img

কমলগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা হত্যার অভিযোগপত্র দাখিল: আসামিরা জামিনে, মামলা আপোষের প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ১০:২৬, ০৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১৫, ১০ আগষ্ট ২০২৬

 কমলগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা হত্যার অভিযোগপত্র দাখিল: আসামিরা জামিনে, মামলা আপোষের প্রস্তাব

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রোজিনা বেগম (৩২) হত্যার এক বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রেজাউল করিম সাগরসহ সব আসামিই বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

২০২৫ সালে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও মামলার সব আসামি জামিনে থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বাদী পক্ষকে হুমকি ধামকি এবং মামলা আপোষ করারও প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার ন্যায়বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগী পরিবার সদস্যরা।

গত বছরের ২৬ মে উপজেলার ভাষানীগাঁও গ্রামে নৃশংসভাবে রোজিনা বেগমকে কূপিয়ে হত্যা এবং আরও তিনজনকে আহত করা হয়। ঘটনার রাতে নিহত স্কুল শিক্ষিকার ভাই বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোজিনা বেগম শুধু স্কুল শিক্ষিকাই নয়, সিলেট আইন মহা বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের ফলাফল বের হয়। এছাড়াও নারী উদ্যোক্তা ও পরিবারের একজন চালক ছিলেন তিনি। মাধবপুর ইউনিয়নের ভাসানীগাঁও গ্রামের নবদূত পাঠশালা’র (কেজি স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও গ্রামের প্রয়াত নিজাম উদ্দীনের কনিষ্ট কন্যা রোজিনা বেগম। এলাকায় তাঁহার ব্যাপক পরিচিতি এবং মানুষের সুখে-দু:খে পাশে দাঁড়াতেন। নিহত রোজিনার ১২ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঘটনার দিন সকালে ভেকু মেশিন দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটছিলেন স্থানীয় আব্দুর রহিম। খবর পেয়ে নিহত রোজিনার বোনজামাই জালাল মিয়া প্রতিপক্ষকে আপত্তিকৃত জমিতে মাটি কাটায় বাঁধা দেন। এসময়ে প্রতিপক্ষ দা দিয়ে জালাল আহমেদের হাতে পায়ে কূপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে জালাল আহমদকে রক্ষায় হারুন মিয়া, ছোট বোন শিক্ষিকা রোজিনা বেগম দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে যান। এসময় রেজাউল করিম সাগর ও তার বাবা আব্দুর রহিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে রোজিনা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আব্দুর রহিম ও তার ছেলে রেজাউল আহমেদ সাগর ও তাদের সহযোগি মনির মিয়া, আজিবুর রহমানরা পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী দা ও বল্লম দিয়ে ঘটনাস্থলে আসা প্রতিপক্ষের সবাইকে এলোপাতাড়ি কূপিয়ে জখম করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যান্য আহত তিনজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

ঘটনার পর থেকে আসামীরা পালিয়ে থাকলেও প্রধান আসামী রেজাউল করিম সাগর ব্যতিত অন্যান্য আসামীদের পুলিশ পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করে। এরপর জেলহাজত ছাড়াই উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়ে আসে সাগর। পরে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিম্নআদালতে হাজির হলে আদালত সাগরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এর তিন মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসে সাগর।

নিহত রোজিনা বেগমের বড় ভাই ও মামলার বাদি শাহজাহান আহমদ বলেন, আমার নিরীহ বোন রোজিনাকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে কূপিয়ে হত্যা করেছে রেজাউল করিম সাগর ও তার বাবা আব্দুর রহিম। অন্যান্য আসামীরা আমার ভাই ও বোনজামাইকে কূপিয়ে জখম করে। সকল আসামী জামিনে বেরিয়ে এসে আমাদের পরিবার সদস্যদের নানাভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করছে। শুধু তাই নয় হত্যা মামলা আপোষের জন্য একের পর এক প্রস্তাবও পাঠাচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কবোধ করছি এবং নিরাপত্তার জন্য কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।

তিনি আরও বলেন, আসামী পক্ষের নানা কৌশল, আইনি জটিলতার কারনে যাতে বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না হয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় সেটিই কাম্য।

এব্যাপারে রোজিনা হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রনি তালুকদার বলেন, যথাযথ তদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আশাকরি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষক পেলেন ‘গুণী শিক্ষক’ স্বীকৃতি

প্রকাশিত :  ০৭:০৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘গুণী শিক্ষক নির্বাচন-২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় অবদান, পাঠদানে দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে ভূমিকার মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিন শিক্ষককে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত তিন শিক্ষক হলেন কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একরামুল কবীর, ভাড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ দেব এবং ফটকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিরা আক্তার।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এ নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতিষ রঞ্জন দাস উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষায় অবদান, পাঠদানের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকা বিবেচনা করা হয়। এসব ক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদানের ভিত্তিতে তিন শিক্ষককে উপজেলা পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর