img

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

প্রকাশিত :  ০৮:০৫, ১০ জুন ২০২৬

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১৩

আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে চলমান সংঘর্ষে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান যে পাকিস্তানের এই সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলো মূলত আফগানিস্তানের খোস্ত, কুনার এবং পাক্তিকা প্রদেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। তবে এই বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা শিকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঠিক এক দিন পর এই বিমান হামলা চালানো হলো। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ জন সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং চেকপোস্ট দখলের চেষ্টা নসাৎ করে দেয়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহসিন নাকভি পেশোয়ারে নিহতদের জানাজায় অংশ নিয়ে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান কর্তৃক পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা সীমান্ত হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। 

পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগানিস্তান দাবি করে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায় যে তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছিল।

এই নতুন সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যার মাত্র কয়েক মাস আগে চীন উত্তর অঞ্চলের উরুমকিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল। ওই বৈঠকের পর বেইজিং জানিয়েছিল যে দুই দেশই সংঘাত আর না বাড়াতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে। 

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান তাদের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা ‘টিটিপি’র মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা আফগান তালেবান প্রশাসন ইসলামাবাদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়া শপিং মলে আটকা পড়েছেন অনেকে

প্রকাশিত :  ১৩:৫১, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বহুতল শপিং মলের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে ভবনটির ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরসঙ্গে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে একটি ভবনে ভূমিকম্পের পর আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি।

জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এনএইচকের প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে ভূমিকম্পের পর দেশের প্রধান দ্বীপ কায়ুসুতে একাধিক জায়গায় আগুন ধরেছে। কয়েকটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া অনেক জায়গার সড়কে ফাটল দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১২টি বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় ৪টা ২৭ মিনিটে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানায় জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা বলেছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮।

ভূমিকম্পের পর পর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই এটি তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী তাকাচি ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বলেছেন, “আমরা আহত ও অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি এখনো নিরূপণ করছি। যদিও আমাকে ইতিমধ্যে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ব্রিজ, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত ও কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।”

‘কাশিমা’ নামে শহরের একটি শপিং মলের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। এতে করে মলটির ভেতরে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এরআগে পুলিশ জানিয়েছিল, কাশিমার এইন নামে একটি শপিং মলে তারা বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনার তথ্য পেয়েছিল। তখন তাদের কাছে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য আসেনি।

সূত্র: সিবিএস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর