img

ফাইনালে হারের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন মেসি

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ২১ জুলাই ২০২৬

ফাইনালে হারের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন মেসি

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের একদিন পরও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি লিওনেল মেসি। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি পরাজয়ের বেদনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সমর্থক ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনকে অভিনন্দন জানান।

স্প্যানিশ ভাষায় লেখা এ বিবৃতিটি মেসি নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্ট করেছেন। এর বাংলা ভাবার্থ এমন- ‘কষ্টটা অনেক বড়, আর এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে আমি ভালো স্মৃতিগুলোও মনে রাখতে চাই... আমরা যে ম্যাচগুলো খেলেছি, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, সেগুলো আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যাবে। পুরো একটা দেশের সমর্থন নিয়ে, দলের কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায়, আমরা আবারও বিশ্বসেরা দলগুলোর একটি হতে পেরেছি। আমরা কী অর্জন করেছি, তা আজ পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন, তবে এই দল টানা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে। প্রতিটি শুভেচ্ছা আর প্রতিটি বার্তার জন্য আমি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আবারও একটা দেশ হিসেবে একসঙ্গে জড়ো হয়েছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্বে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আমি স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।’

মেসির এই বার্তা আবেগঘন হলেও, রোববারের ম্যাচের পর দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। ওই ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জেতার পর মাঠে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেসি জড়িত ছিলেন না। তবে জানা গেছে, এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত করবে ফিফা।

এ ম্যাচটি সম্ভবত মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারেরও শেষ ম্যাচ হতে পারে। পরের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক থাকবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। তিনি তখনও খেলতে পারবেন, এমনটা কল্পনা করা গেলেও বাস্তবে তা অসম্ভবই মনে হচ্ছে।

রোববার রানার্সআপ পদক হাতে নেওয়ার সময় কান্না চেপে রেখে মাঠ ছাড়েন মেসি। তার এ আচরণেই হয়তো ইঙ্গিত মিলেছিল, বিশ্বকাপের সঙ্গে তার পথচলা এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে।

বয়স হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের সেরাটাই দিয়েছেন মেসি। এই আসরে অনেক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এমনকি গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়েও ছিলেন তিনি। মেসি আর তার শেষ মুহূর্তের নৈপুণ্য না থাকলে, ফাইনালের অনেক আগেই হয়তো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেত আর্জেন্টিনা।

তবে এত কিছুর পরও, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। এ লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার কষ্ট এখনো স্পষ্ট। মেসির পোস্টে সেটাই ফুটে উঠল।


img

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর

প্রকাশিত :  ১০:৫৬, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সি গায়ে আর দেখা যাবে না । দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। 

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার ও সর্বোচ্চ গোলদাতা,  ইউরো শিরোপা, দুটি উয়েফা নেশনস লিগ—জাতীয় দলের সব অর্জনেই নিজের ছাপ রেখেছেন রোনালদো। তবে বিদায়টা যে এমন হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি তার ভক্তরা।

বিশেষ করে কোচের সঙ্গে মনোমালিন্য, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পর রোনালদোর এই ঘোষণা যেন বিশ্ব ফুটবলকে কাঁপিয়ে দিল। 

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তার বিদায় ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি এবং একটি প্রজন্মের ফুটবল ইতিহাস।

৭ নম্বর জার্সি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে

জাতীয় দলের হয়ে ২৩ বছর ধরে যে জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন, এবার সেটি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চান রোনালদো।

বিদায়ের ঘোষণায় তিনি বলেছেন, ‘ জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। কখনোই মনে করিনি, জার্সিটি শুধু আমার একার ছিল। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, এর প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে এটি গায়ে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ ও দায়িত্ব পেয়েছি আমি।’

নিজের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, সেটিও জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি, ‘আজ সময় এসেছে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না।

কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়েও নিতে হয়।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৩ বছর আগে। দীর্ঘ এই পথচলার দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি বলেছেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময়ের দিকে ফিরে তাকালে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফির কথাই মনে পড়ে না।’

এরপর নিজ দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমি মানুষকে দেখি, বিদেশে বসবাস করা পর্তুগিজদের দেখি, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও দেশকে আরো কাছাকাছি অনুভব করতেন। এমন লাখো পর্তুগিজ মানুষের কথা মনে পড়ে, যাদের কখনো সামনাসামনি দেখিনি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছেন। কারণ, দিন শেষে ফুটবল একটি খেলার চেয়ে অনেক বড় কিছু। ফুটবল মানুষের জন্য, মানুষের আবেগের জন্য।’