img

ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো হারেনি নরওয়ে, ইতিহাস কি বদলাবে এবার?

প্রকাশিত :  ০৮:১৪, ০১ জুলাই ২০২৬

ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো হারেনি নরওয়ে, ইতিহাস কি বদলাবে এবার?

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার এক ভিন্ন পরীক্ষা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে— যে দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের লড়াইয়ে তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্ম সবকিছুই ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।

এ পর্যন্ত দুই দল চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, আর বাকি দুটি ড্র হয়েছে। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে শেষ হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখায় নরওয়ে।

দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই হয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে। ওই ম্যাচে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেছিলেন কিয়েতিল রেকদাল। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচেও দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে।

অতীতের পরিসংখ্যান ব্রাজিলের বিপক্ষে থাকলেও বর্তমান দল নিয়ে আশাবাদী কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাতিয়াস কুনহা, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও নেইমারকে ঘিরে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। জাপানের বিপক্ষে জয়ও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, আর্লিং হলান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নরওয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হলান্ড। ফলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি এবারও ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখতে চায়।

এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের জয়হীনতার রেকর্ড ভেঙে ব্রাজিল কি শেষ আটে জায়গা করে নিতে পারে, নাকি নরওয়ে আবারও চমক দেখিয়ে নিজেদের ঐতিহাসিক আধিপত্য বজায় রাখে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেই লড়াইয়ের দিকেই। সব মিলিয়ে ৫ জুলাইয়ের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই।

খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় নজর কাড়ছে ১৭ তলা সমান ফুটবল

প্রকাশিত :  ০৭:০৭, ০১ জুলাই ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে তৈরি হয়েছে অনন্য এক দর্শনীয় আয়োজন। শহরের বিখ্যাত সায়েন্স ওয়ার্ল্ড জাদুঘরের বিশাল গম্বুজকে বিশ্বকাপের সরকারি ম্যাচ বলের আদলে রূপান্তর করে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১৭ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এক বিশাল ফুটবল। ব্যতিক্রমী এই স্থাপনা ইতোমধ্যেই বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ভ্যাঙ্কুভারের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়ামের জিওডেসিক ডোমকে (ত্রিভুজাকার কাঠামো দিয়ে নির্মিত বিশেষ ধরনের গম্বুজ) সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের নকশায়। ফলে পুরো স্থাপনাটি এখন দূর থেকে বিশাল এক ফুটবলের মতো দেখাচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ধারণা এসেছিল প্রায় দুই বছর আগে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক শহর হিসেবে ভ্যাঙ্কুভার কীভাবে নিজেদের আলাদাভাবে তুলে ধরতে পারে—এ নিয়ে কথোপকথনের এক পর্যায়ে সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের গোলাকার গম্বুজকে ফুটবলের রূপ দেওয়ার প্রস্তাব আসে। শুরুতে বিষয়টি রসিকতা মনে হলেও পরে অ্যাডিডাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সরকারি সহায়তায় সেই ধারণাই বাস্তবে রূপ পায়।

বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। স্টেডিয়ামের কাছেই অবস্থিত সায়েন্স ওয়ার্ল্ড, তাই এটিকে বিশ্বকাপের প্রতীকী আকর্ষণে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৮৬ সালের ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারের জন্য নির্মিত এই রুপালি গম্বুজটির কোনো আধুনিক ডিজিটাল নকশা ছিল না। প্রকৌশলীদের ভরসা ছিল শুধু স্থপতি ব্রুনো ফ্রেস্কির হাতে আঁকা পুরোনো ব্লুপ্রিন্ট।

পরে লেজার প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে গম্বুজটির প্রতিটি অংশের নিখুঁত পরিমাপ নেওয়া হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিটি প্যানেলের আকারে সামান্য হলেও পার্থক্য রয়েছে। এরপর তীব্র বাতাস সহনীয় বিশেষ নমনীয় রঙিন প্যানেল তৈরি করে নম্বর অনুযায়ী একে একে পুরো গম্বুজে স্থাপন করা হয়। এভাবেই গম্বুজটি রূপ নেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবলসদৃশ স্থাপনাগুলোর একটিতে।

বিশ্বকাপের লোগো ও ট্রফির নকশা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ক্যামেরার একটি ফ্রেমেই সায়েন্স ওয়ার্ল্ড, বিসি প্লেস স্টেডিয়াম, শহরের স্কাইলাইন, জলরাশি এবং পেছনের পাহাড় একসঙ্গে ধরা পড়ে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু বাইরেই নয়, মিউজিয়ামের ভেতরেও রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন। জুরিখের বাইরে প্রথমবারের মতো এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফার ‘সকার অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রদর্শনী। পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে কানাডার ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্মারক। এর মধ্যে রয়েছে টোকিও অলিম্পিকে ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ারের পরা স্বর্ণপদকজয়ী ম্যাচের জার্সি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আলফোনসো ডেভিসের করা ঐতিহাসিক গোলের বল।