img

যুক্তরাজ্যে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে সিলেট বিভাগের মানুষের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয়ে গঠিত হয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের ইউকে শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি। গত ৯ সেপ্টেম্বর  সন্ধায় লন্ডনে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় এ কমিনিটি ঘোষণা করা হয় । সভায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চ্যানেল এস-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি। সভা পরিচালনা করেন সলিসিটর এম ইয়াওর উদ্দিন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন টিভি উপস্থাপক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ। স্বাগত বক্তব্যে আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি সংগঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন ব্রিকলেন ট্রাস্টের সভাপতি ও কমিউনিটি নেতা শাহ মুনিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ,  কে এম আবু তাহের চৌধুরী প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি সিলেট বিভাগের মানুষের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম অবিই, বর্তমান চেয়ারম্যান অলি খান এমবিই, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা সিরাজুল হক সিরাজ, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারার অ্যাসোসিয়েশনের ডক্টর সানুর খান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, হিউম্যান রাইটস পিচ ফর বাংলাদেশ ইউকে শাখার চেয়ারম্যান সাংবাদিক রহমত আলী, সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ওসমান গণি, ছাতক এডুকেশন ট্রাস্টের উপদেষ্টা আশিকুর রহমান।

সভায় বক্তব্য রাখেন নিউহাম কাউন্সিলের সাবেক মেয়র রহিমা রহমান, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি মোস্তাক আলী বাবুল, রেডব্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান কোরেশী, কাউন্সিলর ও সাবেক মেয়র ফারুক আহমদ চৌধুরী, রেডব্রিজ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন, জকিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হেনা বেগম, শায়েস্তাগঞ্জ হবিগঞ্জ অর্গানাইজেশনের মহিলা সম্পাদক মুসা মনি, ওয়ার্ল্ড ফোরামের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার হাসিম আব্দুল্লাহ, ব্রিটিশ বাংলাদেশি টিচার অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার অধ্যাপক মিছবাহ কামাল, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মুকিত এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফ গাজী।

গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফারুক আহমদ, কমিউনিটি একটিবিষ্ট কয়ছর আহমাদ নবীগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট এর অন্যতম  ট্রাস্টি শেখ শামীম আহমদসহ অনেকে। বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি মোস্তাক আলী বাবুল,কমিউনিটি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শোয়েব আহমেদ, কমিউনিটি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  সাজ্জাদুর রহমান, কমিউনিটি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাব্বির আহমদ, ইমিগ্রেশন এডভাইজার  ও বাংলাদেশ প্রবাসী  কল্যাণ পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা আনিসুর রহমান, কবি আবু হোসেন, বিবিএমডি এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম, ডক্টর জাফরুল্লাহ ট্রাস্টের পরিচালক মোহাম্মদ  আব্দুল আউয়াল, বালাগঞ্জ ওসমানীনগর  এডুকেশন ট্রাস্ট এর সাবেক  সেক্রেটারি সৈয়দ তাজির উদ্দিন মান্নান, কমিউনিটি নেতা আব্দুল ছত্তার, খিদমা একাডেমীর জয়েন্ট সেক্রেটারি  রোকন চৌধুরী, কমিউনিটি একটিবিষ্ট আবুল হোসেন, বেতার বাংলা শ্রোতা ফোরামের  প্রেসিডেন্ট কবির আহমদ, বিবিএমডি এর সাবেক চেয়ারম্যান কাজী বাবর আহমদ, রেডব্রিজ  ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি শাহিন চৌধুরী, ব্যাংকার 

শাহ রহমান মিজান, ক্যাম্পেইন কমিটি ফর ফুললি ফাংশনেল  উসমানী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এর প্রেস এন্ড পাবলিসিটি সম্পাদক খালেদ মাসুদ রনি, খিদমা একাডেমীর ট্রেজারার  লৎফুর রহমান, বিবিএমডি এর ট্রেজারার সেলিম খান, বর্ণবাদ আন্দোলনের  নেতা মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ আব্দুস সাহিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।

সভায় শাহ মুনিমকে চেয়ারম্যান, সলিসিটর এম ইয়াওর উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাহবুবুর রহমান কোরেশীকে কোষাধ্যক্ষ করে যুক্তরাজ্য শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট বিভাগের মানুষের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি তুলে ধরতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বক্তারা বলেন, সিলেট বিভাগের মানুষের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি তুলে ধরবে সংগঠনটি। সিলেট বিভাগের উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগসহ মানুষের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।



