img

তুমি পেরেছ, অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা: ইয়ামালকে প্রেমিকার বার্তা

প্রকাশিত :  ০৮:০৮, ২১ জুলাই ২০২৬

 তুমি পেরেছ, অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা: ইয়ামালকে প্রেমিকার বার্তা

বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর ১৯ বছর বয়সী ফুটবলারকে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোস।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচ শেষে উদযাপনে ইয়ামালের পাশে ছিলেন তার তিন বছর বয়সী ভাই কেইন এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া। পরে ইনস্টাগ্রামে ইয়ামালের একটি ছবি শেয়ার করে ইনেস লেখেন, ‘তুমি এটি সম্পন্ন করেছ। অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’

স্প্যানিশ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ইনেস গার্সিয়া পুরো বিশ্বকাপজুড়েই আলোচনায় ছিলেন। স্পেনের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ইয়ামালকে সমর্থন দিতে দেখা গেছে তাকে। বেশির ভাগ সময় তিনি পরেছিলেন ইয়ামালের জার্সি।

বিশ্বকাপের আগে থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল। চলতি বছরের শুরুতে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশের পর প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে মে মাসে বার্সেলোনায় এক নৈশভোজে প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায় এই জুটিকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনেস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ইয়ামালের সঙ্গে তার পরিচয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়তো রূপকথার মতো কোনো গল্প শুনতে চাইবে। কিন্তু সত্যি হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই আমাদের পরিচয়। মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও অনেক আগে থেকেই আমরা একে অপরকে চিনি। দেখা করার আগে দীর্ঘদিন শুধু কথা বলেছি।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে জাস্টিন বিবারের হাফটাইম শোয়ের ঘোষণা শেয়ার করে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইয়ামালকে উৎসাহও দিয়েছিলেন ইনেস। স্প্যানিশ ভাষায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ফাইনালে পৌঁছাতে যা যা করা লাগে, সব করো। শুনছ? যা লাগে, তাই করো।’

চোট কাটিয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে শুরুতে ছন্দ খুঁজতে কিছুটা সময় নিলেও টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। একটি গোলের পাশাপাশি একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও জিতে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজের দ্বিতীয় বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন স্পেন ও বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।

img

আসিফ নজরুলের ‘একক সিদ্ধান্তে’ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৪:৫৫, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তবে দীর্ঘদিন পর প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কমিটির দাবি, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এককভাবে নিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়।

আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিসিবিও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য কারো মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিংয়ে আসিফ নজরুল শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়।

সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, ‘যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, তিনি তৎকালীন স্পোর্টসের দায়িত্বে ছিলেন, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।’

তবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ভিন্নতা ছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।

সেদিন তিনি বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

অথচ এর আগে, ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি মনে করে, এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে বা বিপক্ষে মত থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

খেলাধূলা এর আরও খবর