img

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

প্রকাশিত :  ০৬:৪৩, ১৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫১, ১৮ জুন ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান
যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বুধবার ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “চুক্তিতে সই সম্পন্ন হয়েছে, আমি মাত্রই ভার্সাইতে এতে স্বাক্ষর করেছি।”

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের চুক্তি স্বাক্ষরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হওয়া চুক্তিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন।
ইরানের পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং তা যাচাইয়ের পর্যায় শুরু হবে।
তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশের প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ অবস্থান থেকে দূরবর্তীভাবে এতে সই করেছেন। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আলাদা আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে সুইজারল্যান্ড সরকার জানিয়েছিল, স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্ন হ্রদের পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত একটি বিলাসবহুল হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই দুই দেশ সমঝোতা স্মারকে সই সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়।
সমঝোতা প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের নথি প্রকাশ করে। মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নথিটির মূল বিষয়বস্তু পড়ে শোনান।

সূত্র: আল জাজিরা 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলের গণহত্যা: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় প্রাণহানি এক হাজারের বেশি

প্রকাশিত :  ১৯:১৪, ১৮ জুন ২০২৬

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর ও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানসের গাজাবিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, ‘গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল, সবচেয়ে খারাপ সময়টা কেটে গেছে। কিন্তু তাঁরা এখনও তাঁদের প্রিয়জনদের দাফন করছেন।’

যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় পরিসরে লড়াই হয়তো থামিয়েছে, কিন্তু এর পরবর্তী স্তরে যেতে দুই পক্ষ এখনও চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এর পরবর্তী পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথাও ছিল। এসব অধরা রয়ে গেছে।

অক্টোবরের পর থেকে বিভিন্ন সময় গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জানান দিয়েছে ইসরায়েল। হামলা চালানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির কয়েক ডজন পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী হলুদ সিমেন্ট ব্লক বসিয়ে পশ্চিম দিকে ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত করার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আলজাজিরাকে বলেছিলেন, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই অস্ত্র ভান্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি গাজায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার একটি সুযোগ এনে দেবে বলেও আশা করা হয়েছিল। 

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকাটিতে বর্তমানে একটি হাসপাতালও পুরোপুরি কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই।

ফিকর শালতুত আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে বোমাবর্ষণ অব্যাহত ফেলা এবং গাজা প্রায় সম্পূর্ণ অবরোধে ছিল। তিনি বলেন, বিশ্বনেতারা ভেবেছিলেন একটি কাগজের চুক্তি দিয়ে দায়বদ্ধতা, অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা ওষুধ পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখনও গাজায় প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত এবং সহায়তা ক্ষুধার্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক নীরবতা অব্যাহত রয়েছে।

গাজার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর