img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রেস ব্রিফিং: ১৩ ও ২৬ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারীদের পৃথক চ্যারিটি রানে অংশগ্রহণের আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৯:৫৮, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৫, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রেস ব্রিফিং: ১৩ ও ২৬ সেপ্টেম্বর পুরুষ ও নারীদের পৃথক চ্যারিটি রানে অংশগ্রহণের আহ্বান

লন্ডন, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ইস্ট লন্ডন মসজিদের সামারকালিন সবেচেয়ে বড় আয়োজন মুসলিম চ্যারিটি রান এই বছর ১৩ বছর উদযাপন করছে । আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় পূর্ব লন্ডনের ভিক্টোরিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত হবে ১৩তম চ্যারিটি রান । চ্যারিটি রান সফল করতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে । প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ নাম রেজিস্ট্রেশন করছেন। এ বছর নতুন সংযোজন মহিলাদের জন্য চ্যারিটি রান। ২৬শে সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় মাইলএন্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েম্যান মুসলিম চ্যারিটি রান।

এ উপলক্ষে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে ইস্ট লন্ডন মসজিদে আয়োজন করা হয় এক প্রেস ব্রিফিং। এতে বক্তব্য রাখেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মুর্শেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমদ,মারিয়াম সেন্টারের ম্যানেজার সুফিয়া আলম ও ফান্ডরেইজিং ম্যানেজার তজম্মুল আলী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার কমিউনিটির ছেলে, বুড়ো, যুবা সকল বয়সের পুরুষকে সপরিবারে সকাল ১০টার মধ্যে ভিক্টোরিয়া পার্কে সমবেত হওয়ার আহবান জানানো হয়।

মসজিদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মুর্শেদ রোববার সকালে সকলকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পার্কে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন এটা শুধু চ্যারিটি রানই নয়, এটি কমিউনিটির একটি বড় উৎসব। তাই আমরা চাই সকলে পরিবার পরিজন নিয়ে পার্কে আসেন এবং আয়োজনকে উতসবমুখর করে তুলেন। তিনি বলেন, গত বছর আমরা চ্যারিটি সংগঠনগুলো মুসলিম চ্যারিটি রানের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করে। আমরা আশা করছি এ বছর তার চেয়ে বেশি ফান্ডেরেইজ করতে পারবো।

মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদ বলেন আমরা আশা করছি ১২ অক্টোবর কমিউনিটির মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্কে সমবেত হবেন এবং উৎসবে মেতে ওঠবেন। তিনি বলেন, এই রান শুধু একটি ফান নয়, এতে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যকর জীবন-যাবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠতে পারছেন । আমাদের কমিউনিটিতে মানুষ বিভিন্ন শারিরীক জটিলতায় ভুগছেন। এই চ্যারিটি রান হতে পারে নিয়মিত শরীরচর্চায় অভ্যস্থ হয়ে নিজেকে সুস্থ রাখার একটি মাধ্যম।

সুফিয়া আলম বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীদের নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাউথ এশিয়ান নারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নানাধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এবার প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য ৫ কিলোমিটার চ্যারিটি রান আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে এই চ্যারিটি রান অনুষ্ঠিত হবে। যারা পুরো ৫ কিলোমিটার দৌড়াতে পারবেন না, তাদের জন্য আড়াই কিলোমিটার দৌড়ানোরও সুযোগ থাকবে। ১২ বছরের নিচের শিশুদের থেকে শুরু করে ৬৬ বছরের বেশি বয়সী নারীরাও এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আগ্রহী নারীদের দ্রুত নাম নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই আরও বেশি নারী এই আয়োজনে অংশ নিন, স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের প্রতি সচেতন হোন এবং একই সঙ্গে ভালো কাজের জন্য তহবিল সংগ্রহে যুক্ত হন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সবাইকে সপরিবারে মাইল এন্ড স্টেডিয়ামে এসে এই আয়োজনকে সফল করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ফান্ডরেইজিং ম্যানেজার তজম্মুল আলী চ্যারিটি রানে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের যথাশীঘ্র নাম রেজিস্ট্রেশনের আহবান জানান । তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সকলকে ভিক্টোরিয়া পার্কে জড়ো হওয়ার আহবান জানান যাতে মূল দৌড় শুরু হওয়ার আগে ওয়ার্ম-আপ সেশনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তিনি জানান, এ বছর প্রায় ৩০টি চ্যারিটি সংগঠন অংশগ্রহণ করছে । আশা করা হচ্ছে দেড় হাজারের মতো মানুষ দৌড়ে অংশড়গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন আগ্রহীরা মাত্র ১০ পাউণ্ড ফি পরিশোধ করে যে কোনো চ্যারিটির পক্ষে নিজেদের নাম রেজিস্ট্রেশন করে ফান্ডরেইজ করতে পারবেন । এই ১০ পাউণ্ডের বিনিময়ে তাঁকে দেওয়া হবে মুসলিম চ্যারিটি রানের ব্র্যান্ডেড টি-শার্ট, মেডেল, বিজয়ীদের ট্রফি, টপ ফান্ডরেইজার অ্যাওয়ার্ড ও অন্যান্য লজিস্টিক সেবা । চ্যারিটি রানে শিশুদের জন্য থাকবে বাউন্সি ক্যাসেল, গ্ল্যাডিয়েটর গেইম, ফুটবল শুটিংসহ নানা ধরনের স্টল।

