img

ট্রাম্পের ক্ষমার পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ২৭ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের ক্ষমার পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার আট মাস পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগের সময় তিনি এ ক্ষমা লাভ করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান তার মা, স্ত্রী আনা গার্সিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরে দলীয় শত শত সমর্থকও তাকে অভ্যর্থনা জানান।

বিমানবন্দরে পৌঁছে হার্নান্দেজ ও তার পরিবারের সদস্যরা হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি আরেকটি ফ্লাইটে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।

হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী আনা গার্সিয়া ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরার কাছে পরাজিত হন।

সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে আগামী ৩ আগস্ট প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়, ফলে দেশে ফেরার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সি হার্নান্দেজ বলেন, তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজের আবেদন করবেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, নিজের দেশে ফেরার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি দিন গুনছিলাম।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে কাটানো সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। আমি এমন অভিজ্ঞতা কারও জন্য কামনা করি না।

হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন তাকে তেগুসিগালপায় গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে মাদক ও অস্ত্র পাচারের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, ‘প্যান্ডোরা টু’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতি তদন্তে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের একটি অংশ তার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল।

তবে একই তদন্তে জড়িত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো ও সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতোমধ্যে খারিজ করা হয়েছে।

রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হার্নান্দেজ বলেন, তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন না। তবে আপাতত সে ধরনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমাদের দলে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। তাদের পাশে থেকে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করলে পাল্টা আঘাত হানবে না ইরান

প্রকাশিত :  ০৫:০৩, ২৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত রাখলে ইরানও পাল্টা সামরিক আঘাত বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীর কাছে লক্ষ্যবস্তু কমে যাওয়া ও গোলাবারুদের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে বিমান হামলা স্থগিত রাখার পর এই বার্তা এল। 

টানা ১৩ রাতের তীব্র বিমান হামলার পর পেন্টাগন শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে অভিযান স্থগিত করে, যার ফলে টানা দুই দিন দুই পক্ষ থেকেই কোনো নতুন হামলা চালানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান যে ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ নীতিতেই তেহরান অটল রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও তাদের অভিযান স্থগিত রাখবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ ও অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানান যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিতে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে পেন্টাগন ও যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন গোলাবারুদের সম্ভাব্য ঘাটতি ও ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে মার্কিন সামরিক সূত্রে জানা গেছে।

পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সীমিত সামরিক সরঞ্জামের মুখোমুখি বলে জানান মাইক ওয়াল্টজ। সিএনএন ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও এই বিমান হামলার কার্যকারিতা শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলা স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তবে এই যুদ্ধ বিরতি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে চরম সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। তেহরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রটি জানায় যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে তারা কৌশলী বিরতি হিসেবে দেখছেন এবং আমেরিকার প্রতিশ্রুতি পালনে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এটিকে স্থায়ী সমাধান বলে মনে করছেন না।

সূত্র: রয়টার্স