img

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৯:৩৮, ০৫ জুন ২০২৬

তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপেরই কোনো দলের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তপু-হামজাদের দল।

শুক্রবার (৬ জুন) রাতে সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ইতিহাস গড়ার দিনে কোচ থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সান মারিনোর (২১১) চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের (১৮১) শুরুর একাদশে ছিলেন না শমিত সোম ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই রেখেছিল দাপট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে ১৯ মিনিটেই জালে জড়ায় বল। শেখ মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে উড়ন্ত হেডে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল।

তবে লিড বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি। ৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জিকোপেত্তি। ৩৭ মিনিটে বড় সুযোগ পেয়েও দলকে এগিয়ে দিতে পারেননি সাদ উদ্দিন।

সমতায় রেখে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ আক্রমণের ধার বাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। তিন পরিবর্তন নিয়ে লাল-সবুজের দল বলও রাখে পায়ে। গোল আসে ম্যাচের শেষদিকে। ৮৬ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হন তপু বর্মন। তার দৃষ্টিনন্দন গোলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২-১ গোলের।

বাকি সময়ে সান মারিনো পারেনি গোল শোধ দিতে। তাতেই ইউরোপের মাটিতে আসে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকেরা মেতে ওঠেন ইতিহাস গড়া জয়ের আনন্দে।


খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৫:৫২, ০৩ জুন ২০২৬

বল নেপালের গোললাইন পেরিয়ে যেতেই উদযাপন শুরু করলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। উদযাপনে তার সঙ্গী হতে ছুটে এলেন বাকি সতীর্থরা।
গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে আজ একজনই ছিলেন। তার গর্জন ও উচ্ছ্বাসটা যেন মুহূর্তেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ল। 
রেফারির শেষ বাঁশি বাজাতে তখন মিনিট কয়েক বাকি। সেই সময় সাগরিকা যখন গোল করলেন, তখন সবাই ধরেই নিয়েছেন বাংলাদেশের শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো। পিছিয়ে পড়েও নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।
রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভুটানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত। এই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী শুক্রবার (৫ জুন) হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নামবে বাংলাদেশ।

ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বল বাড়ান গোলমুখে। নিখুঁত টোকায় বাকি কাজ সারেন সাগরিকা। বাংলাদেশের আরেক গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
সাফের গত দুই ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালের স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি হয়ে গোয়ার সেমিফাইনালে।
আজ তিন পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। ভারত ম্যাচে খেলা মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুরমা জান্নাতের বদলে খেলান আফঈদা খন্দকার, উমেহ্লা মারমা ও সুরভী আকন্দ প্রীতিকে। আগের দিন মা হারানো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমকেও রাখেন বেঞ্চে।
শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। মারিয়ার পাসগুলো হচ্ছিল না নিখুঁত। রক্ষণও ছিল না জমাট। নেপাল তাই আধিপত্য দেখাতে থাকে। ২২ মিনিটে এগিয়েও যায় তারা।
কর্নারের পর মিলি আক্তার দুর্বল ফিস্টে ক্লিয়ার করতে পারেননি পুরোপুরি। বক্সে জটলার ভেতরে বল পেয়ে গীতা রানি চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন। 
ম্যাচে ফিরতে বাটলার দুটি পরিবর্তন আনেন ৩৮ মিনিটে। উমেহ্লা ও প্রীতিকে তুলে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে নামান কোচ। এরপর বাংলাদেশের খেলায় গতি ফেরে।
৪৫ মিনিটে দৃষ্টিনন্দন অলিম্পিক গোলে (কর্নার কিক থেকে গোল) দলে স্বস্তি ফেরান সর্বশেষ ফাইনালে জয়সূচক গোল করা ঋতুপর্ণা। ডান দিক থেকে এই ফরোয়ার্ডের কর্নার কিকে বল নেপাল গোলকিপার আঞ্জিলা সুব্বাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি দূরের পোস্ট লেগে জালে জড়ায়।
ম্যাচের শেষ ভাগে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে তুলে সাগরিকাকে নামান কোচ বাটলার। সেই সাগরিকার গোলই বাংলাদেশকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়।