img

ইরানের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:০৯, ১৮ জুন ২০২৬

ইরানের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
জব্দ করা ইরানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের। তার মতে, ইরানের অর্থ ফেরত না দিলে ডলারে কেউ বিনিয়োগ করবে না। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথও খুলে যেতে পারে।

গতকাল বুধবার (১৭ জুন) জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। খবর আনাদোলুর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে এবং তা শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের অনেক অর্থ নিয়েছি এবং সেই অর্থ আমাদের কাছে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অর্থ নয়, এটা তাদের অর্থ। আমরা একসময় এটি জব্দ করেছিলাম। আমার মনে হয়, আমাদের তা ফেরত দিতেই হবে। কারণ যদি আমরা তা ফেরত না দিই, তাহলে কেউ আর কখনোই ডলারে বিনিয়োগ করবে না।’

ইলেকট্রনিকভাবে সই হয়। এতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না বলে স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও অর্থ দিচ্ছি না। তারা সঠিকভাবে আচরণ করলেই কেবল এটি সম্ভব হবে। তারা যদি ঠিকভাবে চলে এবং কেউ বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বিনিয়োগ করতে পারবে। এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও সেই শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। সবকিছু নির্ভর করবে তারা কী করছে তার ওপর।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে— যখন আপনারা বিলিয়ন ডলারের কথা বলেন, তখন মনে রাখতে হবে তাদের এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’

ইরানের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা সঠিক আচরণ শুরু করলেই কিছু না কিছু ঘটবে।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে ওয়াশিংটন।

এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলের গণহত্যা: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় প্রাণহানি এক হাজারের বেশি

প্রকাশিত :  ১৯:১৪, ১৮ জুন ২০২৬

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর ও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানসের গাজাবিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, ‘গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল, সবচেয়ে খারাপ সময়টা কেটে গেছে। কিন্তু তাঁরা এখনও তাঁদের প্রিয়জনদের দাফন করছেন।’

যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় পরিসরে লড়াই হয়তো থামিয়েছে, কিন্তু এর পরবর্তী স্তরে যেতে দুই পক্ষ এখনও চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এর পরবর্তী পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথাও ছিল। এসব অধরা রয়ে গেছে।

অক্টোবরের পর থেকে বিভিন্ন সময় গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জানান দিয়েছে ইসরায়েল। হামলা চালানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির কয়েক ডজন পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী হলুদ সিমেন্ট ব্লক বসিয়ে পশ্চিম দিকে ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত করার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আলজাজিরাকে বলেছিলেন, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই অস্ত্র ভান্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি গাজায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার একটি সুযোগ এনে দেবে বলেও আশা করা হয়েছিল। 

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকাটিতে বর্তমানে একটি হাসপাতালও পুরোপুরি কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই।

ফিকর শালতুত আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে বোমাবর্ষণ অব্যাহত ফেলা এবং গাজা প্রায় সম্পূর্ণ অবরোধে ছিল। তিনি বলেন, বিশ্বনেতারা ভেবেছিলেন একটি কাগজের চুক্তি দিয়ে দায়বদ্ধতা, অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা ওষুধ পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখনও গাজায় প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত এবং সহায়তা ক্ষুধার্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক নীরবতা অব্যাহত রয়েছে।

গাজার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর