img

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

প্রকাশিত :  ০৫:৩২, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড নজরদারির জন্য বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ আহ্বান জানান তিনি।

ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে—এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এসব বাহিনীর কর্মকাণ্ডের স্বাধীন নজরদারির জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ৪৪টি সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক নজরদারি এবং জবাবদিহির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার চুক্তি বাস্তবায়ন তদারককারী বিশেষজ্ঞদের নিয়েও ওই প্রতিবেদনে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর কথাও বলা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রণীত গুমবিরোধী আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ও আইনবিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এসব আইনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭১

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৭১ জন।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৩ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৬, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৪ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ৪০৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৪২, চট্টগ্রামে ১৭৭, খুলনায় ২৪২, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ১১৬, রংপুরে ৭১ ও সিলেটে আটজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ১২৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩ হাজার ২১৮ জন।


জাতীয় এর আরও খবর