দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স
প্রকাশিত :
০৯:৩৪, ২৬ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি দেশটির সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মহাসড়ক ও রেলপথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বন্দর নগরী বোর্দোর আশপাশের গ্রাম থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ায়, বোর্দো থেকে স্পেন সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়কের ৬০ কিলোমিটার অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরটিতে ট্রেন চলাচলও বন্ধ আছে।
রোববার লা ট্রিবিউন পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুন্যেস বলেছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় লাগবে। ফলে যেসব বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের নিজ এলাকায় ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, এই আগুনে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৪৯ সালের একটি দাবানলে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগুন নেভানোর চেষ্টা করা দমকলকর্মীদের সাহায্য করতে ফরাসি সেনাবাহিনী দেড় হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। অভিযানের অন্যতম নেতা ও দমকল বাহিনীর ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ বলেন, তাপের কারণে খুবই উত্তপ্ত বাতাস তৈরি হচ্ছে। এতে দাবানল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।
ইরান যুদ্ধে ‘আটকে’ গেছেন ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস’র বিশ্লেষণ
প্রকাশিত :
১৮:১০, ২৬ জুলাই ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৫, ২৬ জুলাই ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের খামখেয়ালি আচরণের জন্য সুপরিচিত। প্রথম মেয়াদের মতো দ্বিতীয় মেয়াদেও বহু কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের এই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি বিপাকে পড়েছেন ইরান যুদ্ধ নিয়ে।
১৩ মাস আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ডেল্টা ফোর্স পাঠিয়ে তুলে আনেন। ভেনেজুয়েলার ঘটনায় দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ হয়। দেশটিতে নিজেদের পছন্দসই সরকার পায় তারা। একই প্রত্যাশা হয়তো ইরানের ক্ষেত্রেও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে শাসকের শ্রেণি পরিবর্তনের কথা একাধিকবার বলেছে তারা। তবে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং এই সংঘাত মোড় নিতে শুরু করেছে অন্তহীন যুদ্ধের দিকে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। উল্টো আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে তেলের দাম এবং প্রভাব পড়ছে শেয়ার বাজারেও। প্রথম দফায় শুধু হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল, দ্বিতীয় দফার যুদ্ধে তা গড়িয়েছে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত। সব মিলিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌযান চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, এসব সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে ট্রাম্প বিরক্তবোধ করছেন। তাঁর সাম্প্রতিক চলাফেরায় এর প্রভাবও দেখা গেছে। আগের চেয়ে অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন তিনি। মিত্র দেশের সঙ্গে চুক্তি হোক, আর নিজ দেশের কোনো বিলে স্বাক্ষর হোক– দুই দিকেই এর প্রভাব পড়ছে।
এই মুহূর্তে ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের হাতে তিনটি বিকল্প রয়েছে: সামরিক অভিযানের পরিধি বৃদ্ধি করা বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি অথবা জয় ঘোষণা করে বের হয়ে আসা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনটি বিকল্প খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং এসব নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়েছে জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনারের মতো ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, প্রতিটি বিকল্পই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন কারণে অপ্রীতিকর।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানা হবে এবং চড়া মূল্য দিতে হবে ইরানিদের। অনেক প্রাণহানি হবে, বহু কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে শুক্রবার তিনি জানালেন, ওই চিন্তা থেকে সরে এসেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কেন সরে এলেন ট্রাম্প? তাহলে কি এত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চিন্তা করেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নিউইয়র্ক টাইমসকে কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
তবে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের মজুত কমে যাওয়া। গত এপ্রিলেই এ বিষয়ে সতর্ক করেছে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখন উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হয়তো এই স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
দ্বিতীয় বিকল্প অর্থনৈতিক চাপ তৈরি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। কারণ, এগুলো প্রভাব ফেলতে সময় নেয়। আর এটি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খরচও বাড়বে। বর্তমান বাস্তবতায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে, মাঝেমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলাও হবে, যুক্তরাষ্ট্রের আরও সেনার প্রাণ ঝুঁকিতে পড়বে।
তৃতীয় বিকল্প হলো, জয় ঘোষণা করা ও বাড়ি ফিরে যাওয়া। এক মাস আগে ট্রাম্প ওই পথে কিছুটা হেঁটেছিলেন। এভাবে ফিরে আসারও মূল্য রয়েছে। ট্রাম্পকে মেনে নিতে হবে ইরানের হয়তো পারমাণবিক সক্ষমতার বোমা থাকবে ও হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভবিষ্যতে যে বিকল্পই নেওয়া হোক না কেন, সেটি ট্রাম্পের নজির হিসেবে রয়ে যাবে।