উল্লেখ্য, এবারের চ্যারিটি রানে পার্টনার ও স্পনসর হিসেবে রয়েছে আমানাহফাই, হিউম্যান আপিল, সুন্নাহ মাস্ক ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল এহসান রিলিফ, মুসলিম হেল্প ইউকে, সালাম চ্যারিটি, আগোশ ইউকে, হিউম্যান রিলিফ ফাউন্ডেশন, মুসলিম চ্যারিটি,  হেল্প ইয়াতীম, মুসলিম এইড, কাউন্সিল অব মস্ক অ্যাপ, ইসলামিক রিলিফ, রিড ফাউন্ডেশন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, সাবা রিলিফ ও ইফ চ্যারিটি।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

‘মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত’ এর উদ্যোগে লন্ডনে বিরাট সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৬, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লন্ডনে উলামায়ে কেরামের সর্বদলীয় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ফোর্ড স্কয়ার মসজিদ মিলনায়তনে এক ঐতিহাসিক খতমে নবুওত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেল সাড়ে ছয় ঘটিকা থেকে নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও সুধী বৃন্দ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ভারত থেকে আগত হযরত মাদানী পরিবারের সূর্যসন্তান, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা সৈয়দ আশহাদ রাশিদী। মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রারম্ভিক ও স্বাগত বক্তব্য দেন মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত লন্ডন এর জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি আবদুল মুনতাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা উপস্থাপন করেন ব্রাডফোর্ড থেকে আগত, ইংলিশ স্পিকার মাওলানা মুফতি সাইফুদ্দীন নেসার, হেফাজতে ইসলাম ইউকের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান মনোহরপূরী, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ, ডক্টর মাওলানা শুয়াইব আহমদ প্রমুখ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ আলী,মাওলানা শাহনূর মিয়া, মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা হাফিজ মাসূম আহমদ সহ প্রচুর সংখ্যক উলামায়ে কেরাম, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধী জন।

সভায় বক্তাগন তাঁদের দলীল ভিত্তিক আলোচনায় বলেন, ইতিহাসের পাতায় তাকালে আমরা দেখতে পাই, যুগে যুগে যারাই নবুওয়তের দাবিদার হয়েছে, তারা নিজেদেরকে মুসলমানরূপে প্রকাশ করে স্বীয় দাবি প্রচারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদি এ ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনাপ্রাপ্ত হওয়ায় যখনই নবুওয়তের কোনো ভন্ড দাবিদার আত্মপ্রকাশ করেছে, তাকে কাফের সাব্যস্ত করেছে এবং ইসলামের গন্ডি থেকে বহিষ্কার করেছে।

নববি যুগ থেকে যখনই কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে বা ইসলামি আদালতে এ ধরনের মামলা উপস্থিত হয়েছে, তখনই বিচারকগণ তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রকার দলিল-প্রমাণ তলব না করে তার ব্যাপারে কাফের হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন- আসওয়াদ আনাসি, তুলাইহা, সাজাহ, হারেস। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাদের কুফুরির ফয়সালা দেওয়ার পূর্বে কখনও নবুওয়তের দাবির ব্যাপারে তাদের থেকে কোনো প্রকার দলিলও তলব করেননি।

যখনই কারো পক্ষ থেকে নবুওয়তের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখনই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে কাফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, খতমে নবুওয়তের আকিদা এতোটাই স্পষ্ট ও সর্বজন স্বীকৃত, এর খেলাফ যুক্তি-তর্ক সব প্রতারণার শামিল। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) উম্মতকে পূর্বেই অবগত করে গেছেন। যদি এ ধরনের সামান্য অবকাশ দেওয়া হয়, তাহলে তাওহিদ-আখেরাতসহ ইসলামের কোনো আকিদাই আর নিরাপদ থাকবে না। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকেও কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু হওয়ার ঘোষণা অবিলম্বে দেয়া উচিত। সভায় বক্তাগন নতুন জেনারেশনের মধ্যে নবীজীর খতমে নবুওতের সর্ববাদী সম্মত আকিদা সম্পর্কে  সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত লন্ডন এর উদ্যোগে আগামী দিনে আরো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পরিশেষে প্রধান অতিথির দোয়ার মাধ্যমে সভার পরিসমাপ্তি হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর