img

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে কারণে ফেলনা নয়

প্রকাশিত :  ১১:৩৩, ১৮ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৩, ১৮ জুলাই ২০২৬

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে কারণে ফেলনা নয়

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের বিরুদ্ধে দেখানো বিতর্কিত লাল কার্ড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ও ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। তবে তাদের বক্তব্যের মূল সুর একটাই—বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে তাদের বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই। কোনাতে তো ম্যাচটির গুরুত্বহীনতা বোঝাতে রসিকতা করে একে ‘চকোলেট মেডেল ম্যাচ’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড অনেক বড় স্বপ্ন নিয়েই এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে সেই স্বপ্ন ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল। স্পেনের কাছে ফ্রান্স হারল ২-০ গোলে। আর্জেন্টিনা লিখল ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি গল্প।

পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতে ইংল্যান্ডকে হতভম্ব করে দিল। ভাঙা মনের সেই ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ রাতে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে নামছে।

তবে এই ম্যাচ খেলতে না চাওয়ার কারণ খুব সম্ভবত সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক কোচ লুই ফন গাল। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া ফন গালের যুক্তি ছিল এমন—বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামে চারটি দল।

সেমিফাইনালে হেরে স্বপ্ন ভেঙে চৌচির হয়ে যাওয়া দুটি দল মুখোমুখি হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। ভাঙা হৃদয় নিয়ে কি নিজেদের সেরা ফুটবল কেউ উপহার দিতে পারে?

কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অর্থহীন মনে করা হলেও এর পেছনে অর্থযোগ মোটেও কম নয়। মায়ামিতে আজকের জয়ী দল পাবে প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা; হারলে পাবে প্রায় ৩৩০ কোটি।

শুধু কি তাই? সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হলেও এই ম্যাচ কি প্রিয় তারকাকে দেখার আরেকটি সুযোগ করে দেয় না? কখনো কখনো এটিই হয়ে যায় শেষ সুযোগ। 

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জার্মানির জার্সিতে অলিভার কানের শেষ ম্যাচ হয়ে আছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের জায়গায় লিওনেল মেসিকে কল্পনা করুন। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেত, তাহলে হয়তো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটাই হয়ে থাকত দেশের জার্সিতে মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’! যেমনটা জার্মানির অলিভার কান, পতুর্গালের লুইস ফিগোর মতো কিংবদন্তিদের ক্ষেত্রে হয়েছে। 

দিদিয়ের দেশমকে আপনি কিংবদন্তির কাতার থেকে সরিয়ে রাখবেন কীভাবে? অধিনায়ক-কোচ উভয় ভূমিকায় বিশ্বকাপ জিতেছেন। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশমের দীর্ঘ অধ্যায়টা শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ রাতের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দিয়েই।

তা ছাড়া এটি যেহেতু একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ, তাই বিশ্বকাপের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা হওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচের পারফরম্যান্সও বিবেচনায় নেওয়া হয়। 

এসব বাদ দিন। তৃতীয় হওয়ার লড়াইটা যদি না-ই থাকত, তাহলে বিশ্বকাপ ফুটবলের যে ইতিহাস আমাদের জানা, তা অনেকটাই বদলে যেত। 

হয়তো জাস্ট ফন্টেইনের নাম জানাই হতো না! ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছিলেন ফ্রান্সের প্রয়াত এই ফরোয়ার্ড। ৬৮ বছর পরও এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে তা। হয়তো টিকে থাকবে আরো কয়েক যুগ। 

ধরুন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বলে বিশ্বকাপে কিছু নেই, কখনো ছিল না। কী হতো, বলুন তো? ফন্টেইনের বদলে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডে থাকত সান্দোর ককসিসের নাম। হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি ১৯৫৪ বিশ্বকাপে করেছিলেন ১১ গোল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৪ গোল করেই যে ককসিসকে পেছনে ফেলেন ফন্টেইন।

৯৬ বছরের ইতিহাসে মাত্র দুটি বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী নামে কোনো ম্যাচ ছিল না—১৯৩০ ও ১৯৫০ আসরে। ১৯৫০ সালে তো নকআউট পর্ব বলে কোনো শব্দই ছিল না। 

বাকি বিশ্বকাপগুলোতে কম গল্প উপহার দেয়নি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ১৯৩৮ আসরে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ব্রাজিলের লিওনিদাস। 

শুধুই কি ফন্টেইন আর লিওনিদাস? ইতালির সালভাতর শিলাচি (১৯৯০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকার (১৯৯৮), জার্মানির টমাস মুলার (২০১০) তো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলেই। এবারো এমবাপ্পে-কেইনদের সামনে থাকছে সেই সুযোগ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলটিও কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেরই উপহার। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেছিলেন তুরস্কের হাকান সুকুর।

ব্যর্থতার ইতিহাসও আছে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ‘অর্থহীন’ এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেলেই ফন্টেইনের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতেন জার্মানির জার্ড মুলার। ১৯৯৪ সালে একটি গোল পেলেই এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যেতেন রিস্টো স্টইচকভ। তা করতে না পেরে শুধু নিজের চুল ছিঁড়তেই বাকি রেখেছিলেন বুলগেরিয়ার এই স্ট্রাইকার।

অনেক দেশের তো বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য হয়ে আছে এই ম্যাচ জিতে তৃতীয় হওয়াটাই। তাই কারো কারো চোখে অর্থহীন ম্যাচেও আমাদের চোখ রাখতে হয়। আর যাই হোক, এই ম্যাচ কোনোভাবেই ফেলনা নয়। 

খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

ফাইনালে আর্জেন্টিনার পক্ষে নেতানিয়াহু, জানালেন শুভকামনা

প্রকাশিত :  ০৫:২৯, ১৯ জুলাই ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন। বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সমর্থনের কথা জানান। 

এ সময় রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বার্তাও পৌঁছে দেন।  জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু।  আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং নানা ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের (রোববার) ম্যাচের জন্যও শুভকামনা রইল।  শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।’

এদিকে অনেকেই রোববারের এই ফাইনালকে প্রতীকী গুরুত্বের একটি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন। কারণ ইসরাইল ইস্যুতে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ এবং আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য এবং ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানোর ঘটনাও দেখা গেছে।

খেলাধূলা এর আরও খবর