img

ভোজিনহার পরিবারকে ফাইনাল ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মেসি

প্রকাশিত :  ১৫:০৪, ২৪ জুলাই ২০২৬

ভোজিনহার পরিবারকে ফাইনাল ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মেসি

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে কেপ ভার্দে। তবে অসাধারণ পারফরম্যান্সে সবার নজর কাড়েন দলটির গোলরক্ষক ভোজিনহা।

\r\n

তার লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালের বিনামূল্যের টিকিটের ব্যবস্থা করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের জার্সিটিও উপহার দেন তিনি।

ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্য যেন গ্যালারিতে বসে ফাইনাল দেখতে পারেন, সে জন্য নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মেসি। অবশ্য স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ওই আসরের শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির এমন আচরণে মুগ্ধ ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত কথোপকথনটি আজীবন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মেসির কাছে তার জার্সিটি চেয়েছিলেন এই আফ্রিকান গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা সেরে টানেলে গিয়ে সেই কথা রাখেন মেসি।

প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই দারুণ চমক দেখায় কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অপরাজিত থেকেই নকআউটে ওঠে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ নৈপুণ্য দেখান ভোজিনহা; করেন মোট ১৮টি সেভ। ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার তথ্যমতে, বিশ্বকাপে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এক আসরে সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ডে তিনি তৃতীয় স্থানে আছেন। তার সামনে আছেন কেবল ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ২৮টি) ও ইতালির দিনো জফ (১৯৮২ সালে ২৭টি)।

ম্যাচ শেষে মেসির সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে চিলির সংবাদমাধ্যম লা তেরসেরাকে ভোজিনহা বলেন, ‘খেলার পর আমি মেসির কাছে যাই। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, তুমি অসাধারণ। তোমার জন্য তোমার দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত। লিওনেল মেসির মতো একজনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার জন্য অবিশ্বাস্য।’

জার্সি বদলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলি, তুমিই সেরা। এরপর আমরা জার্সি বদল করতে পারি কি না জানতে চাই। তখন লিও জানায়, সাক্ষাৎকার পর্ব শেষে টানেলে সে আমাকে জার্সিটি দেবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে প্রবল চাপে ফেলেছিল কেপ ভার্দে। ২৯ মিনিটে মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফেরে তারা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নিলেও ১০৩ মিনিটে সিদনি লোপেস কাবরালের দর্শনীয় গোলে আবারও সমতা (২-২) আনে কেপ ভার্দে।

আর্জেন্টিনাকে রুখে দেওয়ার পথে একাধিকবার মেসির দুর্দান্ত সব আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। তবে ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনিয় বর্জেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। শেষ মুহূর্তে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত একটি সেভ না করলে ম্যাচটি টাইব্রেকারেও গড়াতে পারত।


img

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর

প্রকাশিত :  ১০:৫৬, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সি গায়ে আর দেখা যাবে না । দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। 

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার ও সর্বোচ্চ গোলদাতা,  ইউরো শিরোপা, দুটি উয়েফা নেশনস লিগ—জাতীয় দলের সব অর্জনেই নিজের ছাপ রেখেছেন রোনালদো। তবে বিদায়টা যে এমন হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি তার ভক্তরা।

বিশেষ করে কোচের সঙ্গে মনোমালিন্য, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পর রোনালদোর এই ঘোষণা যেন বিশ্ব ফুটবলকে কাঁপিয়ে দিল। 

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তার বিদায় ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি এবং একটি প্রজন্মের ফুটবল ইতিহাস।

৭ নম্বর জার্সি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে

জাতীয় দলের হয়ে ২৩ বছর ধরে যে জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন, এবার সেটি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চান রোনালদো।

বিদায়ের ঘোষণায় তিনি বলেছেন, ‘ জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। কখনোই মনে করিনি, জার্সিটি শুধু আমার একার ছিল। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, এর প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে এটি গায়ে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ ও দায়িত্ব পেয়েছি আমি।’

নিজের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, সেটিও জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি, ‘আজ সময় এসেছে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না।

কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়েও নিতে হয়।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৩ বছর আগে। দীর্ঘ এই পথচলার দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি বলেছেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময়ের দিকে ফিরে তাকালে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফির কথাই মনে পড়ে না।’

এরপর নিজ দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমি মানুষকে দেখি, বিদেশে বসবাস করা পর্তুগিজদের দেখি, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও দেশকে আরো কাছাকাছি অনুভব করতেন। এমন লাখো পর্তুগিজ মানুষের কথা মনে পড়ে, যাদের কখনো সামনাসামনি দেখিনি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছেন। কারণ, দিন শেষে ফুটবল একটি খেলার চেয়ে অনেক বড় কিছু। ফুটবল মানুষের জন্য, মানুষের আবেগের জন্য।’