মোহাম্মদ শিহাবের (১৮) মরদেহ ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সংযোগস্থল জাকজোর-নারান্দিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী থেকে ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে নদী পার হওয়ার সময় তিনি নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ।

শিহাব নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের রোকন আহমেদ শিফনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নৌবাহিনী কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে শিহাব তার দুই বন্ধুর সঙ্গে পাশের গ্রামে তালের আঁটি সংগ্রহ করতে যান। পরে জুমার নামাজের সময় হলে দ্রুত মসজিদে ফেরার জন্য তিন বন্ধু ডাকাতিয়া নদী সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই বন্ধু নিরাপদে তীরে উঠলেও শিহাব নদীর মাঝপথে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল এনে বিকেলে অভিযান চালানো হলেও সন্ধ্যার আগে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে রাতের কারণে অভিযান স্থগিত রাখা হয়।

পরদিন শনিবার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু করলে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের যৌথ অভিযানে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 


বাংলাদেশ এর আরও খবর