img

পুত্রবধূকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’, শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

 পুত্রবধূকে ‘ধর্ষণচেষ্টা’, শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর মো. রুহল আমীনের (৬৫) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে গত ২৩ জুলাই হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই মামলা করেন। অভিযুক্ত রুহল আমীন উপজেলার ১ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের দুধপাতিল গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে ওই গৃহবধূর সঙ্গে রুহল আমীনের ছেলে মাসুক মিয়ার বিয়ে হয়। মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (হাত-পা অচল) অবস্থায় দেশে ফেরেন। শাশুড়ির মৃত্যু এবং স্বামীর শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে শ্বশুর রুহল আমীন পুত্রবধূর ওপর কুদৃষ্টি দেন এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুন সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ির বাইরে গেলে শ্বশুর আবারও তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে গৃহবধূ নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে অভিযুক্ত শ্বশুর শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে গৃহবধূর মুখ ওড়না দিয়ে চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে তার অসুস্থ স্বামী ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম আহমেদ সোনাই ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত রুহুল আমীন তার সঙ্গেও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বিচারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন।

চুনারুঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর আল-আমীন মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, বাকি দুজনকে খালাস

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার বাকী দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এ রায় প্রদান করা হলো।

রায় প্রদানের তথ্য নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।

তবে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার।

ফাহিমার বাবা রাইসুল হক জানান, লাশ গুমের ঘটনার সাথে জড়িতরা খালাস পেয়ে গেছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে এবং জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দুই আসামি খালাস পাওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার অজুহাতে শিশু ফাহিমাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করতে দুদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় তার ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ১ জুলাই বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাসের দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর