img

মেসির শরীরে ব্রাজিলের রক্ত, খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়েও!

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ২৫ জুলাই ২০২৬

মেসির শরীরে ব্রাজিলের রক্ত, খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়েও!

লিওনেল মেসি ব্রাজিলের জার্সিতেও খেলতে পারতেন—ফুটবল বিশ্বে চমক জাগানো এমনই একটি তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক গবেষণায়। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেঞ্জো সান্তিনির গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পারিবারিক শিকড়ের একটি অংশ ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণা অনুযায়ী, মেসির প্রপিতামহ ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পরিবারের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বরাত দিয়ে করা ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, উনিশ শতকের শেষের দিকে ও বিশ শতকের শুরুতে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালীয়দের বিশাল অভিবাসন তরঙ্গের অংশ হিসেবে দেশ ছাড়েন মেসির এক পূর্বপুরুষ। তার প্রপিতামহের বাবা (গ্রেট-গ্রেট গ্র্যান্ডফাদার) রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে স্ত্রী রোজা রিচেজ্জাকে নিয়ে ব্রাজিলে পাড়ি জমান তিনি।

পরিবারটি প্রথমে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে এসে পৌঁছায়। সে সময় অভিবাসন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুল বা পরিবর্তন হওয়া ছিল খুব সাধারণ একটি ঘটনা। রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনির নামও পরিবর্তিত হয়ে ‘রামিয়েরো কনসেন্টিনি’ হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক পদবির বানানেও বিভিন্ন সময় পরিবর্তন আসে।

ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারটি সাও পাওলোর গ্রামাঞ্চলে চলে যায়। সেখানে তারা ওই অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদক মার্তিনহো প্রাদো জুনিয়রের খামারে কৃষিকাজ করতেন। ঠিক সেই সময়েই রিবেইরো প্রেতো এলাকায় তাদের এক সন্তানের জন্ম হয়। নিবন্ধনের সময় তার নাম আবারও বদলে যায়। আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনি হয়ে যান ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনি। এই ফেদেরিকোই হলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ।

তবে ব্রাজিলে পরিবারটির বসবাস খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনির বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন পুরো পরিবার আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। আর এখান থেকেই শুরু হয় ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত এক পরিবারের ইতিহাস। রোজারিওতে যাওয়ার পর ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সরাসরি সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে যায়। আর এর কয়েক দশক পর রোজারিওতেই জন্ম নেন লিওনেল মেসি।

এই গবেষণার পর ফুটবলভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি মেসির পক্ষে ব্রাজিলের হয়ে খেলা সম্ভব ছিল? ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পরিবারের একাংশের ব্রাজিলের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও, আইনিভাবে তার ব্রাজিলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ ছিল না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শুধু দূরবর্তী পূর্বপুরুষদের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশের জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। এর জন্য ওই দেশের নাগরিকত্ব ও আইনি সম্পর্ক থাকতে হয়। জন্ম, নাগরিকত্ব ও ফুটবল শিক্ষা—সব দিক থেকেই মেসির ভিত্তি রচিত হয়েছে আর্জেন্টিনায়। যুব পর্যায় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জেতা পর্যন্ত তিনি শুধু আকাশী-সাদা জার্সিরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ফিওরেঞ্জো সান্তিনির এই গবেষণা আটবারের ব্যালন ডি\'অর জয়ী তারকার পারিবারিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। যদিও এই আবিষ্কার আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অসামান্য অর্জনকে কোনোভাবেই ম্লান করে না, তবে এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ইউরোপীয় অভিবাসনের সেই সময়কার প্রবাহকে নতুন করে সামনে এনেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ইতালীয় অভিবাসীদের মাধ্যমে ইতালি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ইতিহাস কীভাবে এক সুতোয় গাঁথা পড়েছিল, সেই চিত্রই উঠে এসেছে এই গবেষণায়। ফুটবল বিশ্বের কাছে লিওনেল মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সি ছাড়া অন্য কোনো রূপে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হলেও, তার পরিবারের ব্রাজিলে বসবাসের ইতিহাস নতুন এক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

img

আসিফ নজরুলের ‘একক সিদ্ধান্তে’ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৪:৫৫, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তবে দীর্ঘদিন পর প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কমিটির দাবি, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এককভাবে নিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়।

আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিসিবিও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য কারো মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিংয়ে আসিফ নজরুল শুধু নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়।

সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, ‘যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, তিনি তৎকালীন স্পোর্টসের দায়িত্বে ছিলেন, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।’

তবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ভিন্নতা ছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।

সেদিন তিনি বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

অথচ এর আগে, ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি মনে করে, এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে বা বিপক্ষে মত থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

খেলাধূলা এর আরও খবর