img

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৫৮, ০৪ জুলাই ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ- সবই বাংলাদেশে আসছে। বাজেট প্রথমত বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে, সেটিকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব গড়তে বড় পরিকল্পনা রয়েছে, এজন্য বিদেশি বিনিয়োগও আসছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সম্ভাবনার খাত অনেক বেশি। কারণ, এখানে বন্দর আছে। শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকারের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দর নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে। বন্দরগুলো আরও বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে মাতারবাড়ীকেও ঘিরে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আগে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর সম্ভাবনার জায়গাগুলো কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনে নিচ্ছে আকিজ রিসোর্সেস

প্রকাশিত :  ১৫:২১, ০৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্পাত খাতের কোম্পানি ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনে এবার পর্ষদের কর্তৃত্ব নিচ্ছে আকিজ রিসোর্স।শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লোকসানি এই কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা তাঁদের হাতে থাকা ৩০ শতাংশ শেয়ারের পুরোটাই বিক্রি করে দিতে চান শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সেসের কাছে। গত ২৫ এপ্রিল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির এই সিদ্ধান্ত হয়।

বিএসইসি ও শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শেয়ার বিক্রির জন্য এরই মধ্যে দুই পক্ষের চুক্তিও হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর এই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এ জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিএসইসি এ বিষয়ে ডমিনেজ স্টিল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছে। বিএসইসির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কোম্পানিটির পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

ডমিনেজ স্টিলের পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার আকিজ রিসোর্সেস, প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ জসিমউদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের কাছে বিক্রি করা হবে। শেয়ারবাজারের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে দুই পক্ষ। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা যে শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে, তা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে শেয়ারবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে।

শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের চুক্তি অনুযায়ী ডমিনেজ স্টিলের বর্তমান উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা হাতে থাকা প্রতিটি শেয়ার ১৩ টাকায় বিক্রি করছেন। যার মধ্যে ১০ টাকা কোম্পানিটির শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু। আর ৩ টাকা শেয়ারের প্রিমিয়াম বা অধিমূল্য। সেই হিসাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনতে লোকসানি এই কোম্পানিতে আকিজ রিসোর্সেস বিনিয়োগ করছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। যদিও শেয়ার কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগের অর্থ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে শেয়ারের বিক্রয়মূল্যের বিষয়টি শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে  নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা বিক্রির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে ঢাকার বাজারে লোকসানি কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫২ টাকা বা প্রায় ১৮২ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৮০ টাকা। অথচ বছরের শুরুতে গত ৪ জানুয়ারি এটির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। সেখান থেকে মালিকানা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে এটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। যদিও মালিকানা বদলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয় গত এপ্রিলে কোম্পানির পর্ষদ সভার সিদ্ধান্তের পর। তার আগেই বাজারে এটির মালিকানা বদলের বিষয়টি একপক্ষ জেনে গিয়েছিল। আর আগাম সেই তথ্য জেনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বড় অঙ্কের মুনাফার চেষ্টায় যুক্ত ছিল ওই পক্ষ। তাতে তারা সফলও হয়েছে প্রাথমিকভাবে।

অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংস্থাটির একটি দল কোম্পানিটির সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশের কারখানা পরিদর্শন করে দেখেছে, সাভারের কারখানাটির কার্যক্রম চললেও নরসিংদীর কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে এই তিন মাসে ডমিনেজ স্টিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা লোকসান করেছে। ২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানি বর্তমানে ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত। সর্বশেষ গত অর্থবছরে কোম্পানি শেয়ারধারীদের শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোম্পানিটির সম্পদ রয়েছে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকার।

আকিজ রিসোর্সেসের ডেপুটি সিএফও রায়হান কবির গণমধ্যমকে জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই আকিজ রিসোর্সেস কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সাভার ও নরসিংদীর কারখানা দুটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা। আকিজ রিসোর্সেস মনে করে, সঠিক নেতৃত্ব এবং পুঁজির যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ডমিনেজ স্টিলকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তারা এই খাত থেকে আরও বেশি রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।

শিল্প মালিকদের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মানসিকতাকে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারে আস্থার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।

ডমিনেজ স্টিলের এই মালিকানা পরিবর্তন কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি মৃতপ্রায় শিল্প ইউনিটকে বাঁচিয়ে তোলার প্রচেষ্টাও বটে। দেশের শিল্প খাতে আকিজ রিসোর্সেসের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক ইউনিটকে সফল করার সামর্থ্য রাখে। তবে শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন বিএসইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। মালিকানা বদলের পর ডমিনেজ স্টিলের ব্যবসায়িক গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই তার হারানো গৌরব ফিরে পায় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।