img

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩

প্রকাশিত :  ০৬:৫৮, ২৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৩, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এছাড়া হিমালয় থেকে উৎপন্ন হওয়া ভোটেকোশী ও ত্রিশূলি নদীর উপচে পড়া পানিতে ভেসে যাওয়া ডজনখানেক মানুষের লাশ গোর্খা, ধাদিং ও নুয়াকোট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকের মরদেহ ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ভেসে গেছে।

নেপাল অংশে ৫১১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৬৩৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, দেশটির তিব্বত অংশে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৪ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ হাজার ৩০১ জন মানুষকে উদ্ধার বা আহত অবস্থায় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নুয়াকোট ও রসুয়া জেলার বাসিন্দা।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় জেলাগুলোতে ৪ হাজার ৮১১ জন পুলিশ সদস্য উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জন পুলিশ সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন

প্রকাশিত :  ০৫:৫২, ২৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫২, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ নয়, সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাকেই একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছে চীন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেইজিং এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞারও বিরোধিতা করেছে চীন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ইস্যুতে সংলাপ ও আলোচনা একমাত্র কার্যকর পথ। চীন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান ধারাবাহিক ও স্পষ্ট।

চীনের এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে আমি তা করছি না?’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সব সিদ্ধান্ত আগেভাগে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।

এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও জানান, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এখনো স্থবির রয়েছে। তবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।

ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন এই অভিযান দুই দেশের যুদ্ধের পর আরও জোরদার হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সংঘাতে ইরানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ মার্কিন সেনাসদস্যও রয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন হুমকির মধ্যেই চীন সংলাপের ওপর জোর দিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর পারস্পরিক সফরের অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে চীনের এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা থমকে আছে এবং হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর