img

রসিকতার ছলে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ২৬ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৫৬, ২৬ জুলাই ২০২৬

রসিকতার ছলে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে দেওয়া বক্তৃতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও গণমাধ্যমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার দেওয়া দীর্ঘ এ বক্তব্যে তিনি গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবর’ তৈরির কারিগর বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে রসিকতার ছলে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

গত এপ্রিল মাসে করেসপন্ডেন্টস ডিনার চলার সময় বলরুমের বাইরে এক ব্যক্তি গুলি চালালে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়। এর তিন মাস পর গতকাল শনিবার ওয়াশিংটনের ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে কঠোর নিরাপত্তায় পুনর্নির্ধারিত নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হলো।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শুরুতে ট্রাম্প জানান, প্রথমে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি বক্তব্য প্রস্তুত করলেও পরে তিনি সেটি পরিমার্জন করেছেন। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘ঠিক আমার প্রেসিডেন্সির মতোই, দ্বিতীয়বার সবসময়ই ভালো হয় এবং তৃতীয়বার আরও ভালো হবে।’

মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বক্তৃতার শেষের দিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন। ব্যঙ্গাত্মক সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তিনবার জিতেছি, এখন আমি এটি আবার করতে যাচ্ছি।’ এরপরই তিনি নিজের মাথায় ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি লাল ক্যাপ পরে নেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন। তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করেন, আসলে তিনি ওই নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর দাবি, তিনি এ পর্যন্ত তিনবার জয়ী হয়েছেন।

পুরো বক্তব্যজুড়ে ট্রাম্প তাঁর সমালোচকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তাদের নিয়ে উপহাস করেন। এ সময় নিজের কেবিনেটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বিদ্রুপ করেন, পাশাপাশি নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য জেরি নাডলারের ওজন নিয়েও উপহাস করেন তিনি। বক্তব্যে রক তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিনের চেহারা এবং সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সের হাসি নিয়ে ঠাট্টা করেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম প্রধান সমালোচক কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম শিফকে তিনি ঘৃণা করেন।

এ সময় ইরানের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ ‘ভালোভাবে’ চলছে দাবি করে সাংবাদিকদের ভুয়া খবর বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন ট্রাম্প। এক পর্যায়ে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে করা একটি রসিকতা জমিয়ে তুলতে না পেরে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, ‘অন্য কারও লিখে দেওয়া’ এই ফালতু বক্তৃতাটি তারা বুঝতে পেরেছেন কিনা।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে, প্রশাসনের গোপন তথ্য ফাঁস করা একদল সাংবাদিককে পুরস্কৃত করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি টিম, যারা ২০০৩ সালে জেফরি এপস্টাইনকে পাঠানো ট্রাম্পের একটি ‘কুরুচিপূর্ণ’ চিঠির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। উল্লেখ্য, ঘটনাটি ফাঁস করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওয়েইজিয়া জিয়াং অনুষ্ঠানে বলেন, প্রেস ও প্রেসিডেন্সির সম্পর্ক যতই জটিল হোক না কেন, উভয় পক্ষেরই মূল দায়িত্ব আমেরিকার জনগণের সেবা করা।

বার্ষিক হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস ডিনারে প্রেসিডেন্টদের বক্তব্য রাখার রীতি থাকলেও, ট্রাম্প তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে এবারই প্রথম অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন। প্রথম মেয়াদে তিনি এই নৈশভোজ পুরোপুরি বয়কট করেছিলেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত: দাবি আইআরজিসি’র

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ২৬ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪৬, ২৬ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। আর গত ৮ জুলাই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ঘোষণা প্রত্যাহার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার পর থেকে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে ১৫ দিনব্যাপী পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে তারা। শনিবার (২৫ জুলাই) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে অন্তত ৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান ধ্বংসের খতিয়ান

আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এই অতর্কিত ও শক্তিশালী হামলায় মার্কিন বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সামরিক সম্পদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে:

যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার: ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ৪টি ভারী সামরিক হেলিকপ্টার, শক্তিশালী হ্যাঙ্গারে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার সামরিক পরিবহন বিমান।

ড্রোন ও ট্যাংকার: ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন এবং ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান।

রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ৭টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রাডার, ৫টি দূরপাল্লার রাডার স্থাপনা, ৫টি এফপিএস ও এফপিএস-১১৭ রাডার, ৩টি আকাশ ও সামুদ্রিক নজরদারি রাডার এবং ৩টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ঘাঁটির অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কেন্দ্রগুলোও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে:

হ্যাঙ্গার ও বিমান আশ্রয়কেন্দ্র: ৬টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের হ্যাঙ্গার, ৫টি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ৪টি সুরক্ষিত বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, একটি এফ-১৫ প্রস্তুতি হ্যাঙ্গার, ৮টি ড্রোনসহ একটি ড্রোন হ্যাঙ্গার, একটি পি-৮ পোসেইডন বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ৬টি বিমান পার্কিং ও ফ্লাইট র‌্যাম্প।

অস্ত্র ও জ্বালানি অবকাঠামো: ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, বিমান যন্ত্রাংশ, নৌ সরঞ্জাম, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, একটি জ্বালানি ডক এবং একটি বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম।

অন্যান্য স্থাপনা: ৪টি হিমার্স রকেট লঞ্চার, ৪টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ৬টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, ৬টি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, দুটি সিগন্যাল গোয়েন্দা যোগাযোগ কেন্দ্র, একটি ডেটা ইন্টেলিজেন্স হাব, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসেসিং সেন্টার, একটি অ্যামাজন ডেটা নোড এবং একটি চালকবিহীন নৌযান সংরক্ষণাগার।

‘২০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত’

মার্কিন প্রশাসন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতাহতের সংখ্যাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। তার দাবি, অপারেশন নাসর-২ চলাকালীন হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।

ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র ধামাচাপা না দিয়ে তা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মোহেবি। পাশাপাশি, নিরপেক্ষভাবে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া মার্কিন ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইআরজিসির এই দাবিগুলো বা হতাহতের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর