ডার্টফোর্ডে মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্ট শাখার উদ্যোগে সীরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সীরাত ও আদর্শকে কেন্দ্র করে মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্ট শাখার উদ্যোগে এক সীরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কেন্টের ডার্টফোর্ড ইসলামিক সেন্টারে আয়োজিত এ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্ট শাখার সভাপতি সাহাব উদ্দিন দুলাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রিজিওনাল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সরওয়ার কামাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ।
সীরাত মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন সাউথ ইংল্যান্ড মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ কামাল উদ্দিন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, বিআর সেক্রেটারি ফজলুর রহমান, তারবিয়া সেক্রেটারি মাওলানা মুরাদ হোসাইন, নাজমুল হকসহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সীরাত মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ এবং জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ পাথেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনকে মানুষের জন্য উত্তম আদর্শ বা ‘উসওয়ায়ে হাসানা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাই সীরাত অধ্যয়ন শুধু ইতিহাস জানার বিষয় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করে গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
তিনি মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর জীবনে নম্রতা, বিনয়, ক্ষমাশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের প্রতি সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতেন না এবং ঘরের কাজেও নিজে অংশগ্রহণ করতেন।
ব্যারিস্টার হামিদ হোসেন আজাদ বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবন অনুসরণের মাধ্যমে ইবাদত, লেনদেন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক আচরণে ভারসাম্য ও সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মহানবী (সা.)-এর ন্যায়বিচারের আদর্শ তুলে ধরে বলেন, তাঁর বিচারে ধনী-গরিব, আপন-পর কিংবা প্রভাবশালী-সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য ছিল না। বংশমর্যাদা, সামাজিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনো ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মুসলিমদের পাশাপাশি অমুসলিম ও ইহুদিদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি ন্যায় ও ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি মাখজুম গোত্রের এক প্রভাবশালী নারীর চুরির ঘটনা উল্লেখ করেন। ওই নারীর পক্ষে সুপারিশ করা হলে রাসুল (সা.) ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা প্রভাবকে প্রশ্রয় দেননি। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছিল কারণ তারা দুর্বলদের শাস্তি দিত এবং প্রভাবশালীদের অপরাধ ক্ষমা করে দিত। এ ঘটনা ইসলামে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্বের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) নিজের বিরুদ্ধেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ রেখেছিলেন। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি সাহাবিদের উদ্দেশে ঘোষণা করেছিলেন—কারও প্রতি তাঁর কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে কিংবা কারও সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে দুনিয়াতেই যেন তার প্রতিকার নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ন্যায়, জবাবদিহি ও মানুষের অধিকার রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন।
বক্তারা বলেন, ইসলামে ন্যায়পরায়ণতার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। হাদিসে ন্যায়পরায়ণ শাসক ও বিচারকদের জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ রহমত ও আরশের ছায়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর ন্যায় ও ইনসাফের আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ডার্টফোর্ড ছাড়াও কেন্ট ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি, সামাজিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্ব এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সীরাত মাহফিলের সমাপ্তি হয়।



















