img

লন্ডনে বিবিসিসিআই’র ঐতিহাসিক ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৮:৫৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লন্ডনে বিবিসিসিআই’র ঐতিহাসিক ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

লন্ডন, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI) যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি দুই দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

গত ৮ আগস্ট মঙ্গল চেম্বারের নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে লন্ডনের আইভি হিল হোটেলে আয়োজিত বিবিসিসিআই বিজনেস রিসেপশন ২০২৬ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার বিবিসিসিআই’র বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করবে।

বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, “ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ চেম্বারের কার্যক্রমকে প্রচলিত নেটওয়ার্কিংয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যবসার জন্য বাস্তব ও কার্যকর সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টারের লক্ষ্য হলো যোগাযোগকে বাণিজ্যে এবং আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে রূপান্তর করা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে, অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে এবং একসঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

ট্রেড সেন্টারটি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে বা নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিয়োগের সুযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সন্ধানে ব্যবসাগুলো যখন ক্রমবর্ধমানভাবে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্য–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী বলেন, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার একটি আধুনিক ও উচ্চাভিলাষী চেম্বার গড়ে তোলার প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বহুমুখী সুযোগ সৃষ্টি করবে। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিবিসিসিআই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিবিসিসিআই দুই দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বিবিসিসিআই মনে করে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি স্বীকৃত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ও অর্থবহ বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা বৃন্দ, ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন, আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি , সাইদুর রহমান রেনু, সাবেক প্রেসিডেন্ট বশির আহমেদ বিইএম, সাবেক প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার, নর্থ ওয়েস্ট রিজিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, লন্ডন রিজিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ডাইরেক্টর আতাহির খান, বিবিসিসিআই-এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাজ নজরুল খসরু, নির্বাচন কমিশনার ড. জাকির খান, নির্বাচন কমিশনার তারেক চৌধুরী, ক্লিনিক্যাল লেকচারার, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ড. মঞ্জুর শওকত. বিবিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ, বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খান, চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন , জনমত ও কারি লাইফ সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি তফজ্জুল মিয়া, হারোর সাবেক মেয়র সেলিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের পূর্বে দুটি  ডাইরেক্টর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনে জনাব আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ও জাহিরুল ইসলাম সিআইপি নির্বাচনে নতুন ডাইরেক্টর নির্বাচিত হন । 

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি



কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বর্ণাঢ‍্য আয়োজনে লন্ডনে কাকরদিয়া-তেরাতল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত :  ১২:৫৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:২৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুবিন চৌধুরী, লন্ডন:  সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কাকরদিয়া তেরাতল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। গত বুধবার বিকেলে পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী ও প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন করে কাকরদিয়া তেরাদল আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ, প্রিয় শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ছিল নানা সৃজনশীল আয়োজন। অনুষ্ঠানের দুই পর্বে বিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ট্রাস্টের সভাপতি নুরুল আমিন রাজুর সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম খান। বিভিন্ন পর্বে সহযোগিতা করেন সহ-সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, এডুকেশন সেক্রেটারি মো. আবু তাহের, জয়েন্ট ট্রেজারার অহিদুর রহমান চৌধুরী এবং স্পোর্টস সেক্রেটারি মখলেসুর রহমান ছোটন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নুরুল হুসেন কাদির, ব্যারিস্টার মাসুদ চৌধুরী, রিয়াজ উদ্দিন কামাল, আহবাব আলম চৌধুরী, সাব্বির খান, রশিদ আহমেদ রাশেদ, সাইফুর রহমান, কাউন্সিলর ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, ফয়জুল বারী, আবু সিনহা হীরণ, শহীদুজ্জামান, ব্যারিস্টার আব্দুল হাদী খান ও মনসুর খান প্রমুখ।

বক্তারা বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, শিক্ষা বিস্তারে এর অবদান এবং প্রবাস থেকে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকেও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী পাঁচ বছর পর বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান আরও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল আয়োজন

সন্ধ্যা ৬টায় নতুন প্রজন্মের এডাম চৌধুরীর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং ইব্রাহীম চৌধুরীর ইংরেজি অনুবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

মিসেস সাজনা খানমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশি-ব্রিটিশ শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে তিনটি ক্যাটাগরিতে সৃজনশীল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সাধারণ জ্ঞানের কুইজ প্রতিযোগিতা, মিউজিক্যাল শো এবং শিশু-কিশোরদের নিয়ে বিশিষ্ট ম্যাজিশিয়ান সায়মন পালমারের বিশেষ ম্যাজিক শো।

অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনা করেন শিক্ষিকা আনিশা আহমেদ, শিক্ষক মাজেদুল ইসলাম, শিক্ষিকা মারিয়া চৌধুরী ও শিক্ষিকা নুরুন নেহার চৌধুরী।

এছাড়া বিশেষ আয়োজন হিসেবে ছিল হেনা পেইন্টিং। এ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন আর্টিস্ট ইসরাহ চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন আমীনা তুকী, নাসিহা আহমেদ, মারজানা আক্তার, তাহমিনা আক্তার তামান্না ও মারজানা বেগম ইমা।

ফেস পেইন্টিং টিমের নেতৃত্বে ছিলেন আহমেদ চৌধুরী, সারাহ চৌধুরী ও জান্না ইয়াসমিন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান প্রজন্ম ও বাংলাদেশি-ব্রিটিশ শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক মিলন ও সৃজনশীল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের ৪৫ বছরের গৌরবময় পথচলাকে উদযাপন করেন অংশগ্রহণকারীরা।


কমিউনিটি এর আরও খবর