কমিউনিটি এর আরও খবর

img

গ্রীষ্মের ছুটি রাঙাল এইচএএফ, কৃতজ্ঞতা জানাল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ০৮:২৭, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩১, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামার বা গ্রীষ্মের ছুটিতে তরুণদের জন্য হাজার হাজার ঘণ্টার ফ্রি ছুটিকালীন কর্মকাণ্ড ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনকারী চ্যারিটি সংস্থা, স্কুল ও কমিউনিটি গ্রুপ গুলোকে তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

সরকারের হলিডে অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড ফুড (এইচএএফ) প্রোগ্রামের অর্থায়নে পুরো জুলাই ও আগস্ট মাস বারাজুড়ে ৪০টিরও বেশি এইচএএফ ক্লাব পরিচালিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শত শত শিশু বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে।

ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিৎসু ও স্কেটবোর্ডিং থেকে শুরু করে রান্নার ক্লাস, নাট্য কর্মশালা এবং সৃজনশীল শিল্পকলা পর্যন্ত - এইচএএফ ক্লাবগুলো তরুণদের সক্রিয় থাকা ও নতুন দক্ষতা শেখার উত্তেজনাপূর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে গত ৯ সেপ্টেম্বর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করে টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল।

টাউন হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডেপুটি মেয়র এবং কাউন্সিলের বৈষম্য মোকাবেলা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “এইচএএফ প্রোগ্রাম শিশুদের স্কুল ছুটির সময়জুড়ে নতুন দক্ষতা শেখা, বন্ধুত্ব গড়া এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। আমাদের স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটি সেক্টরের অংশীদারদের অসাধারণ সহায়তা ছাড়া এসব কিছুই সম্ভব হতো না, যাঁদের নিষ্ঠা ও উদ্যম স্থানীয় পরিবারগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেয়।”

তিনি বলেন, “এই গ্রীষ্মে আমি বেশ কয়েকটি ক্লাব পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছি এবং সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি তরুণদের উৎসাহ এবং কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিষ্ঠা, যাঁরা স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করতে এত পরিশ্রম করেছেন।”

এবারই প্রথমবারের মতো এইচএএফ ক্লাব পরিচালনাকারী সংস্থা গুলোর একটি হলো দ্য পাওয়ার মুভমেন্ট, যা হোয়াইটচ্যাপেলের সেলবি কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত।

এই চ্যারিটি সংস্থা আত্মরক্ষা কৌশল, রক ক্লাইম্বিং, বক্সিং, হস্তশিল্প ও গয়না তৈরির মতো কর্মকাণ্ড আয়োজন করেছিল, এবং শিগগিরই দেখা যায় চাহিদা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

দ্য পাওয়ার মুভমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা সুলতানা বেগম বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে আত্মরক্ষা কৌশল, রক ক্লাইম্বিং, বক্সিং, হস্তশিল্প ও গয়না তৈরি সহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন তরুণের জন্য আসন রেখেছিলাম, কিন্তু মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক ও তরুণেরা দলের আকার বাড়ানোর অনুরোধ জানাতে শুরু করেন, যাতে তাঁদের সন্তান ও বন্ধুরাও অংশ নিতে পারে।”

তিনি বলেন, “এটি ছিল এক অত্যন্ত আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। গ্রীষ্মকালীন ক্লাবের শেষে আমরা দেখেছি, কিছু শিশু কান্নায় ভেঙে পড়েছিল, তারা চলে যেতে চায়নি এবং বলেছিল যে তারা দারুণ এক অভিজ্ঞতা পেয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ের এইচএএফ-এ রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধনের জন্য আমি অবশ্যই কমিউনিটি গ্রুপগুলোকে সুপারিশ করব।”

আসন্ন ক্রিসমাসে এইচএএফ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আরও বেশি স্কুল, চ্যারিটি সংস্থা ও কমিউনিটি সংগঠনকে আবেদন করতে উৎসাহিত করছে কাউন্সিল।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “পারিবারিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে প্রতিটি শিশুরই একটি আনন্দময় ও সমৃদ্ধ ছুটি কাটানোর সুযোগ প্রাপ্য। বিনামূল্যে কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তরুণদের জন্য সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে এইচএএফ তা সম্ভব করে তোলে।”

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, আরও বেশি সংগঠন এগিয়ে আসবে, যাতে আমরা একটি উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিসমাস এইচএএফ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারি।”

ক্রিসমাস এইচএএফ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য আবেদন আগামী ৪ অক্টোবর রোববার পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই কর্মসূচি চলবে ২০২৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।

আরও তথ্য ও আবেদন সংক্রান্ত নির্দেশনা পাওয়া যাবে www.towerhamlets.gov.uk/HAF ওয়েবসাইটে।

কমিউনিটি এর আরও খবর