img

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হামলা চালিয়েছে সৌদি, দাবি হুথিদের

প্রকাশিত :  ০৬:৫৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হামলা চালিয়েছে সৌদি, দাবি হুথিদের

গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ২৬টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার হুথিরা দাবি করে, গত এক সপ্তাহেই হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০টিতে। এসব হামলায় তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিভিন্ন অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানায় এএফপি।

সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার শুক্রবার জানায়, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনী ৩০ জন হুথি বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে এবং ৬০ জনের বেশিকে আহত করেছে। চলতি সপ্তাহে যেসব ফ্রন্টে লড়াই বেড়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম।

ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত ব্যাপক আকারে বাড়ার পরই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

শুক্রবার সানায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে ইরান সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ, যার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। দুই পক্ষের প্রতিবেদনেই এই তথ্য উঠে এসেছে।

সৌদি আরব জানায়, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে হুথি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানায়, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে।

এই উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনকেও টেনে এনেছে, যদিও তারা এতে জড়াতে অনেকটাই অনিচ্ছুক। হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের ঘটনা বাব-এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করায় গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বাব-এল-মান্দেব বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।

জানা গেছে, হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাবে না।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখনো পিছিয়ে আছে। কারণ ইরানের সঙ্গে ইতিমধ্যে ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় নতুন কোনো ফ্রন্ট খুলতে তারা সতর্ক।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবার জানান, লোহিত সাগরে জোটের নৌ মিশন অপারেশন অ্যাসপাইডিস তাদের সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে, কারণ অঞ্চলটির পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কালাস তার এক্স পোস্টে বলেন, ‘সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’

তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুদ্ধ নয়, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

প্রকাশিত :  ০৯:২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতায় মস্কো প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর আনাদোলুর

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামরিক-শিল্প কমিশনের এক বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের কিছু নেতা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউক্রেনের সংঘাত এবং রাশিয়ার কথিত হুমকিকে নিজেদের নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।

পুতিন বলেন, ‘আমি আবারও বলতে চাই, ইউরোপ বা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। এর পক্ষে কোনো ভিত্তিই নেই। আমরা সহযোগিতা করতে এবং ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে প্রস্তুত।’

বাল্টিক সাগরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মহড়ারও সমালোচনা করেন তিনি। পুতিনের দাবি, এসব মহড়ায় বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারা সব সময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং এর নিয়ম মেনে চলার কথা বলে। অথচ তারাই বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

প্রয়োজনে রাশিয়া এর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শান্তিতে বসবাস করি। তা না হলে আমরাও জবাব দিতে বাধ্য হব।’

বৈঠকে রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন পুতিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিকায়ন করাই হবে এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ী—স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা—শক্তিশালী করাই হবে কর্মসূচির ‘পরম অগ্রাধিকার’। তার দাবি, এই সক্ষমতা রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

পুতিন জানান, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর ৯২ শতাংশ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।

এ ছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, চালকবিহীন ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন পুতিন। তার মতে, পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, নেভিগেশন, যোগাযোগ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সক্ষমতা বাড়বে।

একই সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেনা ও অস্ত্রের ওপর তাৎক্ষণিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বার্তা দিলেও অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছেন পুতিন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর