মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস সদস্য দেশের সঙ্গে কাজ করবে চীন: শি জিনপিং
প্রকাশিত :
১৬:৫৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৬, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করবে চীন। এ কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে শি বলেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না। শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে কাজ করবে।
চীনা প্রেসিডেন্ট ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বস্থানীয় জোট এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার মডেল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার কথাও বলেন।
ব্রিকস জোটে বর্তমানে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এই জোট গঠিত হয়। গত দুই দশকে জোটটি সম্প্রসারিত হলেও সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে ঐকমত্যে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রয়টার্স।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখন ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে বাস করে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশও তাদের দখলে।
সম্মেলনকে ঘিরে নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি নেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজ করছে।
শি জিনপিং জানিয়েছেন, আগামী বছর চীন ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবে এবং আয়োজন করবে ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।
কঙ্গোতে এক সপ্তাহে পুড়ল ৭০০ ঘর, এবার স্কুলে আগুনে নিহত ২৯ শিশু
প্রকাশিত :
০৭:২৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে চিমপুন্ডা এলাকার একটি বসতিতে আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের উজামা ও ফুরাহা স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদদলিত ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হাসপাতাল ও কর্মকর্তাদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ পরিচালিত রেডিও ওকাপি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে চিমপুন্ডা এলাকার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ২০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৯-এ পৌঁছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে থাকার তথ্য জানিয়েছে এএফসি/এম২৩ কর্তৃপক্ষ; নিহতদের পরিচয় ও মোট সংখ্যার বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
আগুনে দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের তৈরি ঘর পুড়ে গেছে বলে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-গভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে জানিয়েছেন। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া বহু শিক্ষার্থীকে বুকাভুর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি হাসপাতালে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন মারা গেছে বলে চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন।
আগুন লাগার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের পথ থেকে বের হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করলে অনেকে একে অপরের ওপর পড়ে যায়। কেউ কেউ নিরাপদ পথ না পেয়ে বিপজ্জনকভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করে। এতে অনেকে পদদলিত হন এবং ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে জ্ঞান হারান। রেডিও ওকাপির তথ্যেও কিছু শিক্ষার্থীর বাঁচার চেষ্টার সময় হুড়োহুড়িতে প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে।
এএফসি/এম২৩ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজন কাদুতু জেনারেল হাসপাতাল ও বুকাভু প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও প্রাণহানি হতে পারে।
স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মীরা জানান, আগুনের পর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেখানে নেওয়া হয়। তাদের অনেকেরই ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, অন্যদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। আগুন নেভানোর পরও ধ্বংসস্তূপ ও পুড়ে যাওয়া টিনের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের কাজ চলছিল।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। রেডিও ওকাপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুকাভুতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে বুকাভুতে অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রেডিও ওকাপির তথ্যমতে, এক সপ্তাহে শহরটিতে প্রায় ৭০০টি ঘর আগুনে পুড়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের আগুনেই অন্তত ৭০টি ঘর ধ্বংস হয়। এর এক দিন পরও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
বুকাভু বর্তমানে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের শুরুতে পূর্ব ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এএফসি/এম২৩ বর্তমানে বুকাভুতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করেছে।